করোনায় বিপর্যস্ত রপ্তানি পুনরুদ্ধার; পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন উদ্যোক্তারা

করোনায় বিপর্যস্ত রপ্তানি পুনরুদ্ধার; পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন উদ্যোক্তারা

সেবা ডেস্ক: প্রাণঘাতি ভাইরানা করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত বাংলাদেশের রপ্তানি পুনরুদ্ধারে সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ঠিকমতো চালাতে উদ্যোক্তাদের সরকার আর্থিক ও নীতি সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, উদ্যোক্তারা যেতে চান নতুন পণ্য ও বিপণন ব্যবস্থায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যায়ে জোরেশোরে নেমে পড়েছেন সবাই।

রপ্তানি উন্নয়নে প্রধানত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর উদ্দীন সমকালকে বলেন, রপ্তানি পুনরুদ্ধারে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো। বিশেষ করে হালকা প্রকৌশল, চামড়া, আইসিটি ও প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব খাতে যে নগদ সহায়তা রয়েছে এর বাইরে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া করোনার কারণে যেসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে সেগুলোর রপ্তানি বাড়াতে সহযোগিতা করা হবে।

বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উইংয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহে একদিন বৈঠক করা হচ্ছে। সব দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসগুলোর কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের সংশ্নিষ্ট দেশে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা, রপ্তানির সুযোগ এবং রপ্তানি বাড়াতে করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাণিজ্য বাড়াতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ৪২ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এগুলোকে কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ১০ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রণালয়ের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকার নীতি সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। রয়েছে কিছু আর্থিক সহায়তাও। আরও কিছু নীতি সহায়তা পর্যালোচনা চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা বাড়ানো, ২ শতাংশ সুদে রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের আরও তিন মাসের বেতন পরিশোধের সুবিধা, এসএমই খাতের ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে ৫ হাজার কোটি টাকার গ্যারান্টি তহবিল করা হচ্ছে। সরকার চাচ্ছে রপ্তানিকারকরা যাতে সস্তায় তাদের পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে পারেন এবং বেশি হারে মূল্য সংযোজন করতে পারেন। এ ছাড়া সরকার নতুন পণ্য ও বাজারে ব্যবসায়ীরা যাতে সহজে প্রবেশ করতে পারেন সে চেষ্টা করছে। আমেরিকা ও কানাডার বাজারের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। চীনের ৯৭ শতাংশ শুল্ক্ক সুবিধাও নিতে চায় সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বস্ত্রের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ নতুন এ চাহিদার সুযোগ নেবে। এজন্য মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা পোশাকের মান পরীক্ষার জন্য সরকার দেশে ল্যাব স্থাপন করবে। এটি হলে উদ্যোক্তারা কম সময়ে ও খরচে এ বিষয়ে সনদ পাবেন।

দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে। এ খাতের রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, তারা উদ্যোক্তাদের 'ম্যান মেইড' ফাইবারের পণ্য তৈরির পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি মেডিকেল টেক্সটাইল বা স্বাস্থ্য সুরক্ষার পোশাক-পরিচ্ছদের উৎপাদন বাড়ানো ও বাজার ধরার কার্যক্রম বাড়াতে চেষ্টা চলছে। এজন্য কিছু প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্ডার সংগ্রহসহ অন্যান্য কার্যক্রম অনলাইনে করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে পণ্য বিক্রির বিষয়েও ভাবছেন সংগঠনটির নেতারা।

বিজিএমইএর পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম বলেন, রপ্তানি পুনরুজ্জীবনে সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে আছে। উদ্যোক্তারাও কিছু কাজ করছেন। তবে আরও সরকারি নীতি সহায়তা প্রয়োজন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলে সরকার কিছুটা ছাড় দিলে এ সময়ে প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে। এদিকে উদ্যোক্তাদের উচিত হবে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। এ বিষয়ে বিজিএমইএ থেকে সদস্যদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক কূটনীতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, রপ্তানি চাইলেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন কিছু পণ্য ও সেবার চাহিদা হবে। সেই চাহিদা কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য ব্যাপক সংস্কার দরকার।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট চার হাজার ৮০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে পণ্য থেকে চার হাজার ১০০ কোটি এবং সেবা থেকে ৭০০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রকৃত রপ্তানির তুলনায় এবারের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৮০০ কোটি ডলার বা ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে পণ্য থেকে তিন হাজার ৩৬৭ কোটি ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৬৩৯ কোটি ডলার আয় হয়।

ভিডিও নিউজ


-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন


,

0 comments

Comments Please

আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য সেবা হট নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সেবা হট নিউজ : সত্য প্রকাশে আপোষহীন