ঈদে ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে বাড়ী পৌঁছাচ্ছে গাইবান্ধার মানুষ

ঈদে ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে বাড়ী পৌঁছাচ্ছে গাইবান্ধার মানুষ



 : পরিবারের সাথে ঈদ করতে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় থেকে পলাশ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন গাইবান্ধা শহরের বাসিন্দা ইমরান বিন হোসেন বিপ্লব ও মো. রানা মিয়া। 


বাসটি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পৌঁছায় শনিবার রাত সাড়ে সাতটার পর। এতে করে তাদের ২২ ঘণ্টা সময় লাগে। এরপর বাকীটা পথ মোটরসাইকেলে করে গাইবান্ধা শহরের নারায়নপুর সুখনগর এলাকায় বাড়ী ফেরেন দুজনে। বাড়ী পৌঁছাতে সবমিলে প্রায় সোয়া ২৩ ঘণ্টা লাগে তাদের দুজনের। তাদের মতো আরও অনেকেই ঈদ-উল আজহার এই ঈদে বাড়ী পৌঁছাতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। কারো কারো বা এর থেকে বেশি সময় লেগেছে নাড়ীর টানে বাড়ী পৌঁছাতে গিয়ে। সড়কে বিড়ম্বনার এই চিত্র শুধু এবারেরই নয়, বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে মহাসড়কের এই যানজট আর ভোগান্তি।

গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কয়েকটি বাস কাউন্টার থেকে জানা গেছে, সাধারণত গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে সাড়ে ছয় ঘণ্টা থেকে সাড়ে সাত ঘণ্টা। অনুরুপ সময় লাগে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পৌঁছাতেও। কিন্তু প্রতি বছরই ঈদের সময় এলে এই সময় গিয়ে পৌঁছায় ২৪ ঘণ্টার বেশি। যে কষ্টের কথা কখনো বলে প্রকাশ করা যাবেনা। ঢাকা থেকে শুরু করে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ধীরগতিতে চলে যানবাহন। এরপর উপজেলা শহর ও বড়বড় বাজার এলাকাগুলোতে যানজটে পড়তে হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জে গিয়ে দেখা গেছে, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যানে গাদাগাদি করে মানুষ বাড়ী ফিরছে। কয়েকজন মোটরসাইকেল চালককে দেখা গেছে, গাড়ীতে ব্যাগ বেঁধে ও পিঠে ব্যাগ নিয়ে বাড়ীর দিকে ছুটতে। অনেকে বাস ও ট্রাকের ছাঁদে করে যাচ্ছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। এসময় উপজেলা শহরে ব্যাপক যানজটে পড়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রী ও গাড়ী চালকদের। শহরের দক্ষিণ দিকে দুই কিলোমিটারের বেশি যানজটে পড়তে হয় ঘরে ফেরা এসব মানুষদের। এখানে এক কিলোমিটার পার হতে সময় লাগে আঘা ঘণ্টারও বেশি সময়। সড়কে পুলিশ থাকলেও যানজট মোকাবেলায় তারা সফল হননি।

ইমরান বিন হোসেন বিপ্লব ও মো. রানা মিয়া বলেন, এতো দীর্ঘ সময়ে বাসে বসে থেকে ক্লান্তি এসে গেছে। অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। বাস ধীরগতিতে চলেছে দীর্ঘ সময় ধরে। সবথেকে বেশি যানজটে পড়ে নাকাল হতে হয়েছে টাঙ্গাইলের অ্যালেঙ্গা এলাকায়। সেখানে রাত দুইটার দিকে বাস বন্ধ করে আর চালু করে সকাল সাতটার দিকে। ফলে দীর্ঘসময় একস্থানেই বসে থাকতে হয়। এরপর যমুনা সেতুর আগে ও সেতু পার হয়ে দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয় আমাদের। বগুড়া ও গাইবান্ধাতেও পড়তে হয়েছে বিশাল যানজটে।

অপরদিকে, এইচএম বোরহান মন্ডল লিমন নামের একজনের গাজীপুর থেকে গাইবান্ধায় বাড়ীতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৩০ ঘণ্টা। মো. শামীম নামের আরেকজন জানান, আমার বড় ভাইয়ের বাড়ী পোঁছাতে সময় লেগেছে ৩৭ ঘণ্টা। এলএম শিপন নামের একজন জানান, আমার এক বন্ধু ২৭ ঘণ্টা পর বাড়ীতে পৌঁছেছে। তাদের মতো আরও অনেকেরই এরকম সময় লেগেছে ঢাকা ও গাজীপুর থেকে গাইবান্ধায় বাড়ী পৌঁছাতে।

ঈদযাত্রায় এতো দীর্ঘ সময় লাগায় কাজী রেজাউল হাফিজ নামের এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, ৫০ বছর ধরে দেখছি ঈদ এলেই গাইবান্ধাবাসী তথা উত্তরবঙ্গবাসীর সড়কের ভোগান্তি। এর থেকে উত্তরণে আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে, এই ভোগান্তির শেষ হবে কবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।


শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।