বাংলাদেশ-ভারত নতুন সমঝোতা স্মারক ও উন্নত ভবিষ্যতের রূপকল্প

Seba Hot News
0

সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন যা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের রূপকল্প ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রীরা আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারতের একটি কারিগরি দল তিস্তা নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ সফর করবে। এছাড়া, মেডিক্যাল ই-ভিসা চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত নতুন সমঝোতা স্মারক ও উন্নত ভবিষ্যতের রূপকল্প



বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উভয় দেশই একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে আমাদের পথ দেখানোর জন্য ‘রূপকল্প ঘোষণা’ অনুমোদন করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশে তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কারিগরি দল শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশীদের জন্য মেডিক্যাল ই-ভিসা চালু করতে যাচ্ছে ভারত।

শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এসব কথা বলেন। এর আগে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে ঢাকা ও নয়াদিল্লি ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এসব সমঝোতা স্মারকের মধ্যে সাতটি নতুন ও তিনটি নবায়ন করা হয়েছে। বৈঠক শেষে  মোট ১৩টি ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকালে হায়দরাবাদ হাউসে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার পর এই সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর পর দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় মূলত আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সামুদ্র সম্পদ, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বিভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পায়।

প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি, সুনীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক সহযোগিতা, রেলওয়ে, সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, একাডেমিক সহযোগিতা, মৎস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।
বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের সাতটি নতুন সমঝোতা স্মারকের মধ্যে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সুনীল অর্থনীতি ও সমুদ্র সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক, ভারত মহাসাগরে সমুদ্রবিজ্ঞান ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যৌথ গবেষণার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই) এবং ভারতের কাউন্সিল অব সাইন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর মধ্যে আরেকটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে।
ডিজিটাল পার্টনারশিপের দুটি পৃথক দৃষ্টিভঙ্গি ও একটি  টেকসই ভবিষ্যতের জন্য ভারত-বাংলাদেশ সবুজ অংশীদারিত্বের অভিন্ন ভিশন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রেল সংযোগের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়। একটি যৌথ ক্ষুদ্র উপগ্রহ প্রকল্পে সহযোগিতার লক্ষ্যে ভারতের জাতীয় মহাকাশ প্রচার ও অনুমোদন  কেন্দ্র (ইন-স্পেস) ও মহাকাশ বিভাগ, ভারত প্রজাতন্ত্রের সরকার, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ (ডিএসসিসি), ওয়েলিংটন ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) মিরপুরের মধ্যে কৌশলগত ও অপারেশনাল স্টাডিজের  ক্ষেত্রে সামরিক শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়। তিনটি নবায়নকৃত সমঝোতা স্মারক হলো, মৎস্য সহযোগিতা স্মারক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্মারক এবং স্বাস্থ্য ও ওষুধের সহযোগিতার ক্ষেত্র বিষয়ক সমঝোতা স্মারক। 
অভিন্ন অংশীদারিত্ববিষয়ক সামুদ্রিক সহযোগিতা ও সুনীল অর্থনীতি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক, স্বাস্থ্য ও ওষুধ বিষয়ে নতুন সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা। যৌথ কৃত্রিম উপগ্রহ প্রকল্প বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সিইও ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং ভারতের মহাকাশ বিভাগের সচিব এস সোমনাথ।
এ ছাড়া রেলওয়ে কানেক্টিভিটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের রেলওয়ে সচিব ড. হুমায়ুন কবির এবং ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারপারসন জয়া সিনহা। এ ছাড়া সমুদ্র বিজ্ঞান খাতে সহযোগিতার জন্য দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মৎস্য খাতে সহযোগিতার জন্য দুটি নতুন এমওইউ বিনিময় করেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
কৌশলগত ও অপারেশনাল স্টাডিজের ক্ষেত্রে সামরিক শিক্ষা বিষয়ে সহযোগিতার জন্য ডিএসএসসি, ওয়েলিংটন ও ডিএসসিএসসি মিরপুরের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
বৈঠক ও চুক্তি সই শেষে যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সম্পর্কের সম্পূর্ণ বিষয় যার মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের বিষয়টি উল্লেখযোগ্যভাবে আলোচনায় এসেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উভয় দেশের স্বার্থে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল এবং সবুজ অংশীদারিত্বের জন্য যৌথ দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মত হয়েছেন। 
শেখ হাসিনা বলেন, উভয় দেশই একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে আমাদের পথ দেখানোর জন্য ‘রূপকল্প ঘোষণা’ অনুমোদন করেছে। আমরা টেকসই ভবিষ্যতের জন্য ‘ডিজিটাল অংশীদারিত্ব’ এবং ‘সবুজ অংশীদারিত্ব’ বিষয়ক দু’টি সমন্বিত রূপকল্পকে সামনে রেখে কাজ করতে  দু’পক্ষই সম্মত হয়েছি।
ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী, বিশ^স্ত বন্ধু এবং আঞ্চলিক অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সৃষ্ট সম্পর্ককে বাংলাদেশ সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত এবং দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, শনিবার আমাদের দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমরা অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে রাজনীতি ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সংযোগ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, জ্বালানি ও শক্তি এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের দু’দেশের এবং জনগণের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি। যেহেতু নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে ঢাকা ও দিল্লি নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে, সে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সেই ধারাবাহিকতায় আমরা ‘রূপকল্প-২০৪১’ এর মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁরা এই দিন নতুন কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই প্রত্যক্ষ করেছেন। কিছু নবায়ন করেছেন এবং ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্র হিসেবে কিছু যৌথ কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, দু’দেশই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়সহ উচ্চপর্যায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। 
শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান আমাদের স্বাধীনতার এবং দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছরপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে তাঁর শেষ দ্বিপক্ষীয় সফর করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র আমন্ত্রিত ‘অতিথি দেশ’ বাংলাদেশের নেতা হিসেবে নয়াদিল্লিতে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।  তিনি বলেন, এখন আমি এই একই ‘জুন’ মাসে অভূতপূর্ব দ্বিতীয়বারের মতো নয়াদিল্লি সফর করছি।
এর আগে শেখ হাসিনা গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নবগঠিত মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আরও কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে নয়াদিল্লি সফর করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসবই আমাদের এই দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করার প্রমাণ বহন করে। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার পথ এবং কার্যপন্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। 
শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই আলোচনাসমূহ আমাদের একে অপরকে সহযোগিতার উন্নততর পথ নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই কোনো দেশে তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে এবং আমার প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ আতিথেয়তা প্রদান করার জন্য আমি ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারত সরকার ও জনগণের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সেইসব বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি যাঁরা ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান এবং মোদিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশে তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কারিগরি দল শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-মেডিক্যাল ভিসা চালু করা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের সুবিধার্থে রংপুরে একটি নতুন সহকারী হাইকমিশন খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ক্রিকেট বিশ্বকাপ ম্যাচের জন্য উভয় দলকে শুভ কামনা জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার এবং আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেই।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, বাংলাদেশ নয়াদিল্লির প্রতিবেশী প্রথম নীতি, অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি, ভিশন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনের সঙ্গমে অবস্থিত। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আমরা প্রতিরক্ষা উৎপাদন থেকে শুরু করে সশস্ত্র  বাহিনীর আধুনিকীকরণ পর্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা সন্ত্রাস দমন, মৌলবাদ ও সীমান্তের শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় আমাদের সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ভারত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একই। ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশের যোগদানের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা বিমসটেক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে জনকল্যাণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীতে বিশ্বের দীর্ঘতম রিভার ক্রুজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত মৈত্রী পাইপলাইন সম্পন্ন হয়েছে। ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি জ্বালানি খাতে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রথম উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মাত্র এক বছরে এতগুলো ক্ষেত্রে এত বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন আমাদের সম্পর্কের গতি ও মাত্রাকে প্রতিফলিত করে।
মোদি আরও বলেন, দুই দেশ যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে। দুই দেশ তাদের অর্থনীতিকে চাঙা করতে ডিজিটাল ও জ্বালানি সংযোগের ওপর গুরুত্ব বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সিইপিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। ৫৪টি নদী ভারত ও বাংলাদেশকে সংযুক্ত করেছে। বন্যা ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কীকরণ ও সুপেয় পানির প্রকল্পে আমরা সহযোগিতা করেছি। আমরা ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তির পুনর্নবীকরণের বিষয়ে প্রযুক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের তিস্তা নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কারিগরি দল শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করবে।

মোদি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ একটি ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রস্তুত করেছে, যার মধ্যে সবুজ অংশীদারিত্ব, ডিজিটাল অংশীদারিত্ব, নীল অর্থনীতি এবং মহাকাশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, গত এক বছরে আমরা ১০ বার মুখোমুখি হয়েছি। তবে এই বৈঠকটি বিশেষ কারণ আমাদের সরকারের তৃতীয় মেয়াদের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে ১৩ ঘোষণা ॥ শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে মোট ১৩টি ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণায় বলা হয়-রাজশাহী ও কলকাতার মধ্যে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু হবে। চট্টগ্রাম ও কলকাতার মধ্যে নতুন বাস সেবা চালু করা হবে। গেদে-দর্শনা এবং হলদিবাড়ী-চিলাহাটির মধ্যে ডালগাঁও পর্যন্ত পণ্য ট্রেন সার্ভিস চালু হবে। অনুদান সহায়তায় সিরাজগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো নির্মাণ করা হবে।

ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু হবে। গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ কারিগরি কমিটি গঠিত হবে। বাংলাদেশ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশীদের জন্য মেডিক্যাল ই ভিসা চালু। তিস্তার পানি বণ্টনে টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে ভারত।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শুক্রবার দিল্লি সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিজেপি জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর ভারতে কোনো সরকার প্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।  শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। একই দিন সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ফিরে আসেন।
(ads1)

Post a Comment

0Comments

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top