গাইবান্ধায় ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

 : গাইবান্ধা জেলা শহরের ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে গাইবান্ধাবাসীর প্রত্যাশিত ঘাঘট লেক প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে। প্রকল্পের কাজ মুখ থুবরে পড়েছে।

গাইবান্ধায় ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ



 এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীসহ মোট সাতটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ছয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে এসব অভিযোগ দেওয়া হয়।  

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা জেলা শহরের ব্রিজ রোডের পুরাতন ঘাঘট নদীর তীরে কয়েক হাজার লোক বসবাস করেন। কিন্তু ১৯৯০ সালের দিকে এই ঘাঘট নদীটি লুপ কাটিং করে উত্তরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মুল ঘাঘট নদী পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। নদীতে কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা জমে শহরের পরিবেশ দুষিত করছে। এই বাস্তবতায় স্থানীয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ জনাব মাহাবুব আরা বেগম গিনির একান্ত প্রচেষ্টায় গাইবান্ধা জেলায় এলজিইডি’র মাধ্যমে ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এজন্য মোট ৩২ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়। এরমধ্যে এ পর্যন্ত ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত ১২ কোটির টাকার কাজ হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাজ শুরু হয়। শেষ হবার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩০ জুন। কাজের সময় শেষ হলেও এসময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪০ ভাগ।

অথচ এটি বাস্তবায়িত হলে ঘাঘট লেকটি বিনোদন স্পটে পরিণত হবে। জেলা শহরের সৌন্দয্য বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এলজিইডি’র গাফিলতির কারনে প্রকল্পটির মুখ থুবড়ে পড়েছে। যেখানে সরকারের অর্থ বরাদ্দ থাকলেও গাইবান্ধা এলজিইডির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মো. ছাবিউল ইসলাম এবং সদ্য বদলি হওয়া সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা ছয় কোটি টাকা ফেরত প্রদান করেছেন মর্মে অফিস সূত্রে জানা যায়। শুধু তাই নয়, ওই দুই কর্মকর্তা ঘাঘট লেকের সুইচ গেটের সিসি ব্লক ও  ফুটপাত নির্মানে ভূয়া কাজ দেখিয়ে দুই কোটি টাকার বেশী বিল প্রদান করে ঠিকাদারের সাথে ভাগাভাগি করেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। যা সু্স্পষ্ট দুর্নীতির শামিল। ফলে প্রকল্পটি আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা সন্দেহ আছে। এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে প্রকল্পে নিয়োজিত দুর্নীতিগ্রস্থ এলজিইডি কর্মকর্তাদের বিরূদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন দরকার।

অভিযোগকারি মতিয়ার রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ঘাঘট লেকটি পরিত্যক্ত থাকায় কচুরিপানা জমেছে। ময়লা আর্বজনায় ভর্তি হয়ে গেছে। এখান থেকে মশা মাছি ছড়াচ্ছে। জেলা শহরের পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। লেকের কাজ সম্পন্ন হলে এ অবস্থা থাকবে না। এর পরিবর্তে এটি বিনোদন স্পটে পরিণত হবে। কিন্তু এলজিইডির গাফিলতির কারণে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এর মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আরেক অভিযোগকারি জিয়াউল হক জনি বলেন, গাইবান্ধা জেলা শহর হলেও এখানে বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। ঘাঘট লেক বাস্তবায়িত হলে বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। মানুষ এখানে এসে সময় কাটাবে। উঠতি বয়সের যুবকদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমবে। তাই অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।  

এসব বিষয়ে দুই কোটি টাকার বেশী বিল প্রদান করে ঠিকাদারের সাথে ভাগাভাগি করার অভিযোগ অস্বীকার করেন গাইবান্ধা এলজিইডির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলাম। তিনি মুঠোফোনে বলেন, আগে টাকা তুলে রাখা কিংবা কাজ না করে বিল দেওয়ার কোনো সুয়োগ নেই। বর্তমানে ঘাঘট লেকের কাজ চলমান রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। টাকা ফেরত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থবছরে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হলে টাকা সেই দপ্তরে ফেরত পাঠাতে হয়। তাই ওই ছয় কোটি টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।


শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।