জামায়াতসহ বিভিন্ন মৌলবাদীর বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল পাস

জামায়াতসহ বিভিন্ন মৌলবাদীর বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল পাস

সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য মৌলবাদী ইসলামী গ্রুপ ও দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি দ্বিপাক্ষিক বিল উপস্থাপন করা হয়েছে। ১১৫৬ নম্বরের এই বিলটি দেশটির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিলটি কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাংক (রিপাবলিকান – ইন্ডিয়ানা) এবং কংগ্রেসম্যান তলসী গাবার্ড (ডেমোক্র্যাট – হাওয়াই) এর মাধ্যমে কংগ্রেসে উত্থাপিত হয়েছিলো।

ঐ বিলটির শিরোনাম ছিলো ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ ইসলামি সংগঠনগুলো এবং বাংলাদেশে পরিচালিত ঐক্যমত্যের গোষ্ঠীগুলির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’। বিলটি গত ২০ নভেম্বর ২০১৮ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উত্থাপিত হয়। ঐ বিলে বলা হয়, “বাংলাদেশের ইসলামী মৌলবাদী সংগঠনগুলো গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ এবং বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এসব চরমপন্থি ইসলামি সংগঠনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।”

বিলে আরো বলা হয়, দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে দেশটিতে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের ১৬ কোটির অধিক মানুষ বসবাস করে। বাংলাদেশকে স্বাধীনতা অর্জন করতে চরম ত্যাগ-মূল্য দিতে হয়েছে। ৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে, স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। সংগ্রামকালীন সময়ে “জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের সরাসরি বেইমানি ও প্রতারণার কারণে ১ কোটির বেশি মানুষ বেশি বাস্তুচ্যুত হয় এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট হয়।

বিলে বাংলাদেশের সমসাময়িক কর্মকাণ্ডের প্রশংসাও করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার ৮ লাখের অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদান করেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব মানবতার বিবেক পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। যার ফলে ৪২৫টি হিন্দু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, ৫৮৫টি দোকান আক্রমণ করা হয়েছিল বা লুট করা হয়েছিল এবং ১৬৯টি মন্দির ভাংচুর করা হয়েছিল। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য কাউন্সিলের মতে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে জানুয়ারী ২০১৪ এর মধ্যে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রতিক হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী জড়িত ছিল। যেখানে ধর্মীয় চরমপন্থিরা বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আহমাদী মুসলমানদেরও আক্রমণ করে দেশটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এর মধ্যে আবার, হাফেজ-ই-ইসলাম নামের একটি সংগঠন বাংলাদেশকে ধর্মীয় রাষ্ট্রে রূপান্তর করার জন্য সরকারকে চাপ দিয়েছে। তাদের দাবি পূরণ না হলে সশস্ত্র জিহাদ চালানোর হুমকি দেয়া হয়েছে ধর্মীয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে। জামায়াতে ইসলামী, এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক চরমপন্থি দলগুলি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতা চালিয়ে যাওয়ার ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। ন্যাটো জোটের সাবেক কমান্ডার জেনারেল জেনারেল জন এইচ নিকোলসন বাংলাদেশে আল-কায়েদার ক্রমবর্ধমান কার্যক্রম সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার পুনরাবৃত্তি, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিস্তার, এবং ইসলামী ছাত্র শিবির সহ মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির দ্বারা ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ধর্মীয় চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদের বিকাশ রোধে মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, এবং ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় আরও সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ত হওয়া উচিত।

বিলে হাউজ অফ রিপ্রেজেনটেটিভ আরো প্রস্তাব করেন…

১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শিকার এবং ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের আত্মা, যার কারণে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটি স্বীকার করে।

২. জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র শিবিরের মতো সংগঠনগুলি বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশের সরকারকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এই সংগঠনগুলো দেশটির স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে।

৩. বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানান হচ্ছে।

৪. জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমস্ত অংশীদারিত্ব ও তহবিলের ব্যবস্থা বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাহায্য নিতে পারে বাংলাদেশ।

এছাড়া বিলে আরো বলা হয়, মিডল ইস্ট ফোরাম (এমইএফ) এর বিবৃতিতে অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী একটি প্রভাবশালী এবং বিপজ্জনক ইসলামী দল। বাংলাদেশে তাদের দীর্ঘ সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে। এমইএফ এর গবেষণায় জানা গেছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার জন্য জামায়াত আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করেছে। তাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলাকে অব্যাহত রাখতে এবং ধর্মনিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

, , ,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে