অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

তাজুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন কপি জিম্মী করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে পরীক্ষার্থীরা।

সোমবার সকালে উপজেলার কুতুবপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বিক্ষোভ করেছে বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থীরা। এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় এ স্কুল থেকে ২৭০জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০টাকা হারে আদায় করা হলে টাকার অংকের পরিমাণ দাড়ায়  ১লক্ষ ৩৫হাজার টাকায়। যার একটি টাকাও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কল্পে ব্যবহার করা হবে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই দিন সকালে কুতুবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জে.এস.সি পরীক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার প্রবেশ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন কপি নিতে বিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু  বিদ্যালয়ের বেঁধে দেওয়া ৫০০ টাকা পরিশোধ না করায়  অনেক শিক্ষার্থী-অভিভাবক কে নিরাশ হয়ে ঘরে ফিরে যেতে হয়েছে।

মোহন, রাকিব সহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য শিক্ষকগণ ১বছরের কোচিং ফি-৪০০, পরিচয় পত্র-৫০ ও প্রবেশ পত্র বাবদ জন প্রতি  ৫০০টাকা করে আদায় করছেন। কিন্তু আমাদের মাঝে অনেকেই অস্বচ্ছলতার কারণে কোচিং করেনি। তার পরেও তাদের কাছ থেকে একই পরিমাণ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

গোলাপী, মমেনা ও এজি বেওয়া নামের অভিভাবক অভিযোগ করেন, আমরা গরীব মানুষ টাকার অভাবে আমাদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনি কোচিং করেনি। কিন্তু তার পরেও অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ না করায় সন্তানদের প্রবেশ পত্র না নিয়েই বাসায় ফিরতে হচ্ছে। সুজনী, রিপা, ববি সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে পরীক্ষার দিনক্ষণ সন্ধিক্ষণে, তাই বাধ্য বেঁধে দেওয়া টাকার বিনিময়ে প্রবেশ পত্র ও পরিচয় পত্র নিয়েছি।

মোমেনা বেগম নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী একজন দিনমজুর। তার সামন্য রোজগারে দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগানই খুব কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে। তাছাড়া যমুনার কোরাল গ্রাসের শিকারে বাঁধের উপর কোন মতে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পক্ষে স্যারদের দাবি পূরণ করা সম্ভবপর হচ্ছে না। তাই বলে কি আমার মেয়ে পড়ালেখা করতে পারবে না ? একই কথা বলেন, গোলাপী বেগম নামের অভিভাবকটি।

বড়িয়া গ্রামের আনোয়ার নামে একজন অভিভাবক বলেন, এ স্কুলের শিক্ষক ছাড়া অন্য কোন যায়গায় প্রাইভেট না পড়লে তাদের পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়া হয়। রায়হান সরিফ নামের এক প্রাইভেট শিক্ষক দাবি করেন, আমার এলাকায় এবারের জেএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা পাব। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র তিন হাজার টাকা পেয়েছি।  তাই বলে কি তারা পরীক্ষা দিতে পারবে না?

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং ফি নয় অতিরিক্ত ক্লাস ফি বাবদ ৪০০টাকা, পরিচয় পত্র-৫০, প্রবেশ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১০০ টাকা গ্রহণ করার কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দীন।   

বিদ্যালয়েল সভাপতি ও সারিয়াকান্দি সরকারি আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শাহ্ আলম লতার সাথে বিকালে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম সাদেক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। তবে আপনি যদি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

এখানে প্রশ্ন থাকে একজন গণমাধ্যমকর্মীর মৌখিক অভিযোগ যদি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ভিত্তিহীন বলে মনে করেন, তাহলে ওই দপ্তর থেকে জনসাধারণ কি সেবা পেতে পারে তা ভাবনার বিষয়! উল্লেখ্য এবারের জেএসসি পরীক্ষায় উপজেলার কয়টি বিদ্যালয় থেকে কতজন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং ওই অভিযুক্ত স্কুল থেকে কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে জানতে চাইলে কোন তথ্য দিতে পারেনি।


⇘সংবাদদাতা: তাজুল ইসলাম

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে