চলছে বাজেট ঘোষণার পূর্ব প্রস্তুতি

চলছে বাজেট ঘোষণার পূর্ব প্রস্তুতি
সেবা ডেস্ক: টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সদ্য নির্বাচিত এই নতুন সরকারের আগামী বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য দেশের ৮৭ হাজার গ্রামকে উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসা। এ লক্ষ্যে প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি রাস্তা পাকাকরণ,  ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ, আধুনিকায়ন পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদনসহ পনেরোটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

নির্বাচিত সরকার তাদের প্রতিশ্রুত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচীকে সামনে রেখে নতুন বাজেট তৈরির এই  কাজ শুরু করেছে। গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের দেয়া প্রতিটি বাজেটই আকারের দিক থেকে একটি অপরটিকে ছাড়িয়ে গেছে। বিগত বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০১৯-২০ সালের অর্থবছরের বাজেটের আকার আবারও বাড়ানো হবে। এ জন্য সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে দশ মেগা প্রকল্প ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দশ উদ্যোগ বাস্তবায়নে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে দুই বছরের মধ্যে রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে। রূপকল্প-২১ এর মতো ’৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন, ’৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা এবং সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সুদীর্ঘ একশ’ বছরের ডেল্টা প্ল্যান পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য সম্পূর্ণ দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এছাড়া  গুরুত্ব পাচ্ছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারী বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

‘আমার গ্রাম আমার শহর’- কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রাম উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। এজন্য কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ, স্বল্প খরচে ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, গ্রামের সব স্কুল কলেজ আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন, কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার,  কৃষি ভর্তুকি বাড়ানো ও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, ‘লাঙ্গল যার জমি তার, জাল যার জলা তার’ নীতি চালুকরণ, ভূমিহীনকে খাসজমি বরাদ্দ, গৃহহীনকে ঘর প্রদান, ব্যাংকের শাখা গ্রামে বাধ্যতামূলক চালুকরণ, সহজশর্তে ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণপ্রাপ্তি, এলপি গ্যাস সহজলভ্য করা, আধুনিক বাজার ব্যবস্থা চালু, সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়িয়ে দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে দূরীকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি গ্রামে পর্যায়ক্রমে পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

সম্প্রতি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির এক বৈঠকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের একটি রূপরেখা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এতে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাথমিক বাজেটের আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। যা এ অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বা সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি। এ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা রয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বা এডিপির আকার প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৯৮ হাজার ৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইশতেহারের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার কর্মসূচী হিসেবে রাখা হবে।

⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

,

0 comments

Comments Please