মধুপুরে করলা ক্ষেত কেটে সাবাড় ব্যাপক ক্ষতি, কৃষক দিশেহারা

S M Ashraful Azom
0
মধুপুরে করলা ক্ষেত কেটে সাবাড় ব্যাপক ক্ষতি, কৃষক দিশেহারা
মধুপুর প্রতিনধি: টাঙ্গাইলের মধুপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৩২ শতাংশ জমির করলা ক্ষেত কেটে সাবাড় করেছে দূর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আকতার হোসেন কালু এখন দিশেহারা।

জানা যায়, মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের কুড়াগাছা গ্রামের কৃষক মোহম্মদ আলীর ছেলে আকতার হোসেন কালু তার ভাইয়ের বাড়ির পালানে ৩২ শতাংশ জমিতে স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে দাদন ও ধার দেনা করে উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা চাষ করেন। অতিযতে গড়ে তোলা করলা ক্ষেত গাছ মাঁচা ছেয়ে গেছে। থোকায় থোকায় করলা ধরেছে। হঠাৎ করে শনিবার সকালে কালু ঘুম থেকে উঠে ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পাই তার ৩২ শতাংশ জমির করলা গাছ কেটে সাবাড় করেছে। গাছ গুলো মরা মরা। স্থানীয়রা এ খবর শুনে এসে দেখতে পাই গোরাসহ পুরো জমির গাছ তুলে ফেলেছে।

এ ব্যাপারে কৃষক আকতার হোসেন কালু জানায়, সে ধার দেনা ও দাদন নিয়ে গত কার্তিক মাস থেকে তার ৩২ শতাংশ জমিতে করলা চাষ করে যত্ম করে আসছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এ জমিতে কাজ করেন। গাছে করলা ধরেছে। বিক্রিও  শুরু করেছে। গত শুক্রবার ঘুম থেকে উঠে করলা ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পায় তার ৩২ শতাংশ জমির করলা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত চার দিন আগে একই গ্রামের টানপাহাড় এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে আরশেদ আলী  তাদের এলাকা থেকে করলা চুরি করলে স্থানীয়রা ধরে ফেলে। সেখানে গিয়ে চুরির অভিযোগে আরশেদ আলীকে আকতার হোসেন কালু মারধোর করে। কালুর ধারনা এ শত্রæতা থেকে আরশেদ আলী তার ক্ষেতের করলা গাছ কেটে দিতে পারে। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত তার করলা ক্ষেতের খরচ হয়েছে ২০/৩০ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত করলা বিক্রি করতে পারলে লক্ষাধিক টাকা হাতে পেতো বলে তার ধারণা।

এখন এ কৃষক ধার দেনা ও ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কি দিয়ে পরিশোধ করবেন ঋণ। একই গ্রামের আব্দুস সালাম (৩৫), হাসমত আলী (৭৫) ও বিল্লাল হোসেন (৫০) জানায়, আমরা গিয়ে করলা ক্ষেত দেখেছি এভাবে মানুষ ক্ষতি করতে পারে ধারণা করা যায় না। ধরন্ত ফসল এভাবে নষ্ট করায় কৃষকটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব তথ্য স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপরে স্থানীয় কুড়াগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক সরকার জানায়, আমি সরজমিনে করলা ক্ষেত দেখতে গিয়েছিলাম। ৩২ শতাংশ জমির পুরোটাই করলা গাছের গোরা টেনে তুলে ফেলেছে। এতে এ হতদরিদ্র কৃষকটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যেই এই ক্ষতিকর কাজটি করে থাক এটা ঘৃণিত ও ন্যাক্কারজনক। কৃষকটি ভাল ভাবে করলা বিক্রি করতে পারলে লক্ষাধিক টাকার মতো পেতো। সে এখন হতাশ হয়ে পড়েছে। এই কাজটি যেই করে থাক তার উচিত বিচার হওয়া দরকার।


⇘সংবাদদাতা: মধুপুর প্রতিনধি
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top