বকশীগঞ্জে অর্ধশতাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

বকশীগঞ্জে অর্ধশতাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত



সেবা ডেস্ক: জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা সদরসহ গ্রামগঞ্জে সরকারি অনুমোদনবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন ও কোচিং সেন্টারের ছড়াছড়ি হয়েছে। 

এসব অনুমোদনবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের লাগাম টেনে ধরতে এবার শিক্ষকদের তালিকা করার পর এবার এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। 

এ নিয়ে গত ১৪ জুলাই জামালপুর জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২১ জুলাই এরমধ্যে বকশীগঞ্জের প্রায় অর্ধ শতাধিক সরকারি অনুমোদনবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। 

সে মোতাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও বলা হয় কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা চেয়ে ইতিমধ্যে সব স্কুল, মাদ্রাসা প্রধানকে চিঠি দিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্ত মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং সুষ্ঠু তদারকির অভাবে দিন দিন অবৈধ কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে বেসরকারি অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো শহিদ তিতুমীর আইডিয়াল একাডেমি, ডলফিন আইডিয়াল একাডেমি ও মাহবুব মেহরুন আইডিয়াল বিদ্যানিকেতন। 

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে গত বছর মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা দফায় দফায় বৈঠক করলেও কার্যত কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

উল্টো প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে কোচিং মালিকরা। অপরদিকে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের মালিকদের দৌরাত্ম্যে অভিভাবক এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীও বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। 

ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ কোচিং সেন্টার গড়ে ওঠায় বকশীগঞ্জ উপজেলা সদরে কোচিং সেন্টারগুলোতে চলছে জমজমাট ব্যবসা। 

এ হলো বকশীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার হালচাল। 

কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেন নিয়ে অভিভাবকদের রয়েছে নানা অভিযোগ। কয়েকটি কোচিং সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ কোচিং সেন্টার এবং কিভারগার্টেনের নামে চলে রমরমা বাণিজ্য ।এলাকার একটি মহল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে একের পর এক গড়ে তুলেছে বিভিন্ন চটক নাম দিয়ে কোচিং সেন্টার। কোচিং সেন্টারের মালিক ও শিক্ষকরা জোট বেধে অভিভাবকদের বাসাবাড়ি গিয়ে নানা প্রলোভন দেখায়। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরু থেকেই চলে অবৈধ কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেন মালিকদের প্রতিযোগিতা। কোচিং সেন্টারের জন্য এই দুই মাস ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহের মাস বলা হয়। নানা প্রতিশ্রুতি এবং সুযোগ-সুবিধারকথা বলে অভিভাবকদের প্রলোভন দেখানো হয়। এছাড়া বেতন নিয়েও চলে নানা কারসাজি। 

শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।