কাজিপুরে উন্নয়ন বিপ্লবে নেপথ্যে উপজেলা গভার্ন্যান্স প্রকল্প

কাজিপুরে উন্নয়ন বিপ্লবে নেপথ্যে উপজেলা গভার্ন্যান্স প্রকল্প

আবদুল জলিল: যমুনার উত্তাল তরঙ্গমালার আঘাতে বহুদিন হলো একের পর এক ভাঙছে কাজিপুরের জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, রাস্তাঘাট সবকিছু। প্রতিবছরই আগ্রাসী যমুনার ভাঙন তান্ডবে কাজিপুর হারাচ্ছে তার মানচিত্রের মাপ। চোখের সামনে বংশানুক্রমে এই তান্ডব চললেও অসহায় মানুষগুলোর কিছুই করার ছিলনা। এরই মধ্যে মানুষের জীবনকে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে টেনে নিয়ে যেতে হয়।

অনেক অসুবিধার মধ্যেও একটি বিষয় তাদেরকে নিয়ম করে মানতে হয়। ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী যখন তার রূপ-রস বদলাতে থাকে তখন অন্যসবার মতো ভাঙন-তান্ডবের শিকার চিরচেনা কাজিপুরবাসিকেও খেতে হয়। আর এই প্রয়োজন মেটানোর জন্য তারা শুরু থেকেই নানা কাজের মাঝে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখে। বহুকাল ধরে যমুনাপাড়ের কাজিপরবাসি নিয়ম করে যেমন ভাঙন আর বন্যা-বর্ষার শিকার তেমনি টিকে তাকার জন্য সৃষ্টিশীল কর্মযজ্ঞেও তারা সিদ্ধহস্ত।

তাদেরকে সামান্য সহযোগিতা করলে তারাও দেশের অনেক অগ্রসরমান এলাকার মানুষের মতোই সামনের দিকে নিজের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে গর্বের সাথে এগিয়ে যেতে পারে। শুধু দরকার নদীবিধৌত নিয়ত সংগ্রামশীল এই মানুষগুলোকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে সামনের আলোকিত পথের সন্ধান দেয়া। তাতেই তারা যেকোন কঠিন পথকেই কর্মের সাফল্যে সহজ বানিয়ে নিজের করে নিতে পারবে। বর্তমান সরকার যমুনাকে শাসন করে ভাঙন তান্ডবকে পরাভূত করেছে।

দুঃখের বিষয়, এর আগে কাজিপুরবাসির ভাগ্যের চাকাকে সামনের পথে চালিত করতে এমন কোন পরিকল্পনার ইঞ্জিন কাজ শুরু করেনি। চাহিদা, সক্ষমতা, পরিবেশ-প্রতিবেশ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ভূমি, মেধা, শ্রমকে বিবেচনায় এনে রচিত হয়নি কোন সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা। স্বাধীনতার  বিয়াল্লিশ বছর পরে বর্তমান সরকার অবশেষে সবকিছু বিবেচনায় এনে একটা উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল্ড অর্জন করে এখন সাসটেইনাবল ডেভেলপমেন্ট এর পথে হাঁটছে।  এই পরিকল্পনার ছোঁয়া পুরো কাজিপুরের চালচিত্র পাল্টে দেবে এমন প্রত্যাশা থেকে এই প্রকল্পের অবতারণা।  কাজিপুরের প্রেক্ষাপটে যুৎসই, সময়োপযোগী এই প্রকল্পের নাম উপজেলা গভার্ন্যান্স প্রজেক্ট সংক্ষেপে ইউজেডজিপি।
কাজিপুরে উন্নয়ন বিপ্লবে নেপথ্যে উপজেলা গভার্ন্যান্স প্রকল্প
 বর্তমানে দেশে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ কার্যকর রয়েছে। এই উপজেলা পরিষদকে গতিশীল করে এর মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক চাহিদা তৈরিতে পরিবেশ, ভূমি, জনশক্তি, স্থানীয় কৃষি, এলাকার সম্পদসমূহের গুরুত্ব অনুধাবন করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পণা গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন সূচিত হচ্ছে।

এই লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ আইন  সংশোধন পর্যন্ত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর আলোকে সরকার উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাগণের কর্ম-তালিকা দায়-দায়িত্ব এবং উপজেলা পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের কার্য-সর্ম্পক ইত্যাদি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বিধি, নীতিমালা, প্রজ্ঞাপণ ইত্যাদি জারি করেছেন।

এসবের মূল লক্ষ্যই হলো এলাকাভিত্তিক উন্নয়ণকে ত্বরান্বিত করা। উপজেলা পরিষদ ও হস্তান্তরিত দপ্তরসমূহের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং উপজেলা পরিষদের ১৭টি কমিটিকে অধিকতর কার্যকরী করার জন্য পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও মত বিনিময়ের মাধ্যমে কৌশল নির্ধারণ করার উপরও এজন্য গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

 সেইসাথে উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় এবং কমিটি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে কাজিপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ও উপজেলা গর্ভন্যান্স প্রজেক্টের ফোকাল পার্সন, এবং তৎকালিন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বিদ্যমান আইনের আলোকে উপজেলা পরিষদ ও হস্তান্তরিত দপ্তরসমূহের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং উপজেলা পরিষদের ১৭টি কমিটিকে অধিকতর কার্যকরী করার উপায় আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

কর্মশালায় কাজিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যানবৃন্দ, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ হস্তান্তরিত সকল বিভাগের প্রধানগণ, স্থায়ী কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত থেকে দল ভিত্তিক আলোচনা করে সমষ্ঠিগতভাবে তাদের মতামত ও সুপারিশসমূহ তুলে ধরে কাজিপুরের পৌণে তিনলাখ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ণের রূপরেখা তৈরি করেন।

কাজিপুরের গণমানুষের ভাগ্যন্নোয়ণের এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে এই উপজেলাবাসিকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন। কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক সরকার এর আন্তরিকতা কাজিপুরে ইউজেডজিপির কাজকে গতিশীল করেছে।
কাজিপুরে উন্নয়ন বিপ্লবে নেপথ্যে উপজেলা গভার্ন্যান্স প্রকল্প
অগ্রাধিকার ভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে কাজিপুরের উন্নয়ণে বিগত অর্থবছরে ১৭ টি প্রকল্প গৃহিত হয়। প্রকল্পগুলোর মধ্যে হলো গরীব অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থিদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, শিক্ষার মানোন্নয়ণের লক্ষ্যে শিক্ষাপোকরণ বিতরণ, মিডডে মিল চালু, বিভিন্ন স্কুলে ল্যাট্রিন নির্মাণ, শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে ও নিরাপদ প্রসবের জন্য ধাত্রী প্রশিক্ষণ, দুঃস্থ ও অসহায়দের জন্য কুটির শিল্প স্থাপণে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সরবরাহ, দারিদ্র্য বিমোচনে অসহায় মহিলাদের প্যাকেট তৈরির প্রশিক্ষণ, বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, মাদক নিরোধকল্পে উদ্বুদ্ধকরণ সভা, কৃষকদের সার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ সভা, কাজীপুরের অন্যতম ঝুট কম্বল শিল্পের জড়িতদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান, মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ড্রাইভিং শিক্ষা, ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়ণে উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, যুব উন্নয়ন, উপজেলা পরিষদ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 আর এর সুফল পেতে শুরু করেছে কাজিপুরের নদী শিকস্তি ছয়টি ইউনিয়নের সন্তান সম্ভবা মা ও প্রসূতি। কজিপুরবাসির ভাগ্যের জয়রথকে শ্লথ করে দিয়েছে যমুনা। দুইপাড়ের মানুষের মধ্যে সেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন, যাতায়াত সব কিছুতেই পার্থক্য লক্ষ্যণীয়।

 বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে বেশি সমস্যা-সঙ্কুল। চরের মানুষ ইচ্ছে করলেই দ্রুত চিকিৎসার জন্য নদী পার হয়ে পশ্চিম পাড়ে আসতে পারে না। আর সন্তান সম্ভবা মায়েদের প্রসবকালিন সময়েতো নয়ই। বিকেল হলেই সমস্ত নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও রাত্রিকালিন সময়ে প্রসবের সমস্যা হলে চোখের সামনে নিজের মানুষের মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কিছুই করারা থাকে না।

যে নবজাতকের আনন্দে পুুরো পরিবারের মুখে হাসির ঝিলিক থাকার কথা সেখানে মৃত্যুর হিমশীতলতা অনেক ক্ষেত্রে সব কিছুকে ম্লান করে বিষন্নতা আর একরাশ হাহাকার উপহার দেয়। এক প্রাণের সৃষ্টিতে বলিদান হয় কারো পরম আদরের ক কন্যা বা স্ত্রী বা নিকটাত্মীয়া। নবজাতকের আসার আনন্দে যেখানে আনন্দের সানাই বাজার জন্য প্রস্তুত মুহূর্তেই সেখানে যন্ত্রণার বিভীষিকায় ডুবে গিয়ে কান্নার রোল পড়ে।

কাজিপুরের সন্তান সম্ভবা মায়েদের তাই গর্ভধারণের পর থেকেই অজানা এক আতঙ্ক পেয়ে বসে। অনাগতের জন্য ভালোবাসার সাথে অজানা চিন্তায় তারা সর্বদা শঙ্কিত থাকে। বিশেষ করে গরীব-দুঃখী অসহায়দের এই চিন্তা প্রকট। তারা ইচ্ছে করলেই অর্থের অভাবজনিত কারণে যমুনার পশ্চিম পাড়ে এসে প্রসবের ব্যবস্থা করতে পারে না।

প্রয়োজনে ধাত্রী বা ডাক্তারের সেবা তাদের কাছে সোনার হরিণ।
এসব কিছু বিবেচনায় এনে এবার ইউজেডজিপির প্রকল্পের মাধ্যমে কাজিপুরের নাটুয়ার পাড়া ইউপির রেহাইশুড়িবেড় আমিনা দৌলতজামান মানবসেবা হাসপাতালে দুই ব্যাচে পর্যায়ক্রমে চরাঞ্চলের ৭০ জন মহিলাকে ধাত্রী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নিরাপদ প্রসবের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের উপকরণাদীও সরবরাহ করা হয়েছে। সম্প্রতি নৌ পারাপারে এসেছে নৌ এম্বুলেন্স সেবা। এরই মধ্যে এর সুফল পাচ্ছে চরের গর্ভবতী মায়েরা। তারা নিজেদের আর একা ভাবছেনা। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এই প্রশিক্ষিত ধাত্রীরা। এমনি এক ঘটনার কথা বলছি।

গত ২০ ডিসেম্বরের গভীর রাত। তেকানি চরের বৃদ্ধ ছমির আলীর পুত্র বধুর প্রসব বেদনা শুরু হয়। ঢাকার গার্মেন্টেস এ কাজ করা ছেলের বউকে নিয়ে বিপদে পড়ে যান অশিক্ষিক কৃষক ছমির আলী। সন্ধ্যায় প্রসব ব্যথা শুরু হয়েছে। অনেক সময় পেরিয়ে যায়। কিন্তু সন্তান প্রসব হচ্ছে না। রোগীর অবস্থা ক্রমান্বয়ে নাজুক হতে থাকে। এমন সময় তিনি আরেক প্রতিবেশীর মাধ্যমে ডেকে আনেন রেহাইশুড়িবেড় গ্রামের টুকু মন্ডলের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানাকে।

এই রাজিয়া ইউজেডজিপির ধাত্রী প্রশিক্ষণ সবে শেষ করেছেন। গভীর রাতে ডাক পেয়ে  রাজিয়া তার কাছে থাকা প্রয়োজনীয় উপকরণাদী নিয়ে যান রোগীর কাছে। তিনি প্রশিক্ষণলব্ধ কৌশলের দ্বারা বুঝতে পারেন বাচ্চা পেটের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। এসময় তিনি ঘাবড়ে না গিয়ে রোগীকে সাহস দেন এবং হাতের দ্বারা বিশেষ কৌশলে বাচ্চার অবস্থা প্রসবের উপযোগী করতেই প্রসব হয়ে যায়।

বৃদ্ধ ছমির আলীর ছেলের ঘর জুড়ে আসে এক পুত্র সন্তান। যেখানে আর কিছু সময় পেরুলেই হয়ত কান্নার রোল পড়ে যেত, সেখানে একজন রাজিয়া সুলতানার সামান্য প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিয়ে এলো আনন্দের বারতা। সকালে রাজিয়ার পরামর্শে সেখানকার স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের ডাক্তার আলহাজ্ব ঈমান আলী গিয়ে মা ও নবজাতককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।

সাহসী ধাত্রী রাজিয়া সুলতানা জানান, শেখার পরেই যে এত তাড়াতাড়ি এমন একটি ডেলিভারী আমি করাতে পারবো তা ভাবিনি। এখন আমার সাহস আরো বেড়ে গেল। আগামীতে গর্ভবতীদের নিরাপদ প্রসবে আরো কাজ করার সাহস পেলাম। তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণের আগে এমন অবস্থা হলে সেই মায়ের মরা ছাড়া গতি ছিল না।

ডাঃ ঈমান আলী জানান, রাজিয়া সঠিকভাবে কাজটি সম্পন্ন করেছে। এজন্য মা ও নবজাতক সুস্থ রয়েছে। এই ঘটনা গত ক’দিন ধরে চরের মানুষের কাছে বিশেষ করে নতুন মা হবার পথে যারা রয়েছে তাদের মনে ভয় দূর করে সাহস সঞ্চার করেছে। চরের মানুষ এখন ইউজেডজিপির সহায়তায় উপজেলা পরিষদের গৃহীত এই পদক্ষেপকে আশীর্বাদ  হিসেবে দেখছে।

প্যাকেট তৈরির প্রশিক্ষণ নেয়া দরিদ্র মহিলারা তাদের জীবনের চাকাকে সাফল্যের পথে ঘোরাতে শুরু করেছেন। প্রতিদিন তরা প্যাকেট তৈরি করে বিভিন্ন দোকানের সরবরাহ করে নগদ অর্থ পাচ্ছেন। গতি ফিরেছে হতদরিদ্র মহিলাদের কাজে, যারা সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন।

উপজেলার মাইজবাড়ি ও চালিতাডাঙ্গা ইউপির অনেক মহিলা প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়ে কাজ শুরু করেছেন। পরিবার পরিচালনায় স্বামীকে তারা এখন সহায়তা করতে পারছেন। পরিবারের ডিসিশন মেকিংয়ে এখন তারা ভূমিকা রাখছেন।

অনেক বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত্যা অসহায় মহিলা আগে যেখানে বাঁচার তাগিদে অন্যের বাড়িতে কাজ করতো, আজ তাদের হাত কর্মের হাতে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা স্বাবলম্বী হবার পথে কাজ করছেন।

মাইজবাড়ি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান তালুকদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইউপিজিপির এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত অনেক নারীই আজ ভালো করছেন। তাদেরকে সৌহার্দ্য-২ প্রকল্পের আওতায় সেলাই মেশিন দেয়া হয়েছে।

চালিতাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মুকুল জানান, ঝুট কম্বল শিল্পের জন্য ডাকসাইটে পরিচিত শিমুলদাইড় বাজার ও আশপাশের গ্রামের মানুষের কাছে এই প্রকল্প গ্রহণ খুবই সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগিরা ধীরে ধীরে উপকৃত হবে। সেই সাথে আরো নতুন মানুষ এই শিল্পের সাথে জড়িত হয়ে নিজ ভাগ্যের পাশাপাশি কাজীপুরের উন্নয়ণে ভূমিকা রাখবে।

 বাল্যবিবাহ রোধ, ইভটিজিং, মাদক নিরোধকল্পে ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি করে কলেজ/হাইস্কুলে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সমাবেশে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বয়ং উপস্থিত থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও উপস্থিত জনগণকে বাল্য বিয়ে, ইভটিজিং ও মাদকের কুফল কিভাবে একটি পরিবারকে তথা সমাজকে ধ্বংস করে দেয় তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

উপস্থিত জনগণের কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত নিয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ব্যবস্থা করেন তারা। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেশক’টি বাল্যবিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বন্ধ করেছেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে উপস্থিত সূধিজন, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যগণ, বিভিন্ন স্তরের মানুষ, সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম, কাজী, ধর্মীয় শিক্ষক সবার ভূমিকা রাখতে হবে বলে জানান হয়।

এতে করে কাজিপুরে বাল্যবিয়ের প্রবণতা বেশ কমে এসেছে। এখন সাধারন জনগণ বাল্যবিয়ে কোথাও হচ্ছে জানতে পারলে তারা নিজেরাই তা বন্ধ করছে। সমস্যা হলে ইউএনওকে তারা ফোন করে জানাচ্ছে।

এসব কিছুই ঘটছে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় উল্লেখ করে কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যার অধ্যক্ষ বকুল সরকার জানান, সামনের দিনেও নৌকার যাত্রা অব্যাহত থাকলে পুরো দেশেই উন্নয়নের রোডম্যাপের আওতায় আসবে। 


⇘সংবাদদাতা: আবদুল জলিল

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে