নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা রৌমারী ব্রহ্মপুত্র পারের মানুষ

নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা রৌমারী ব্রহ্মপুত্র পারের মানুষ
শফিকুল ইসলাম, রৌমারী প্রতিনিধি: যুগের পর যুগ রৌমারী ব্রহ্মপুত্র পূর্ব তীরের মানুষ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বারবার ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙ্গন  প্রতিরোধে পরিদর্শনে আশ্বাসে নাবিশ্বাস রৌমারী উপজেলার বন্দবের. চরশৌলমারী ও যাদুরচর ইউনিয়নে ঘরবাড়ী ফসলী জমি গাছপালা বিলিন হওয়া ব্রহ্মপুত্র তীরের মানুষজন। গত রবিবার হতে ৩জুলাই বুধবার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ক্ষর¯্রােতে ভাঙ্গনের তান্ডব লক্ষ্য করা যায় ওই এলাকায়। এ সময় নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে ভিটেমাটি, সহায়সম্বল, গাছপালা, পাট, আখ ও ভবিষ্যতস্বপ্ন। নদের তান্ডব ভাঙ্গন লীলায় এলাকাবাসী আতংঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।

বুধবার (০৩জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের বলদমারা, খেদাইমারী গ্রামে গেলে দেখা যায়, ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে মানুষের আহাজারি। ভাঙন এলাকা বলদমারা, দক্ষিন খেদাইমারী গ্রামের ফুলমালা, জুলহাস আলী, আব্দুল কাদের, জাবের আলী, আশরাফ আলী, আব্দুল আলিম, আমির হামজাসহ অনেকে জানান, গত রবিবার ভোররাত হতে উজান থেকে আসা ভারতীয় পাহাড়ী ঘোলাটে লাল পানি নেমে আসায় আচমকা ব্রহ্মপুত্রে ভাঙন দেখা দেয়। অনেকেই ফসলটুকু কেটে নেওয়ারোও সময়টুকুও পাইতেছিনা। এরমধ্যেও ভাঙ্গনে ভেসে গেছে ধান, পাট, কাউন, চিনা, তিল ও তিশিসহ নানা জাতের ফসল।’

অপরদিকে রৌমারী ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩ টি ইউনিয়ন চরশৌলমারী, বন্দবেড় ও যাদুরচর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র ভাঙ্গনের কবলে। এতে ঘুঘুমারী, ফুলকারচর, খেওয়ারচর, সাহেবের আলগা, খেরুয়ারচর, বাইটকামারী, বাইশপাড়া, বলদমারা, ফলুয়ারচর, পালেরচর, কান্দাপাড়া, দিগলাপাড়া, ধনারচর চরের গ্রাম, চরপাখিউড়াতে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র ভাঙ্গন রোধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন (এমপি), রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্যাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্বীপঙ্কর রায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরসহ অনেকেই গত ২২জুন সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে পরিদর্শন করেন। এমপি জাকির হোসেন সরেজমিন পরিদর্শন কালে বলেন, ভাঙ্গন প্রতিরোধে একনেকে ৪শত ৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে। যত তারাতারি সম্ভব ভাঙ্গন রোধ করা হবে। পরিদর্শন কালিন অত্র এলাকার নদী ভাঙ্গনে হুমকির শিকারে নারী পুরুষ তড়িৎ গতিতে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কল্পে আমাগো বাচান বলে পদক্ষেপ নেয়ার দাবী তুলে ধরেন।

অপরদিকে রৌমারী উপজেলার পূর্বপাশে সীমান্ত ঘেষা জিঞ্জিরাম ও ভারত থেনে নেমে আসা দরনী নদীর ঢলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বারবান্দা, বকবান্দা ও চুলিয়ারচরের ১৪টি পরিবারের ভিটা মাটি নদী গর্ভে বিলিন  হয়ে গেছে। তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত ভাবে অবহিত করেছেন। এরির্পোট লেখা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলি সরকারী ভাবে কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please