জামায়াতের সাথে সিনহার কিসের সখ্যতা?

জামায়াতের সাথে সিনহার কিসের সখ্যতা?

সেবা ডেস্ক: ‘জামায়াত এবং সিনহার গোপন আঁতাত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অনিতা মাথুর প্রকাশ করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এবং জামায়াত নেতাদের গোপন সখ্যতার ঘটনা। তিনি বলেন- ‘ উগ্রবাদী সংঘটন জামায়াতে ইসলামী নেতা লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ৯ এবং ১০ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গোপন বৈঠক করেছেন হোয়াইট হাউস অফিসারদের সাথে’। তবে মিডিয়ার কাছে গোপন থাকে এই বৈঠকের খবর। বিশস্ত সূত্রের খবর- এই বৈঠকের ফাঁকেই স্বেচ্ছা নির্বাসিত এই আইনজীবী দেখা করেন সিনহার সাথে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটাল হিল সুইটে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই বৈঠক।

তিনি বলেন- ২০১২ এরপর থেকে রাজনীতিতে কোনঠাসা জামায়াত বরাবরই বড় ধরণের নাশকতার চোখ কষে আসছিল। উক্ত অগণতান্ত্রিক নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা করার এ পরিকল্পনা ব্যারিস্টার রাজ্জাকের।

বিচারপতি সিনহা আলোচিত হন ২০১৭ সালে অসুস্থতা দেখিয়ে বিদেশ গমন করে। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। এরপর কানাডা থেকে আত্মজীবনী লিখে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। আর এই বইকেই অস্ত্র হিসেবে বেঁচে নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরবর্তীতে জামায়াতের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে সিনহার সাথে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তার পরিচিতির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ এবং বিচার বিভাগের অবমাননাই ছিল এই বইয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

জামায়াতের শীর্ষ নেতারা একাধিক আলোচনায় সিনহাকে তাদের ট্রাম্প কার্ড হিসেবে আখ্যা দেন। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সম্প্রচার সময়ও জামায়াত ইতোমধ্যে কিনে রেখেছে সিনহার বক্তব্য প্রচারের জন্য।

সিনহা সম্পর্কে দেশবাসী বরাবরই এক ধরণের ধোঁয়াশার মধ্যে ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই সিনহা ছিল সুযোগ সন্ধানী এবং দুর্নীতি পরায়ণ। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে দীর্ঘ সময় আঁতাতও ছিল তার। ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সিনহার ক্ষোভ ছিল বেশ আগে থেকেই আর এমন সময়ে ব্যারিষ্টার রাজ্জাকের এমন প্রস্তাবে সারা না দিয়ে পারেননি সিনহা। ২০১৮ সালের মার্চ মাস নাগাদ বই লেখা শুরু করেন সিনহা আর তখন থেকেই মাসিক বেতনভুক্ত হন তিনি জামায়াতের।

তবে বাঁধ সাধে প্রকাশনায়, কেননা কোন প্রকাশনীই রাজি ছিল না এই বই ছাপাতে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক তাই এই বই ছাপানোর কাজ কোরান আমাজন থেকে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বাংলাদেশী এই বইয়ের বাংলা অনুবাদের কাজ শুরু করেন ১ সপ্তাহ আগে থেকেই। প্রকাশের পর অনেকটা গোপনেই এই বই ছড়িয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশে।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পরিকল্পনা ছিল এই বই দিয়ে দেশে সরকার বিরোধী এক ধরণের নীতি দাঁড় করানো। সিনহার নেতৃত্বে এক ধরণের অস্থায়ী সরকারের পরিকল্পনা করেছিল ব্যারিস্টার রাজ্জাক গণ বিপ্লবের মাধ্যমে, যার কিনা মন্ত্রীসভাও চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন।

এই বই পরবর্তীতে সমালোচিত হলে ব্যারিস্টার রাজ্জাকই পরামর্শ দেন সিনহাকে আমেরিকা চলে এসে স্থানীয় রাজনীতিকদের সাথে এই বৈঠক করতে। ৫০ হাজার ডলার মাসিক সম্মানীর বিনিময়ে আমেরিকার একটি লবিস্ট ফার্মের সাথে চুক্তি করেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক এইসব বৈঠক করিয়ে দেওয়ার জন্য। আমেরিকার কিছু বিচারক ছাড়াও আমেরিকার স্টেট সচিব মাইক পম্পেও এর সাথেও বৈঠক ধার্য করেন তারা।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পরামর্শে সিনহা একটি চিঠি প্রস্তুত করেন যা তিনি পাঠাতে চেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কাছে। জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার কমিশনের কাছেও চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সিনহার।

বাংলাদেশিদের জন্য সিনহা প্রস্তুত করেন ভিডিও বার্তা। ২ ঘন্টা ব্যাপ্তির এই ভিডিও প্রস্তুতের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কিছু কর্মী, যাতে সহায়ক ভাষা রাখা হয়েছে ইংরেজি এবং ফ্রেঞ্চ।

সিনহার সাথে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মাধ্যমে জামায়াতের এই সখ্যতার আসল উদ্দেশ্য এবং নাশকতার চক্রান্ত প্রকাশ্য হয়ে উঠলেও এ ব্যাপারে সংবাদ প্রচারে বাংলাদেশের মিডিয়ার খুব বেশি তৎপরতা দেখা যায়নি।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

,

0 comments

Comments Please

themeforestthemeforest

ছবি কথা বলে