জাতিসংঘে উন্নয়নের বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘে উন্নয়নের বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সেবা ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে উন্নয়নের বাংলাদেশকে জাতিসংঘে পরিচয় করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত দশ বছরে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ যে প্রভূত উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন প্রায়ই উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বিশ্বে নানা অস্থিরতা এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমাগত আর্থিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছর ধরে সমৃদ্ধি বজায় রেখেছে।

নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। তখন বাংলাদেশে তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর, আর সময় ভোর ৪টা বেজে ২৮ মিনিট।

বাংলায় দেয়া ভাষণে বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট ও এর সমাধানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৪ সালে সাধারণ পরিষদে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কিছু অংশ উদ্ধৃতও করেন তিনি।

স্পেকটেটর ইনডেক্স ২০১৯-এর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে মোট ২৬টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ। এ সময়ে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী মোট দেশজ উৎপাদনের ব্যাপ্তি ঘটেছে ১৮৮ শতাংশ। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপি’র আকার ছিল ১০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বেড়ে চলতি বছরে দাঁড়িয়েছে ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন কৌশল হিসেবে দারিদ্র্য দূরীকরণ, টেকসই প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বিষয়ের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ। গত ১০ বছর ধরে আমরা প্রগতিশীল ও সময়পোযোগী নীতি ও কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছি যা আমাদের এনে দিয়েছে অসামান্য সাফল্য।

বাণিজ্য সমৃদ্ধি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রফতানি আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরের তুলনায় এখন তিন গুণ বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি ৪০.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে গেছে। মাথাপিছু আয় সাড়ে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯০৯ মার্কিন ডলার হয়েছে। গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮.১৩ শতাংশ। ২০০৫-০৬ হতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মধ্যে আমাদের বিনিয়োগ জিডিপি’র ২৬ শতাংশ হতে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ৫ গুণ বেড়ে হয়েছে ৭০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৯ গুণ বেড়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্য হ্রাসকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। ২০০৬ সালে আমাদের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ যা ২০১৮ সালে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২১ শতাংশ এবং অতি দারিদ্র্যের হার ২৪ শতাংশ হতে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে পেছনে ফেলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম।

বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা, সুন্দর কর্ম পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বৈষম্য দূরীকরণই এই কৌশল। বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সমাজের অনগ্রসর ও অরক্ষিত অংশের প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছে। অর্থ, খাদ্য, কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, সঞ্চয় ও সমবায়-এর মাধ্যমে এই সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

জিডিপি’র ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নারী-পুরুষ সমতা এবং বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তির মাইলফলক অর্জনের পর বাংলাদেশ এখন মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে মনোনিবেশ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার ৫০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নেমেছে।

তিনি বলেন, সব নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রায় ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে গ্রামীণ জনগণকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়। সেবাগ্রহীতাদের ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। এসব কর্মসূচির ফলে মাতৃমৃত্যুর হার, নবজাতক ও শিশু মৃত্যুহার, পুষ্টিহীনতা, খর্বকায়তা ও ওজনহীনতার মতো সমস্যাসমূহ ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে এ ধরনের প্রায় ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ব্যক্তি নিয়মিত সরকারি ভাতা পাচ্ছেন।

 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please