ধনবাড়ীতে বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

ধনবাড়ীতে বোরো চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক
আনছার আলী, মধুপুর : টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় বোরো জমি তৈরী ও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সেই সাথে ব্যস্ত কৃষি শ্রমিকরাও। এক কথায় বলা যায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার সর্বত্র বোরো চারা রোপণের ধুম পড়েছে। কৃষকরা ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে সন্ধ্যা অবধি নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে বোরো ধানের চারা চাষাবাদ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে বোরো চারা রোপণ। ধোপাখালী গ্রামের কৃষক মো. হাসমত আলী বলেন, বর্ষার পানি আগেই চলে যাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পৌষের ২য় সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে বোরো চারা রোপনের কাজ। তাই কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেচ কাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে বাম্পার ফলনের আশা করেন এ কৃষক। একই এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলাম, জীবন মিয়া, জালাল উািদ্দন, আ. রশিদসহ অনেকেই বলেন বিদ্যুতের নানা ধরনের সমস্যা হয়। ঘনঘন লোড শেডিং দেখা দেয়। যদি সঠিকভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় তাহলে এবার আশানুরূপ ফলন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

মিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, এবার যদি কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহালে কিছু দিনের মধ্যেই ফসলের মাঠ ভরে উঠবে সবুজ ধানে। সোনার ফসল দেখে সকল কৃষকের মুখে ফুটবে সোনার হাসি।

ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এনামুল করিম জানান, বোরো চাষের জন্য মূলত সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার যেমন ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ প্রয়োগ। পোকা-মাকড়ের হাত হতে জমি রক্ষা করতে কীটনাশক প্রয়োজন অত্যাবশ্যকীয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফসলের এ তিনটি মৌলিক চাহিদার কোনটার ঘাটতি হলে ফসলের ফলন ভাল আশা করা অসম্ভব। অনুকূল আবহওয়া ও উপরোক্ত মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হলেই কৃষকরা ভাল বোরো ফলন ঘরে তুলতে পারবেন। বোরো ধানের চারা রোপনের সময় অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশী পরিমাণ রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নানা ধরনের উপদেশমূলক পরামর্শ দিচ্ছি। বোরো রোপণে লাইন ও পার্সিং পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য বলছি। যাতে করে আগাছা দমন সহজ হয় এবং পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার করতে না হয়। ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, গত বছর এ উপজেলায় ৯ হাজার ৭‘শত ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে এবার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবারও বোরো আবাদ কম হবে না।
⇘সংবাদদাতা: আনছার আলী

, , ,

0 comments

Comments Please