শতকোটি লোপাটকারী কালাম ওরফে সেলিম আটক: অতঃপর...

শতকোটি লোপাটকারী কালাম ওরফে সেলিম আটক অতঃপর...



 : অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন একতা মাল্টিপারপাস নামের কোম্পানী খুলে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া আবুল কালাম আজাদ ওরফে সেলিম। 


২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রতারণার ১১ টি মামলা হয়। এরমধ্যে নয়টি মামলায় তার নামে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ছিলো। 


গত রবিবার দুপুরে কাজিপুর থানার অফিসার ইন চার্জ শ্যামল কুমার দত্ত (পিপিএম) তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী একটি কারখানা থেকে কৌশলে আটক করেন। গত সোমবার তাকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন পুলিশ। 


এদিকে তার আটকের খবরে প্রতারণায় নিঃস্ব রেবেকা, সখিনা, আত্তাব আলীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সেইসাথে ওই কোম্পানিতে জমা রাখা টাকা তারা ফেরৎ পাবার স্বপ্ন দেখছেন। এরইমধ্যে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের নিকট টাকা ফেরত পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। 


উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ঘোড়াগাছা গ্রামের চান মিয়া তালুকদারের পুত্র আবুল কালাম আজাদ ওরফে সেলিম। ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী। যে কেউ তার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলে তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন। এমনকি তাকে পুরো বিশ্বাস করতে শুরু করেন। 

এটাকেই মূলধন করে অধিক টাকার লোভ দেখিয়ে তিনি  ২০১১ সালে কাজিপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের একটি সনদ নিয়ে সমাজের দরিদ্র মানুষের সহায়তার জন্যে একটি সমিতি দাঁড় করান। 

নাম দেন একতা মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটি। অল্পদিনের মধ্যে তিনি  চরবাসির মন জয় করে নেন। সরলমনা স্বশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত মানুষজন  এই সমিতিতে টাকা  জমানো শুরু করেন।  এক পর্যায়ে বিভিন্ন নামে ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে গ্রাহকদের ৩ বছরে দ্বিগুণ লাভের কথা বলে প্রায় শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেন।  

 এরপর অনেক গ্রাহক জমানো টাকার মেয়াদ শেষে  তারা লাভসহ মূল টাকার জন্যে সমিতির অফিসে বার বার ঘুরতে থাকেন। যারা কথা বলতে বা  আইনি লড়াই করতে পারবেন তাদেরকে  কিছু টাকা পরিশোধ করেন আবুল কালাম আজাদ। 

এরপর তিনি হঠাৎ এলাকা থেকে লাপাত্তা হয়ে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় বসবাস শুরু করেন। শেরপরে তিনি এই টাকায় কয়েক একর জমি কেনেন। পাঁচতলা একটি বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। ডেইরি ও পোলট্রি খামার ব্যবসায় শুরু করেন।  

এদিকে আমানতকারিগণ ঘুরে ঘুরে টাকা ফেরৎ না পেয়ে ২০১৬ সালে কগনিজেন্স আদালত সিরাজগঞ্জের ২ টি, এবং ২০১৮ সালে সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালদে একটি মামলা করেন।  

এরপর ২০১৮ সালে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি এবং ২০১৯ সালে একই কোর্টে আরও চারটি মামলা হয়। 

সর্বশেষ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সিরাজগঞ্জে আরও একটি মামলা দায়ের করেন গ্রাহকরা। সাথে আবুল কালাম আজাদের আরেক সহযোগী রবিউলের নামেও মামলা হয়। 

 আবুল কালাম আজাদ ওরফে সেলিম  মামলাতে হাজিরা না দিয়ে স্থানীয় দালালদের টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু তাতে তিনি ব্যর্থ হন। 

এ নিয়ে স্থানীয় নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নেও বৈঠক হয়। কিন্তু সেখানেও আবুল কালাম আজাদ টাকা ফেরৎ দেবার কথা বলেন আবারো আপাত্তা হন। সেই থেকে তিনি এলাকাছাড়া ছিলেন। 

 

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় একতা মাল্টিপারপাসে টাকা জমানো বিধবা খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের কালিকাপুর  গ্রামের মৃত সোবানের স্ত্রী রেবেকা বেওয়া (৭৫)র সাথে।  

উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে প্রাপ্ত বয়স্কভাতা ও পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে তিল তিল করে জমানো  ৫০হাজার টাকা। তিনি ওই সমিতিতে জমা রেখেছিলেন।  

কোমর থেকে এক গজ মাপের ১২টি গিট্টু (১টি গিট একমাস বোঝানো হয়েছে) দেয়া  রশি বের করেন এবং বার বার রশিটির গিটগুলো দেখিয়ে বলেন এই দ্যাহেন ওই সাবরে আমি ট্যাহা দিছি আর গিট দিয়া হিসাব রাখছি। আর কয়দিন বাঁচমু। ট্যাহাগুইল্লা মাইরা দিলো। এমন অভিযোগ জানান আরও  কয়েকজন। 

 এ বিষয়ে কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত (পিপিএম) বলেন, ভূক্তভোগী আরও যারা আছেন তারা  টাকা ফেরত চেয়ে  মামলা করতে পারেন। টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার জামিন  যাতে না হয় সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চাইতে পারেন তারা।   



শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।