প্রশ্ন ফাঁস: হাতেনাতে গ্রেপ্তার চার শিক্ষক

সেবা ডেস্ক:  প্রশ্ন ফাঁসে শিক্ষকদের একটি অংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগের মধ্যেই ফরিদপুরে প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন চারজন শিক্ষক।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় জর্জ একাডেমি কেন্দ্রে এসএসসির ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরুর আগে এই ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার শিক্ষকরা হলেন, ব্লাবন ঘোষ, রইচ উদ্দিন, সালমান মাহমুদ এবং শাহিন ফকির।ওই কেন্দ্রে হল সচিব ও জর্জ একাডেমির প্রধান শিক্ষক এম এ আজিজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর পরপরই চারজন শিক্ষক পরীক্ষার কক্ষে না গিয়ে শিক্ষকদের রুমে বসে প্রশ্ন কেন্দ্রের বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি 
নিয়েছিলেন। এ সময় কেন্দ্র পরিদর্শক সুদীপ বিশ্বাস বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে দুটি প্রশ্নের কপি ও হাতে লেখা প্রশ্নের উত্তরপত্র পাওয়া যায়।’
গত কয়েক বছর ধরেই প্রশ্ন ফাঁস একটি আলোচিত বিষয়। নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরও সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না।
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফেসবুকে এসেছে পরীক্ষা শুরুর ২৪ মিনিট আগে। ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন এসেছে পরীক্ষা শুরুর পৌনে এক ঘণ্টা আগে।
আজ সামাজিক মাধ্যম হোয়াটস অ্যাপে ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন এসেছে পরীক্ষা শুরুর দুই ঘণ্টা আগে। প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে রবিবারই একটি তদন্ত কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
 পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসকারীদেরকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।সামাজিক মাধ্যমগুলোতে যারা প্রশ্ন ফাঁস করছে তারা এর বিনিময়ে কোনো টাকাই চাইছে না বা চাইলেও সেটা ২০০, ৩০০ টাকার মতো নগণ্য পরিমাণে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে বাণিজ্যির উদ্দেশ্য নেই এর পেছনে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, সরকারের বদনাম করতে এই কাজটি করছে একটি চক্র। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ জড়িত বলেও অভিযোগ তার।
ফরিদপুরে আটক চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আরা পলি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে চার শিক্ষককে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলার পরেই তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

,