ওসি প্রত্যাহার, এসআই সাসপেন্ড, গ্রেপ্তার আরো ২

ওসি প্রত্যাহার, এসআই সাসপেন্ড, গ্রেপ্তার আরো ২
সেবা ডেস্ক: পাবনায় গণধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূকে সদর থানার ভেতর এক ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অফিসার ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার ও এসআই একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের মামলায় আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য পাবনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন সদস্যের আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওসি ওবায়দুল হক থানায় বিয়ের কথা অস্বীকার করলেও তদন্ত কমিটি থানা কম্পাউন্ডে বিয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। এ জন্য ওসিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর কাজি ডেকে থানায় বিয়ের আয়োজনে সংশ্লিষ্ট থাকায় এসআই একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজান এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কে এম আবু জাফর। গতকাল থেকেই এই কমিটি কাজ শুরু করেছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর যশোদল গ্রামের তিন সন্তানের জননী ওই গৃহবধূর অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল গত ২৯ আগস্ট তাঁকে তার বাড়ি নিয়ে এক সহযোগীসহ পালা করে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য ওই গৃহবধূ স্থানীয় দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ঘন্টুর অফিসে যান। সেখানে তিন দিন আটকে রেখে ঘন্টু ও তাঁর অন্য সহযোগীরা পালা করে ধর্ষণ করে বলে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৬ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু মামলা নথিভুক্ত না করে ওই রাতেই রাসেলের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিয়ে দেয় পুলিশ। বিষয়টি জানাজানি হলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ।

ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বুধবার রাতে আলী হোসেন ও সঞ্জু হোসেন নামের আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে রাসেল ও ঘন্টুকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল দুপুর ১২টায় পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডে পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে জেলা মহিলা পরিষদের ব্যানারে এক মানববন্ধন ও পথসমাবেশ হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, বিচারপ্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে আইনি সহায়তা না দিয়ে থানার মধ্যেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ায় জড়িত পুলিশ সদস্য এবং গণধর্ষণে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধনে মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।

 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please