SebaBanner

আজ*

হোম
দেশের জন-সাধারণের ভাবনায় বাংলাদেশ পুলিশ

দেশের জন-সাধারণের ভাবনায় বাংলাদেশ পুলিশ

সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পতাকা বহন করে বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশ এর ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময় হলো ১৯৭১ সাল। ২৫ শে মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানিরা যখন অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র নিরীহ বাঙালীর উপর ঝাঁপিয়ে পরে নির্বিচারে হত্যা শুরু করে তখন সর্বপ্রথম আমাদের পুলিশবাহিনী সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে।

এই সশস্ত্র প্রতিরোধটিই বাঙালিদের কাছে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরুর বার্তা পৌঁছে দেয়।পরবর্তীকালে পুলিশের এই সদস্যরা ৯ মাসজুড়ে দেশব্যাপী গেরিলাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, বেশ কয়েকজন এসপিসহ প্রায় সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্য জীবনদান করে শহীদ হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর এই বাহিনীর উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় পুলিশের ঝুঁকি ভাতা, রেশন, পুলিশ হাসপাতালসহ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা সরকার পুলিশকে আধুনিকায়নে বিভিন্ন ধরণের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আধুনিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ সহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পুলিশকে আধুনিকায়নের উদ্যেশ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমাদের দেশের সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ, মাদকসহ সামগ্রিক অপরাধ নির্মূলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধ সহ দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ২০১১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করে বাংলাদেশ পুলিশ।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের সবচাইতে বড় সফলতা পরিলক্ষিত হয়েছে আমাদের দেশে সৃষ্ট জঙ্গি সমস্যা নির্মূলে। হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, কল্যাণপুর, নারায়ণগঞ্জ, পল্লবী, আজিমপুর ও গাজীপুরে জঙ্গি দমনে পুলিশের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা দেশবাসীর মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই সব জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশের অফিসার সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

জঙ্গি ও অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সমর্থনে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়া এই বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার নিদর্শন। জঙ্গি দমনে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র্যাব, সিটিটিসির ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। জঙ্গি দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পুলিশকে দেশবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।

জাতীয় অঙ্গন পেরিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সফলতা এবং দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে নিয়ে আসছে। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ শান্তির পায়রা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে ১৯৮৯ সাল থেকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষা তথা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে পুলিশ বাহিনীর ২০ সদস্যকে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য কোনো এক অজানা কারণে বাংলাদেশ পুলিশের অগণিত মহৎ কাজের উদাহরণ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুটিকয়েক নীতিভ্রষ্ট পুলিশ সদস্যের নেতিবাচক কর্মকান্ড ছড়িয়ে পড়ার কারণে পুলিশের প্রতি অনেকে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে নানা ধরণের সমালোচনা করে। অথচ তারা ভুলে যায় অল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্যের নেতিবাচক কর্মকান্ডের জন্য মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে জঙ্গি দমন করতে গিয়ে পুলিশের আত্নত্যাগকে কোনো ভাবেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি সহ পুলিশ বাহিনীকে আরো আধুনিকায়ন করতে বিভিন্ন ধরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



,