যেভাবে হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস?
যেভাবে হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস?

যেভাবে হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস?


How is the question papers leaked?
সেবা ডেস্ক: চাকরী, মেডিকেল-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু এসএসসি, এইচএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। সাম্প্রতিক পরীক্ষা শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা, সীমিত সময়ের জন্য ফেসবুক বন্ধ রাখা, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে গিয়ে নিজ নিজ আসনে বসা বাধ্যতামূলক করা।

এছাড়াও, যেসব মন্ত্রণালয় পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। সরকার এমন পদ্ধতি তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যে পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ছাপানো হবে না ও বিতরণ করাও হবে না। তাহলেই আর ফাঁস হওয়ার সুযোগ থাকবে না। আগামীতে যেসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সেখানে কোন কর্মকর্তা, শিক্ষক বা কর্মচারীদের হাতে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা হলের ত্রিসীমানার মধ্যে যদি কেউ থাকে তাহলে তাকে আইনের আ্ওতায় আনা হবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বৈঠকে।


এদিকে, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে আলাদা তদন্ত কমিটি। এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস বা এই সংক্রান্ত কোনো খবর পেলে অতি সত্তর কল করুন ৯৯৯ নম্বরে। আপনার এক ফোনেই উপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করবে সরকার। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৯৯-এ কল করে তথ্য প্রদান অন্যতম।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে এই সুবিধা চালু করেছে। যার মাধ্যমে কেউ যদি হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার বা ফেসবুকের কোনো গ্রুপে প্রশ্ন ফাঁস করে বা কেউ প্রশ্ন ফাঁসে সঙ্গে জড়িত আছে বলে প্রতিয়মান হয় তবে দেশের নাগরিক হিসেবে আপনি সেই খবর ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানিয়ে দিতে পারেন। আপনার এক কলের মাধ্যমে আমরা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত সাজা প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


এ প্রসঙ্গে পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয় একটা ব্যাধির মতো হয়ে যাচ্ছে। শুধু প্রশ্ন ফাঁসকারীকে নয় বর্তমানে প্রশ্ন ফাঁসকারীর অভিভাবককে আমরা সাজার আওতায় এনেছি। সঙ্গে এই চক্রের সাথে জড়িত সবাইকে সাজা প্রদান করা হবে। শুধু তাই নয়, যিনি এই প্রশ্ন সংগ্রহ করবেন তাকেও শাস্তি প্রদান করা হবে। এর সাজা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তড়িৎগতিতে দেয়া হবে। পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ সংক্রান্ত) ১৯৮০/৯ (খ) ধারায় গ্রেপ্তার করে ২ বছরের করাদণ্ড দেয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে গোপনে চলছে প্রশ্ন ফাঁস রোধ অভিযান
ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯ এ কল সেন্টারটি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জরুরি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০০ কল-টেকার এজেন্ট, ১৯ জন ডিসপ্যাচার ও ৮ জন সুপারভাইজারের মাধ্যমে দৈনিক তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত হয়। ৯৯৯ এ কল করতে কোনও টাকা খরচ হবে না। মোবাইল ফোনে টাকা না থাকলেও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আপনি কল করতে পারবেন।


প্রশ্নফাঁসে জড়িত সন্দেহে যাদেরকে আটক করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫২ টি মামলা হয়েছে। ১৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া অব্যহত রয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। আর এখন পর্যন্ত ৫৬০ জন ছাত্রছাত্রীকে সনাক্ত করা হয়েছে এবং আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসে জড়িত ছাত্রছাত্রীদের মিডিয়ার মাধ্যমে জনসম্মুক্ষে নিয়ে আশা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আগামীতে সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্যে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ এ পরীক্ষায় যারা অংশ নিচ্ছে তারাই আগামীতে এ দেশের নেতৃত্ব দেবে। তারা যেন আদর্শবান হিসেবে গড়ে উঠে।

,