আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন চায় তিনি দেওয়ানগঞ্জের শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান স্বপদে বহাল চায়।

G M Fatiul Hafiz Babu
0
সেবা ডেস্ক: 

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে বিদ্যালয়ে যেতে দিচ্ছেন না স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রউফ ও তার লোকজন। পেশিশক্তি ব্যবহার করে ওই প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে মামলা-মোকদ্দমাও চলছে জামালপুর জেলা আদালতে। ফলে বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে শাহজাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন হাবিবুর রহমান ।
তিনি যোগদানের পর থেকেই ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুর রউফ তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগসাজসে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুর রউফ প্রধান ও অফিস সহকারী গোলাম মোস্তফা প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে চাকুরীচ্যুত করার পাঁয়তারা করে।
গত ০৯/০৮/২০০৪ তারিখে সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের গড়মিলের কারণে শিক্ষাবোর্ডে অনমোদন নিতে বিলম্বিত হওয়ায় এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেওয়ানগঞ্জ ইউএনও কে ভূয়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দেখিয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুর রউফ নিজেকে গত ২৬/০২/২০০৫ তারিখে স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেই স'ানীয় পেশিশক্তি ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করেন। তিনি বিদ্যালয়ে আসলে হত্যার হুমকিও দেয়া হয় এবং ২৩/০৩/২০০৫ তারিখে তাকে ভিত্তিহীন ভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। গত ২৫/০৯/২০০৫ তারিখে হাবিবুর রহমান যথাযথ জবাব দিলে তাকে প্রধান শিক্ষকের পদ ফেরৎ দেয়া হয়। সেই সাথে বেতন-ভাতাও প্রদান করা হয়। সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুর রউফ তৎকালীন এমপির প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতিকে বাদ দিয়ে তথাকথিত কমিটি গঠন করেন । গত ২৭/০৯/২০০৫ তারিখে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন নেন। কমিটির সভাপতি করা হয় অফিস সহকারী গোলাম মোস্তফার বাবা আলহাজ্ব আশরাফ আলীকে। কমিটি অনুমোদন নিয়েই প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে কোনঠাসা করতে চক্রান্ত করতে থাকে। এনিয়ে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান নিজের অধিকার ফিরে পেতে জামালপুর বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে ১০৪/০৫ একটি মামলা করেন। এবং মামলাটির রায় হাবিবুর রহমানের অনুকূলে যায় কিন্তু মামলার রায় ম্যানেজিং কমিটি মেনে নেয় নি। ম্যানেজিং কমিটি মামলার আদেশটি না মানায় এ রায় বাস্তবায়নে শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। হাবিবুর রহমানকে শিক্ষাবোর্ড স্বপদে বহাল ও বেতন-ভাতা প্রদান করতে তৎকালীন দেওয়ানগঞ্জ ইউএনওকে নির্দেশ দেয় শিক্ষাবোর্ড। ইউএনও’র নির্দেশে হাবিবুর রহমান স্বপদে বহাল হয়ে দায়িত্ব পালন করতে থাকতে। এমতাবস'ায় দেওয়ানগঞ্জ ইউএনও’র মৌখিক নির্দেশে পূর্বের দায়েরকরা ১০৪/০৫ মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। ইউএনও’র নির্দেশে মামলা প্রত্যাহার করার পর ইউএনও ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগসাজসে সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুর রউফ কে ০৫/০৫/২০০৯ তারিখে শিক্ষাবোর্ড স্বারক নং-১৩১২ক(৫) এর আদেশ হাসিল করে তাকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করে। ফলে পুনরায় শিক্ষাবোর্ড স্বারক নং-১৩১২ক(৫) এর আদেশের বিরুদ্ধে জামালপুর বিজ্ঞ জজ আদালতে মোকদ্দমা করেন হাবিবুর রহমান। এই মোকদ্দমায়ও আদালত গত ০১/১০/২০১৩ ইং তারিখে একটি রায় প্রদান করেন। উক্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করলে শিক্ষাবোর্ড শাহজাদ পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কে রায়টি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। কিন' আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে ও আইন অমান্য করে উক্ত বিদ্যালয়ে ৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেন ম্যানেজিং কমিটি ও কথিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রউফ । এছাড়াও প্রভাব দেখিয়ে বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ লাখ টাকার মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করেন আবদুর রউফ ।
আইন অমান্য করায় তাদের বিরুদ্ধে জামালপুর বিজ্ঞ আদালতে একটি ভায়োশেন মোকদ্দমা বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে আদালতের আদেশ অমান্য করেও স্বপদে বহাল আছে আবদুর রউফ। তিনি প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দিচ্ছেনা। সেই সাথে বেতন-ভাতাও বন্ধ করা হয়েছে। বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে হাবিবুর রহমানের পরিবার।
অনতিবিলম্বে স্বষোষিত প্রধান শিক্ষক আবদুর রউফ এর বিরুদ্ধে আইন ব্যবস'া ও ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, মাননীয় বিজ্ঞ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাই এবং আমি আমার ফিরে পেতে চাই।
এব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবিদার আবদুর রউফ জানান, আমি বা অন্যান্যরা আদালতের কোন আদেশ অমান্য করিনি। সে (হাবিবুর রহমান) উল্টো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।
 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top