ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’
ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’

সেবা ডেস্ক: ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের জনগণের মুখে অন্ন তুলে দেয়াই ছিল স্বাধীন দেশের সব থেকে চ্যালেঞ্জিং কাজ। অনাহারে অপুষ্টিতে ছিল দেশের অধিকাংশ মানুষ। বিশ্ব জানতো ক্ষুধা, দারিদ্র্য পীড়িত একটি দেশ হিসেবে। সেই দেশ আজ উন্নত হয়েছে সব ক্ষেত্রে। বিশ্বে আজ পরিচিত অনন্য উন্নতির জন্য। ক্ষুধা পীড়িত সেই দেশ আজ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরী করছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

বাংলাদেশে আজ হ্রাস পেয়েছে দারিদ্র্যের হার । দারিদ্র্যতা দূরীকরণের জন্য নেয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ। সেই পদক্ষেপের বদৌলতে বাংলাদেশ আজ দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ। গ্রামীণ আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের দেড় কোটি জনগোষ্ঠীর জীবনমান পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে তিন কোটি দরিদ্রের ভাগ্য বদলে দিতে সক্ষম একটি বাড়ি একটি খামার প্ৰকল্প। ২০২০ সালে জুনের আগে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হবে। ‘একটি বাড়ি একটি খামার ‘ প্রকল্পের অধীনে রয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ’ বিভাগ।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহ করে স্থায়ী তহবিল গঠনের মাধ্যমে পুঁজির অভাব দূর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এইপ্রকল্পের সদস্যরা হলেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষক যাদের জমির পরিমাণ ০.০৫ থেকে ১.০ একর। এই প্রকল্পের নারী সদস্যের পরিমাণ দুই-তৃতীয়াংশ।

এই প্রকল্পের সমবায় সমিতির সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ৬০ এবং সর্বনিম্ম ৪০। সমিতি গুলো সদস্যদের বিভিন্ন কাজ করতে সাহায্য করে। এই কাজের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরী করতে পারছে নারী সদস্যগণ। গ্রামীণ অঞ্চলে কাজের ক্ষেত্রে এলাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাজ গুলোর মধ্যে হাঁস-মুরগির খামার, মৎস্য খামার, মৌমাছি পালন, শস্য উৎপাদন, বনায়ন, হস্ত শিল্প ,মৃৎ শিল্প ছাড়াও রয়েছে নানা ধরণের ক্ষুদ্র শিল্প। যার মাধ্যমে আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণও আজ অবদান রাখছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে, পরিবর্তন করেছে তাদের নিজেদের ভাগ্যের, নিজেদের জীবনমানের ।

দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্ৰকল্প হলো ‘ একটি বাড়ি একটি খামার ‘। দেশের অর্থ সামাজিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হলো এই প্রকল্পটি। স্বল্পোন্নত দেশটি আজ দুর্নিবার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতি দেশের তালিকায়। দেশ আজ বদ্ধ পরিকর রূপকল্প -২১ বাস্তবায়নের জন্য। দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। উন্নত অনেক দেশ আজ বাহবা দিচ্ছে আমাদের এই উন্নতিতে। বাংলাদেশকে দেখে আজ অনেক দেশ উৎসাহিত হচ্ছে বিশেষ করে আফ্রিকার কয়েকটি দেশ।

সরকারের কৃষি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিনব সংযোজন হলো ‘ একটি বাড়ি একটি খামার। ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী আজ প্রত্যক্ষ উপকার পাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের অভিনব এই প্রকল্পের জন্য গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। এজন্যই আজ বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প আজ বিশ্বজোড়া প্রসিদ্ধ।


,