SebaBanner

হোম
কোটা পদ্ধতির বিলোপ করলেন প্রধানমন্ত্রী

কোটা পদ্ধতির বিলোপ করলেন প্রধানমন্ত্রী
সেবা ডেস্ক: -বুধবার দশম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা কোটা তুলে দেয়ার কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে এদিন সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি একেবারেই তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ভোগান্তি ও ঝামেলা বন্ধে কোটা ব্যবস্থাই থাকবে না’।

উল্লেখ্য, আন্দোলনকারীরা মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দুদিন আগে বৈঠক করলেও প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একাত্তরে হানাদাররা যেভাবে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা করে লুটপাট চালিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় ঢাবির উপাচার্যের বাসভবনে হামলা-লুটপাট করা হয়েছে।

এ ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। যারা এই হামলা করেছে, লুটপাট চালিয়েছে, লুটপাটের মাল কোথায়  রেখেছে তা ছাত্রদেরই খুঁজে বের করতে হবে। এত বড় অন্যায় আমরা কোনভাবে মেনে নিতে পারি না। গোয়েন্দা সংস্থাদের নির্দেশ দিয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে। যারা হামলা, লুটপাট করেছে তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে’।

ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির শিক্ষা গঠনমূলক কাজে ব্যবহার না হয়ে তা গুজব ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলেও সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একজন ছাত্রের মাথায় আঘাত লাগার ঘটনাকে মৃত্যুর গুজব বানিয়ে দেয়াকে কখনোই সমর্থন দেয়া যায় না। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার নিঃসন্দেহে চলমান আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

 যখন আলোচনা হচ্ছে তখন এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় আগুন দেওয়া এমনকি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য চারুকলার অভ্যন্তরে ইউনেস্কোর বিশ্ব হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রার সবকিছু ভেঙে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ারও কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে।

 মেয়েদের এভাবে হল থেকে বেরিয়ে আসার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে- জানতে চেয়ে সেই রাতে বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি তখন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে সেখানে পাঠানোর এবং ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করান বলেও জানান।

১৯৭২ সাল থেকে এই কোটা পদ্ধতি চলছে। সময় সময় সংস্কার করা হয়েছে। কোটা যাই থাক, সরকার কিন্তু সবসময় মেধাবীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং কোটার শূন্যপদ মেধা তালিকা থেকেই পূরণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সময়ে মেধাভিত্তিক নিয়োগের কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় মেধাভিত্তি নিয়োগ হয়েছে ৭৭ দশমিক ৪০ ভাগ, ৩৫তম বিসিএস-এ নিয়োগ পেয়েছে ৬৭ দশমিক ৪৯ ভাগ, ৩৬তম বিসিএস-এ পেয়েছে ৭০ দশমিক ৩৮ ভাগ। আন্দোলনকারীরা ঘটনার শান্তিপূর্ণ ইতি টানবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

,

Home-About Us-Contact Us-Sitemap-Privacy Policy-Google Search