আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ৯ বছর: পর্ব-দুই

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ৯ বছর- পর্ব-দুই

সেবা ডেস্ক: ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। সারাবিশ্বে তখন বিরাজমান ছিল অর্থনৈতিক দুরাবস্থা। সেখানে বাংলাদেশ এ মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১.৫২। যেকোন বিচারে সেটি ছিল বিস্ময়কর সাফল্য। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ৯ বছর পর্ব-২ এ গত ৯ বছরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা হলো।

১. তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত। এই খাত থেকে রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের অধিক অর্জিত হয়। তৈরি পোশাক শিল্পে ৪৫ লাখ শ্রমিক সরাসরি কাজ করে। যার প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টা ও বেসরকারি খাতের উদ্যোগে তৈরি পোশাক রফতানি আয় ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৯.০৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৮.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আশা করা যায় ২০২১ সালে এ খাতে রফতানি আয়ের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশের নেতৃত্বে এলডিসি গ্রুপ ডব্লিউটিওর দশম মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্সে মেধাস্বত্বের অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধিতে সমর্থ হয়েছে। সাধারণভাবে মেধাস্বত্বের এই অব্যাহতি ১ জুলাই ২০২১ এবং ওষুধ শিল্পের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি ২০৩৩ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

২. বাংলাদেশে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশে ২০০৮-০৯ সালে দানাদার খাদ্যশস্য (চাল, গম ও ভুট্টা) উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। ডাল, তেল, আলু, সবজিসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদনও একইভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মৎস্য আহরণে ২০১৬ সালে বিশ্বে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে।

৩. সরকারের মৎস্য বান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা এবং চাষি ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক কারিগরি পরিষেবা প্রদানের ফলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ৪০.৩৯ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে মৎস্য উৎপাদন ৪০.৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মৎস্য উৎপাদনের এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করা যায় চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৬ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি করে ৪,২৮৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আয় হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মাংসের মাথাপিছু চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং দুধ ও ডিমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রবৃদ্ধির হারও উৎসাহব্যঞ্জক।

৪. বর্তমান সরকার স্বল্প ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠীকে খাদ্য নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি পরিকল্পনা গ্রহণ ও তত্ত্বাবধানে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে বছরে পাঁচ মাস ধরে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করছে।

৫. ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন ২০১০’-এর আওতায় গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলে মোট ৩,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৬ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গঠিত High Level Panel on Water-এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৬. জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সরকার ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ২০১৭’ প্রণয়ন করেছে। এতে জনগণ জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ বাজার মূল্যের ৩ গুণ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে, যা পূর্বে ছিল মাত্র দেড় গুণ। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শান্তিনগর থেকে চতুর্থ বুড়িগঙ্গা ব্রিজ হয়ে ঢাকা-মাওয়া রোডে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প পর্যন্ত ১৩.৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে।


, , ,
themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে