সিরিয়া ছেড়েছে ১১ রুশ রণতরী হামলার জবাব দিতে!
সিরিয়া ছেড়েছে ১১ রুশ রণতরী হামলার জবাব দিতে!

 সিরিয়া ছেড়েছে ১১ রুশ রণতরী হামলার জবাব দিতে!
সেবা ডেস্ক: -আমেরিকাকে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালানোর ফল ভুগতে হবে । পারদ চড়িয়ে, শনিবার এমনটাই হুমকি দিল রাশিয়া। আসাদ বাহিনীর উপর মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা করে একটি ফেসবুক পোস্ট করেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভা।

এছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনকে পরিণামের হুমকি দিয়েছেন আমেরিকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত এনাতলি আন্তনোভ। আসাদ বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে সিরিয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার পালটা দাপট দেখাতে বাধ্য হয়ে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেই দাবি অনেকের। তারই প্রতিফলন ঘটছে রুশ কূটনীতিবিদদের বয়ানে। শনিবার রুশ রাষ্ট্রদূত এনাতলি আন্তনোভ বলেন, “হামলার প্রতিক্রিয়ার জন্য তৈরি থাকুক আমেরিকা।

এই আগ্রাসনের পরিণামের দায় সম্পূর্ণভাবে নিতে হবে ওয়াশিংটন, প্যারিস ও লন্ডনকে”। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভার মার্কিন ও ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে একহাত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “মিডিয়া রিপোর্ট দেখেই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। তাহলে এবার সিরিয়ায় যা হচ্ছে তার দায়িত্ব নিক সংবাদমাধ্যম। ইরাকের মতোই অজুহাত দেখিয়ে এই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।”

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদ ও বিদ্রোহীরা পুতুল মাত্র। আসলে লড়াই চলছে রাশিয়া ও আমেরিকার। ওই অঞ্চলে দাপট বজায় রাখতে মরিয়া ট্রাম্প ও পুতিন দু’জনেই। দৌমায় সারিন হামলার পালটা মার দেবে ওয়াশিংটন, এমনটা জানত মস্কো। ট্রাম্পের হুমকির পরই সিরিয়ার তারতাস নৌঘাঁটি থেকে উধাও হয়েছে ১১টি রুশ যুদ্ধজাহাজ।

 মাত্র একটি কিলো ক্লাস সাবমেরিন রয়েছে বন্দরে। সেটির সুরক্ষায় মোতায়েন রয়েছে অত্যাধুনিক ‘এস-৪০০’ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। স্যাটেলাইটের ছবিতে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে মার্কিন হামলার পালটা জবাব দিতে গোপনে সাগরে পাড়ি দিয়েছে রুশ রণতরীগুলো।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিরিয়ায় আসাদের ঘাঁটিতে আক্রমণের নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 ট্রাম্পের নির্দেশ পেতেই ঝাঁকে ঝাঁকে মার্কিন যুদ্ধবিমান উড়ে গেল সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের মূল সেনাঘাঁটির দিকে। হামলার উদ্দেশ্য, আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রাগারগুলি ধ্বংস করে দেওয়া। পালটা আমেরিকাকে জবাব দিচ্ছে রুশ সাহায্যপ্রাপ্ত সিরিয়ার এলিট মিলিটারি ফোর্স রিপাবলিকান গার্ডের ফোর্থ ডিভিশন।

মিসাইল হামলা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের প্রতি একটি সতর্ক বার্তা
ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত ফ্রান্সের রণতরী থেকে ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপের এ চিত্রটি প্রকাশ করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর।
এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় যে মিসাইল হামলা চালিয়েছিল এবারের হামলা তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিবিসির সংবাদদাতা জনাথন মার্কাস বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে হুশিয়ার করেছিলেন এবারের হামলা ততটা ব্যাপক হয়নি। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ৫৯টি টমাহক ক্রুস মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল। এবারের হামলায় সেটির চেয়ে দ্বিগুণ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলা শেষ হয়েছে। কিন্তু এ হামলায় একটি পরিষ্কার বার্তা আছে।

মার্কাস মনে করেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ যদি আবারো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে আবারো হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।আমেরিকা বলছে, এ হামলার সময় যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য যথেষ্ট নজর দেয়া হয়েছে।

কিন্তু মৌলিক প্রশ্ন হচ্ছে- এ ধরনের হামলার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার থেকে নিবৃত্ত করা যাবে কিনা। এক বছর আগে আমেরিকা যে মিসাইল হামলা করেছে, সেটি প্রেসিডেন্ট আসাদের ব্যবহারে তেমন কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি। এবারের হামলার মাধ্যমে ভিন্ন কিছু হবে কি? এমন প্রশ্ন তুলছেন মি: মার্কাস।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার এ হামলাকে 'নৃশংস এবং জঘন্য' হিসেবে বর্ণনা করেছে। এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন এ হামলায় তার দেশের সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেসামরিক মানুষের উপর রাসায়নিক হামলার বিরুদ্ধে পুরো বিশ্ব একমত।

সিরিয়ায় হামলার কোনো বিকল্প ছিল না : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বলেছেন, সিরিয়ায় যে সমন্বিত হামলা চলানো হয়েছে সেটি 'যথার্থ এবং বৈধ'। আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের এ যৌথ হামলা সফল হয়েছে বলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মনে করেন। সিরিয়ায় হামলার বিকল্প ছিলনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ হামলার আগে রাশিয়ার সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি বলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষের প্রাণ রক্ষার জন্য এ হামলার আগে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সিরিয়ার ডুমা শহরে কথিত রাসায়নিক হামলার জবাবে রাজধানী দামেস্ক এবং হোমসের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চলানো হয়।

তবে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন মনে করেন এ হামলা 'আইনগত-ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।'
ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে টেরিজা মে বলেন, সুনির্দিষ্ট জায়গায় সীমিত এ হামলার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতাকে কমিয়ে দিয়েছে।
"এ যৌথ হামলার মাধ্যমে পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়েছে যে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো সহ্য করবে না," বলেছেন টেরিজা মে।

তিনি বলেন, আগামী সোমবার তিনি পার্লামেন্ট বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেবেন এবং সংসদ সদস্যদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে।
এদিকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে চারটি আরএএফ টর্নেডোজ যুদ্ধ বিমান থেকে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে।

টেরিজা মে বলেছেন এ হামলা ছিল যথার্থ এবং সম্পূর্ণ ব্রিটেনের স্বার্থের অনুকূলে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ হামলার মাধ্যমে তারা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করছে না কিংবা সিরিয়ার ক্ষমতায় পালাবদল ঘটানোর চেষ্টাও করছে না। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেভিন উইলিয়ামসন এ হামলাকে 'খুবই সফল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।