বিএনপির প্রস্তাবে তিন নেতার অসম্মতি

বিএনপির প্রস্তাবে তিন নেতার অসম্মতি

সেবা ডেস্ক: দলীয় কোন্দল এবং নেতৃত্ব শূন্যতায় বিভিন্ন ইস্যূতে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দলের অন্যতম দুই কর্ণধার বেগম খালেদার জিয়া এবং তারেক রহমানের দণ্ডিত হওয়ায় ইমেজ সংকটে ভুগছে দলটি।

ফলশ্রুতিতে কোনোভাবেই জনসমর্থন নিয়ে রাজপথে সক্রিয় হতে পারছেনা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এমতাবস্থায় খালেদা জিয়ার পরামর্শে নতুন জোট গঠন করার লক্ষ্যে ফখরুল-রিজভীরা, বি চৌধুরী, অলি আহমেদ এবং মান্নাকে নতুন জোটে নিয়ে আসার জন্য গোপন বৈঠক চালিয়ে যায়। নতুন জোটে নিয়ে আসার জন্য তারেক রহমানও লন্ডন থেকে টেলিফোনে কথা বলেন তাঁদের সাথে।

দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে নতুন জোট গঠন করার প্রস্তাবে প্রাথমিক ভাবে মোটামোটি রাজি হলেও পরবর্তীতে অসম্মতি জানিয়েছেন এই তিন নেতা। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন জোটে যোগ দিতে তাদের অসম্মতির কারণ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে বিএনপির সাথে অতীত রাজনীতির তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেই তারা পুনরায় বিএনপির সাথে জোট গঠনে অসম্মতি জানিয়েছেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না গত মঙ্গলবার বিএনপির ইফতার পার্টিতে এক প্রকার প্রকাশ্যেই সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অতীতে অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আপনাকে কষ্ট দেবার জন্য বলছি না। এই যে লড়াই করব, একদিন একটা ভোট হবে, ভোটের পরে জিতে ব্যাপক ভোট পেয়ে আপনারা সরকার গঠন করবেন। তখন আর আমাদের চিনবেন না, যদি এমন হয়?’

অলি আহমেদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি এক সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোটের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি যেমন চারদলীয় জোটে জামায়াতকে মেনে নেননি তেমনি জামায়াতও তাকে মেনে নেয়নি। জয় লাভের পরেও জামায়াত-বেষ্টিত বিএনপির রাজনীতিতে টিকে থাকা অলি আহমেদের জন্য কখনও সম্ভব ছিলনা। তাই বিএনপি থেকে বেরিয়ে নতুন দল এলডিপি গড়ে তোলেন। এলডিপিকে নিয়ে বিভিন্ন সময় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতেও নির্যাতিত ও অপমানিত হয়েছেন একাধিকবার।

এদিকে এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ওরফে বি. চৌধুরী ১৯৭৮ সালে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। বি. চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপির শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে ১৪ নভেম্বর ২০০১ এ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব লাভ করেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৩০মে ২০০২ তারিখে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের সমাধি পরিদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের জের ধরে বিএনপির অনেক নেতা তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। ফলশ্রুতিতে বিএনপির রোষানলে পড়ে ২০০২ সালের ২১ জুন তিনি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পদত্যাগের পর তিনি ‘বিকল্প ধারা বাংলাদেশ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন ও এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিভিন্ন সময় ছাত্রদল ও যুবদলের আক্রমণেরও শিকার হন বি. চৌধুরী।



,
themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে