SebaBanner

হোম
সিরামিক শিল্প বাংলাদেশের বিকাশমান রপ্তানিখাত

সিরামিক শিল্প বাংলাদেশের বিকাশমান রপ্তানিখাত

সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশের একটি ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খাত হচ্ছে সিরামিক শিল্প। বাংলাদেশে প্রথম সিরামিক শিল্প কারাখানা ১৯৫০ এর দশকে স্থাপিত হয় এবং সে সময় থেকেই এই শিল্পের যাত্রা শুরু। প্রতি বছরই এ খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে। দেশে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরামিক পণ্যের আমদানি কমছে। অন্যদিকে রপ্তানিও হচ্ছে অনেক। সব মিলিয়ে সিরামিক খাতে শক্ত ভিত তৈরি করে নিচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পকে বিশ্ববাসীর কাছে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সফলভাবে দেশে প্রথমবারের মতো সিরামিক সামগ্রীর আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ৩০ নভেম্বর। ‘সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০১৭’ নামক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, ভারত, চায়নাসহ মোট ১৩টি দেশের ৬০টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছিল।

গত পাঁচ বছরে সিরামিক খাতে উৎপাদন বেড়েছে ২০০ শতাংশ। বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। প্রধান রপ্তানি পণ্যের তালিকায় এ পণ্যের অবস্থান এখন সপ্তম। বছরে রপ্তানি আয় প্রায় পাঁচ কোটি ডলার। সিরামিকের প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চীনা সিরামিকের একচেটিয়া দখল ঠেকাতে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে গত বছরের মে মাস থেকে। ফলে ইউরোপীয় ক্রেতারা কম দামে সিরামিক পণ্য কিনতে বাংলাদেশের বাজারে ঝুঁকছেন। সরকারের প্রচেষ্টায় অন্যান্য পণ্যের মতো সিরামিক পণ্যেও শুল্ক মুক্ত সুবিধার আওতায় রয়েছে বাংলাদেশ। এতে ইইউর ২৮ টি দেশে সিরামিক পণ্যের একচেটিয়া বাজার দখলের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান তথ্য মতে বর্তমানে ৫০টির বেশি দেশে যায় বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সিরামিক টেবিলওয়্যারের রপ্তানি বেড়েছে ৪ শতাংশ। আয়ের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। আগের তিন অর্থবছরে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ১০, ১৩ ও ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে সিরামিকের টাইলস রপ্তানি হয়েছে ৬০ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের সিরামিক শিল্প বর্তমানে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এই খাত থেকে ২০১৬-১৭ বছরে মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই সিরামিক খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার।

সিরামিক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) এর তথ্য মতে বর্তমানে বাংলাদেশে সিরামিক শিল্প কারখানার সংখ্যা ৮০টি। এসব সিরামিক কারখানায় আমাদের দেশের ৫ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে।

বিসিএমইএর তথ্যমতে, আমাদের দেশীয় বাজারেও সিরামিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে ব্যাপক হারে। গত অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ বাজার বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে সিরামিক টেবিলওয়্যারের বাজার বেড়েছে ১৪ শতাংশ। বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩১৬ কোটি টাকা। সিরামিকের টাইলসের দেশী বাজার বেশ বড়। গত অর্থবছরে এ পণ্যের দেশী বাজার ছিল চার হাজার ৩৩৯ কোটি টাকার।

নব্বইয়ের দশকে সিরামিক শিল্পের বিস্তার ঘটলেও গত দশকে সরকাররের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুত এর বিকাশ লাভ করেছে। এখন বছরে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশ। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিরামিক পণ্যের দেশী এবং আন্তর্জাতিক বাজার প্রসার লাভ করেছে মূলত বর্তমান সরকার এই খাতকে বিশেষ গুরত্ব সহকারে বিবেচনা করে এই শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে। বিশেষ করে সরকারের একান্ত প্রচেষ্টায় তুলনামূলকভাবে সুলভ মূল্যের গ্যাস এর সুবিধার কারণে সিরামিক শিল্প বিকাশ লাভ করেছে। সিরামিক শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের মতে আগামী পাঁচ বছর সিরামিক খাতের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন বজায় থাকলে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক খাতের পর সিরামিক শিল্পও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



,

Home-About Us-Contact Us-Sitemap-Privacy Policy-Google Search