ইতিহাস হয়ে জেগে আছে মনে ও মননে আহসান উল্লাহ মাস্টার

Ahsan Ullah Master, in the mind and mind
সেবা ডেস্ক:  ৭ মে। গাজীপুরের জনপ্রিয় প্রয়াত সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা, শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা আহসানউল্লাহ মাস্টারের শাহাদাৎ বার্ষিকী। ২০০৪ সালের এই দিনে বিএনপি সরকারের আমলে টঙ্গীতে এক জনসভায় তাকে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সেদিন এ ঘটনায় যেমন গোটা গাজীপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছিলো তেমনি দেশ হারিয়েছিলো একজন আদর্শধারী নেতাকে। ঘটনার পর পর সেই শোকে স্থবির হয়ে যায় জাতীয় রাজনীতি অঙ্গন। স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তবু আজ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেগে আছেন প্রতিটি মানুষের মনে ও মননে। তিনি গত হলেও জেগে আছে তার কীর্তি।

আহসানউল্লাহ মাস্টারের জন্ম ১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার (বর্তমান গাজীপুর) পুবাইল ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৭০ সালে ডিগ্রি পাস করার পর আহসানউল্লাহ টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি ওই স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক (১৯৭৭-১৯৮৪) ও প্রধান শিক্ষকের (১৯৮৪-২০০৪) দায়িত্ব আমৃত্যু যোগ্যতার সঙ্গে পালন করেন।


আহসানউল্লাহ মাস্টার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ জয়দেবপুরের ক্যান্টনমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নীরস্ত্র করতে ঢাকা থেকে আসা পাকিস্তানি বাহিনীকে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়ার জন্য জনতাকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ডাক দেন বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করার। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন এবং নির্যাতিত হন। আহত অবস্থায় আহসানউল্লাহ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের দেরাদুনের তান্দুয়া থেকে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে ডাঙ্গা, পুবাইল, টঙ্গী, ছয়দানাসহ বিভিন্ন স্থানে গেরিলাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।


মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উদ্ভাসিত এই রাজনীতিক, শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক জীবন ছিলো বর্ণিল। ১৯৬২ সালে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন-এর বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। তখন তিনি ছাত্রলীগ করতেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবি নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা যখন রাজপথে, তখনো আহসানউল্লাহ সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৬৯ সালে ১১ দফার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।


১৯৮৩ সালের পুবাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ—প্রতিটি নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে। ১৯৮৮ সালে পুবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।


এছাড়া, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগে তিনি ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া আহসানউল্লাহ মাস্টার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) চেয়ারম্যান ছিলেন।

গাজীপুরের মাটি ও মানুষের প্রিয় অভিবাবক, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ আহসানউল্লাহ মাষ্টারের মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।


, , ,
themeforestthemeforest