সাপের ফঁনার মতো ফুঁসছে বিএনপির তৃণমূল

সাপের ফঁনার মতো ফুঁসছে বিএনপির তৃণমূল
সেবা ডেস্ক: হতাশা যেন কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে। শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কেউই এর বাহিরে নেই।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হতাশার পরিধি বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে দলের শোচনীয় পরিস্থিতিতে হতাশ হলেও কেন্দ্রীয় নেতারা ‘টু পাইস’ কামিয়ে নিতে পেরে কিছুটা সন্তুষ্ট। কিন্তু তৃনমূলের অবস্থা একেবারেই লেজে-গোবরে। দলের একের পর এক কেলেঙ্কারী আর নীতিহীন অবস্থান তাদেরকে নিয়ে গিয়েছে হতাশার চূড়ান্ত পর্যায়ে। অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে, জনগণ গণহারে তাদের টিপ্পনী কাটতে শুরু করেছে।

দলের লজ্জাজনক কর্মকাণ্ডের সূচনা অবশ্য জন্মলগ্ন থেকেই। কলঙ্কের ঝুলিতে এবার নতুন করে যোগ হয়েছে ‘জামায়াতকে ধানের শীষ প্রদান’ ইস্যু।

এর ফলে নতুন করে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কী করে স্বাধীনতাবিরোধী একটি দলকে নির্বাচনে নিজেদের প্রতীক দিয়ে দিতে পারে এ নিয়ে খোদ দলের তৃণমূলে বইতে শুরু করেছে তুমুল সমালোচনার ঝড়। তবে দলীয় হাইকমান্ডের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কায় বিএনপির কোন নেতাকর্মী এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছে না।
উল্লেখ্য, সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন করতে গিয়ে আগেই বড় ধরণের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে জোট হবে না বলে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও যুক্তফ্রন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন। 

অবশ্য বিএনপি কৌশলে ড. কামাল হোসেনকে পটিয়ে রাজি করাতে পারলেও অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির সঙ্গে জোট না করে দূরে সরে যান। তবে ড. কামালকে বিএনপি কথা দিয়েছিল জামায়াত ২০ দলীয় জোটে বিএনপির সঙ্গে থাকলেও বৃহত্তর জোটের সঙ্গে নির্বাচন না করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্য শরিক দলগুলোর মতো জামায়াতকেও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়। এতে এখন ড. কামাল হোসেনেরও বেঁকে বসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে জামায়াতের ২৫ নেতাকে ২৫টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়। অবশ্য এই ২৫টি ছাড়াও আরও অন্তত ২০টি আসনে জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়। 

এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তখন যুদ্ধাপরাধী দুই জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মন্ত্রিত্ব দেয় বিএনপি। আর এ সুযোগে দুই যুদ্ধাপরাধী তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে মহা দাপটে সর্বত্র নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেন। এ নিয়ে চরম সমালোচনার সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করার এক বছর পর জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে টানা ৯২ দিন সহিংস আন্দোলন করতে গিয়ে দেশ-বিদেশে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। এক পর্যায়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের কাছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতকে এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেয়। 

এ পরিস্থিতিতে বিএনপিপন্থী কিছু বুদ্ধিজীবীও জামায়াতকে দূরে রেখে চলতে পরামর্শ দেয়। এরপর গোপনে সখ্যতা রেখে প্রকাশ্যে কৌশলে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার অভিনয় করে বিএনপি। আর তা করতে গিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আগের মতো জামায়াত নেতাদের পাশে বসানো থেকে বিরত থাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তবে জামায়াত এ নিয়ে বিএনপির প্রতি নাখোশ হয় এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়।

⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

, , ,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে