জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বর্তমান সরকারের সাফল্য অতূলনীয়

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বর্তমান সরকারের সাফল্য অতূলনীয়

সেবা ডেস্ক: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ সাফল্যের অনেক সূচকে এগিয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসৃত পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।

গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে-পরে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাস দমন করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছে।

তারপর ২০১৬ সালের ১ জুলাই জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যদের দ্বারা হলি আর্টিজানের নির্মম হত্যাকাণ্ড বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিলেও সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দেশের মধ্য থেকে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের শেকড় উৎপাটন করা সম্ভব হয়েছে।

একই বছর দেশের কয়েকটি স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার অবসানকল্পে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়। সরকারের সদিচ্ছা দেশের মানুষকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থাশীল করে তুলেছে। তৈরি হয়েছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি।

মহা-জোট সরকারের আমলে ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধধর্মীয় পুরোহিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, ভিন্নমতের ইসলামি ভাবধারার অনুসারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও বিদেশিদের ওপর একের পর এক চাপাতি, গুলি ও ধারালো অস্ত্রের হামলা বর্তমান সরকার তথা শেখ হাসিনার জঙ্গিবাদ দমনের অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছিলো।

এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মহল। প্রশ্নবিদ্ধ হয় বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার খুনের পর থেকে টাঙ্গাইলে হিন্দু দর্জি নিখিল জোয়ারদার হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ৩৭টি হামলার মধ্যে ২৫টি জেএমবি, আটটি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি), আনসার আল-ইসলাম, আনসারল্লাহ বাংলা টিম, হরকাতুল-জিহাদ-আল-ইসলাম (হুজি-বি), হিজবুত তাহরির বাংলাদেশ এবং নতুন আবির্ভূত আল মুজাহিদ প্রভৃতি এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

এসব হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটিত করতে সফল হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে জঙ্গিদের শিকড় উপড়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে লক্ষণীয়ভাবে দেখা যায়, বরাবরই মৌলবাদী গোষ্ঠী মাথা তুলে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়।

অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জঙ্গিরা তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসীন হয়ে গত নয় বছরে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর দিকে অগ্রসর হয়েছে।

এ সময় সরকার ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং বামপন্থী সর্বহারাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। কিন্তু ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরু হলে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির দেশে অরাজকতা ও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে।

অন্যদিকে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুকেন্দ্রিক আন্দোলনের সুযোগে জঙ্গিদের তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১২ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল হলে বিএনপি দেশব্যাপী হরতাল-অবরোধের ডাক দেয়।

এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদিকে সন্ত্রাস নির্মূলে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ‘বন্দিবিনিময় চুক্তি’ করে বর্তমান সরকার। অপরদিকে মার্কিন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করা হয়েছে।

র‌্যাবের মিডিয়া উইং থেকে জানা গেছে, আইন, বিচার ও নিবিড় নজরদারির জন্য বাংলাদেশে জঙ্গিরা সুবিধা করতে পারছে না।

বোমা হামলা ও অন্যান্য ধর্মীয় উগ্রপনার কারণে মামলার বিচারে ২০১২-১৩ সালে ৫৮ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ২৬ জনের যাবজ্জীবন এবং ১০ জনের ফাঁসির দণ্ডাদেশ হয়েছে। মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়ার দ্রুততা জঙ্গিবাদ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

মূলত শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিকতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত জঙ্গিদের কার্যক্রম নজরদারি করা হচ্ছে। তারা যাতে সংগঠিত হতে না পারে সে জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। একই সঙ্গে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এ দেশের। শেখ হাসিনার সরকার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বেশি সচেষ্ট।

ইতোমধ্যে এ দেশের সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সন্ত্রাস সম্পর্কে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী হিসেবে অভিনন্দিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


,
themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে