পোশাক কারখানার সংস্কার তদারকিতে নতুন ইউনিট গঠন

পোশাক কারখানার সংস্কার তদারকিতে নতুন ইউনিট গঠন
সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশের পোশাক খাতে সংস্কারের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সরকারি তদারকি সংস্থা সংস্কার সমন্বয় সেলের (আরসিসি) কার্যক্রম সন্তোষজনক না হওয়ায় নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দু'বছর পরও এ সেলের তদারকি সামর্থ্য নিয়ে ক্রেতা, ব্র্যান্ড ও বিদেশি কূটনীতিক এমনকি দেশি উদ্যোক্তারাও প্রশ্ন তুলছেন। এমন পরিস্থিতিতে এটির বিকল্প হিসেবে শিল্প নিরাপত্তা ইউনিট বা ইন্ডাস্ট্রি সেফটি ইউনিট (আইএসইউ) নামে বড় আকারের নতুন একটি তদারকি প্রতিষ্ঠান গঠন করছে সরকার।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর সংস্কার কার্যক্রম দেখভালে সরকারি নতুন এ প্ল্যাটফর্ম চালু করতে চায় শ্রম মন্ত্রণালয়। পাঁচ শতাধিক দক্ষ জনবলের এ ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়াও এগিয়েছে বেশ। এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় দফা সুপারিশ নিয়ে কাজ করছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

পোশাক খাতের দুই ক্রেতাজোট ইউরোপের অ্যাকর্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সংস্কার কাজ শেষে দায়িত্ব বুঝে নিতে ২০১৭ সালের ১৪ মে আরসিসি গঠন করে সরকার। শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) তত্ত্বাবধানে আরসিসির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ সেলের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট নয় খাত-সংশ্নিষ্ট প্রায় সব পক্ষ। এ কারণে বিকল্প উদ্যোগ নেয় শ্রম মন্ত্রণালয় বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব কে এম আলী আজম গতকাল সোমবার সমকালকে বলেন, পোশাক কারখানার সংস্কার তদারকি এবং এ খাতের নিরাপত্তা উন্নয়নে আইএসইউ গঠন করা হচ্ছে। ইউনিটটিকে যথেষ্ট শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আরসিসির ব্যর্থতার কারণে এটি গঠন করা হচ্ছে, ব্যাপারটা তা নয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে আইএসইউতে কারিগরি ও দক্ষ জনবল রাখা হবে। এ জন্য ৫৫৫ লোকবলের একটি অর্গানোগ্রাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ইউনিটে পেশাদার পরিদর্শক নিয়োগে সিভিল, মেকানিক্যাল ও শিল্প প্রকৌশল ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রকৌশলী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে এসব নিয়োগ দেওয়া হবে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ঢাকায় আইএসইউর প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বিভাগীয় জেলাগুলোতেও কার্যালয় থাকবে। প্রধান কার্যালয়ে ৭৪ জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভাগীয় জেলাগুলোতে ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিভিন্ন সংখ্যায় লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। পোশাক খাত ছাড়াও অন্যান্য শিল্পের নিরাপত্তার দিকটিও দেখভাল করবে এ ইউনিট।

সংশ্নিষ্টরা জানান, আইএসইউ ছাড়াও ডিআইএফইর কার্যক্রমকেও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এ জন্য তিন হাজার ৪৪৯ জনবলের কাঠামো গড়ে তুলতে নতুন একটি অর্গানোগ্রাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জনপ্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে কিছু পরিবর্তন এনে গত রোববার আবার শ্রম মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব জমা দিয়েছে ডিআইএফই।

অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের বাইরে থাকা কারখানার প্রাথমিক পরিদর্শন এবং সংস্কার কার্যক্রম তদারকি করছে আরসিসি। কথা ছিল দুই ক্রেতা জোটের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সরকারি এ সেল সব দায়িত্ব বুঝে নেবে। তবে কারিগরি সামর্থ্য ও প্রয়োজনীয় দক্ষ লোকবলের অভাবে তা এখনও হয়ে ওঠেনি। যদিও সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ জুন আরও দুই বছরের জন্য এ সেলের মেয়াদ বাড়ানো হয়। মেয়াদ বাড়ানো হলেও জাতীয় উদ্যোগের (এনই) তত্ত্বাবধানে থাকা দেড় সহস্রাধিক কারখানার মধ্যে অনেকগুলোর সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন। আস্থা রাখতে না পারায় সেলের কাছে কারখানা হস্তান্তর করতে চায়নি উভয় জোট। তারা বরাবরই শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য তদারকি সংস্থার কথা বলে এসেছে।

অন্যদিকে কারখানা সংস্কারে ধারাবাহিকতা ও উন্নয়ন তদারকিতে উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ ক্রেতা, জাতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে রেডিমেড গার্মেন্টস সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি) নামে আরেকটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। বর্ধিত মেয়াদ শেষে অ্যাকর্ড আরএসসির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে সম্প্রতি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তিও করেছে।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please