পুর্নগঠনের পর বিজিবির সফলতা

পুর্নগঠনের পর বিজিবির সফলতা



সেবা ডেস্ক: সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ০২ শত ২৩ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী আধাসামরিক বাহিনী।বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পূর্বে এর নাম ছিল ইপিআর অর্থাৎ ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস।  স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এর নাম হয় ‘বাংলাদেশ রাইফেলস।


২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে বিডিআরের কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল জওয়ান সংঘটিত করে ইতিহাসের বিভীষিকাময় নারকীয় হত্যাকান্ড। কিন্তু বিডিআর আইনে দোষীদের নগণ্য শাস্তির বিধান থাকায় আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।


বিজিবি এখন কলঙ্কমুক্ত এবং একটি গতিশীল ও আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এই বাহিনীর সকল সদস্যের কঠোর পরিশ্রমে বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে কোন জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতিগঠনমূলক কর্মকান্ড এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে এই বাহিনী পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সফল ভূমিকা পালন করছে।


এ বাহিনী বর্তমানে ১৬টি সেক্টর, ৬১ টি ব্যাটালিয়ন ও বহু সংখ্যক বিওপি এর মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করে যাচ্ছে। বিজিবি 'সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী' হিসেবে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু এবং মাদক পাচারসহ যে কোনও ধরণের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।


‘দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ও মহান দায়িত্ব বিজিবি’র উপর ন্যস্ত। নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষাসহ চোরাচালান, মাদকপাচার ও নারী-শিশুপাচার রোধে বিজিবি’র সফলতা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও অন্যান্য মাদকপাচার রোধে বিজিবি বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ দেশ গঠনমূলক কাজেও বিজিবি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।’ 


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মর্যাদা লাভ করেছে। বিজিবি আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। 


দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়া, যেকোনো দুর্যোগময় মুহূর্তে জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিজিবি বিশ্বস্ততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সেবা ও কর্তব্য পরায়ণতার মাধ্যমে সমগ্র জাতির শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।


বিজিবি ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দেশের চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, সীমান্তে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার রোধসহ সবধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনসহ দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষার সুমহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সঙ্গে পালন করে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।


সীমান্তে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা বন্ধের বিষয়ে বিজিবি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিগত ২০২১ সালে দেশের সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৮৬ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৭৩ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান পণ্য সামগ্রী, অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে।


এছাড়াও করোনাকালে কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে।



 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।