রৌমারীতে ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত হতাশায় কৃষক

রৌমারীতে ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত হতাশায় কৃষক


শফিকুল ইসলাম: কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় নেক ব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর বোরো ধান ক্ষেত, হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা।

মঙ্গলবার (৪মে) দুপুরের দিকে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা বাইটকামারী, নলবাড়ি, টাপুরচর, তিনতেলী, খনজনমারা,শৌলমারী, বড়াইকান্দি, চেংটাপাড়া, সুতিরপাড়, বামনেরচর, চরবামুনেরচর, ইজলামারী, ঝগড়ারচর, হাপাতিকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধানের মাঠে দেখা যায়, উচ্চফলনশীল ২৮, ৮১ ও ৮২ জাতের ধান ক্ষেত নেক ব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর ফসলের মাঠ। বন্যার পর এবার ব্লাস্টার রোগে ফসল না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন রৌমারী উপজেলার কৃষকরা। বোরো ধান রোপনের শুরুতে ভালো ফসল দেখে কৃষক খুশি হলেও এখন কৃষকের চোখে মুখে হতাশার ছাপ দেখা দিয়েছে। সরকারী ভাবে আর্থিক সহযোগিতা চায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা।  

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা য়ায়, এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল, হাইব্রিড ২৮,৮১,৮২, ৫১,৫২,৫৬ জাতের দশ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বোরো ধানের জমি নেক ব্লাস্টার রোগে আক্রমন হওয়ায় লক্ষমাত্র অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

নলবাড়ি গ্রামের রুস্তম আলী জানান, ১ একর ২৮ জমিতে ২৮ জাতের বোরো ধান আবাদ করেছি। আমাদের ফসল দিয়ে এক বছর সংসার চলে । ধানের শীষ পচা রোগে আক্রান্ত হয়ে ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।
হাবিবুর রহমান বলেন,  তিন একর ২৮ শতাংশ জমিতে ২৮ জাতের বোরো ধান আবাদ করেছি। আমাদের ফসল দিয়ে এক বছর সংসার চলে । ধানের শীষ পচা রোগে আক্রান্ত হয়ে ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। 
উপজেলার টাপুরচর গ্রামের কাজিউর রহমান বলেন, আমি দুই একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম বøাস্টার রোগে আক্রমন হওয়ায় কাঁচা ধান কেটে গরু খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছি। মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা আমাদের কাছে আসেনা।

বাইটকামারী গ্রামের ফরিজুল ইসলাম, বলেন, আমারা ক্ষৃদ্র কৃষক বোরো আবাদ করে সারা বছর ঘরের ধানের ভাত খাই। এবার ধানের র্শীষ মরা রোগে সব শেষ হয়েগেছে। কুষি অফিসের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে আসে নাই, সরকার বেতন দেয়, ওরা ঘরে বসে বউ পলাপান নিয়া সুখে থাকে, কৃষকের খবর নাই। আমরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরর্ণ চাই।

চরবামুনেরচর গ্রামের আবুল হাশেম জানান, সারা উপজেলায় বোরো ধানে ব্লাস্টার রোগে আক্রান্ত হলেও কৃষি বিভাগ থেকে কোনো উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠে আসে নাই। তাদের উদাসীনতার কারনে কৃষকদের সর্বনাশ হয়েছে।

বাগুয়ারচর গ্রামের ছাইদুর রহমান বলেন, দেড় বিঘা জায়গা ধানের আবাধ করছি, বাইল (শীষ) পচা রোগের জন্য ১২শত টাকা দিয়া বাজারে সারের দোকান থেকে ঔষধ কিনে দুই বার ঔষধ দিয়ে স্প্রে করে কোন লাভ হয় নাই। আমাগো সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে, সারা বছর খামু কি, ঢাকা কামলা(শ্রম) দেওয়ার জন্য যামু করোনা ভাইরাসের কারনে যাইবার পারতাছিনা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, উচ্চফলনশীল ২৮ জাতের ধান ক্ষেত নেক বøাস্টার রোগে আক্রান্ত বেশি হয়েছে। এছাড়াও ৮১ ও ৮২ জাতের ধান ক্ষেতে নেক বøাস্টার  রোগে আক্রান্ত হয়েছে তুলুনামুলক কম।

কৃষকদের সচেতনতার অভাবে এ রোগে আক্রমন বেশি হয়েছে। তার পরেও আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি স্প্রে করার জন্য। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পন্ন সঠিক না। কারন আমাদের অফিসে জনবল কম থাকায় তারা সব এলাকায় যেতে পারছে না। ফলে একটু সমস্যা হচ্ছে।
  



শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।