বঙ্গবন্ধু জামালপুরে এলেই যে বাড়িতে উঠতেন

বঙ্গবন্ধু জামালপুরে এলেই যে বাড়িতে উঠতেন
মোহাম্মদ আলী: বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহম্মেদসহ কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক প্রয়োজনে জামালপুরে এলেই যে বাড়িতে উঠতেন, খেতেন, দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন, করতেন গোপন বৈঠক, কালের স্বাক্ষী, পাথালিয়া গ্রামের সেই আকন্দবাড়িটি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে বুকে ধরে আজও গর্বে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

বঙ্গবন্ধুর মতো ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে মাখা সেই মানুষগুলো আজ আর নেই। আছে তাদের রেখে যাওয়া পথ ও পথের অনুসারী। এই বাড়ির প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রেখেছে বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ। শত ঝড় তুফানেও এই বাড়ির মানুষগুলোকে আদর্শচ্যূত করতে পারেনি। একসময় পুরো জেলা এই বাড়িটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে জানত।

ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামছুজ্জামান সুরুজ আকন্দ জানান, সেই সময়ে আওয়ামী লীগের তূখোড় নেতা, বঙ্গবন্ধু যাকে বড় ভাই হিসেবে সম্বোধন করতেন সেই মরহুম আঃ মজিদ আকন্দ ১৯৪৯ সাল থেকেই ছিলেন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। পরবর্তিতে জামালপুর সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাঁর ছোট ভাই, বঙ্গবন্ধুর সহচর, এডঃ  মরহুম আঃ হাকিম ৬৬ থেকে ৭৫ পর্যন্ত জামালপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

এছাড়া ৭০এ এম.এন.এ ৭৩এ এম.পি.এ এবং ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু যখন বাকশাল কায়েম করেন তখন আঃ হাকিম জামালপুরের গভর্ণর নির্বাচিত হয়েছিলেন। মজিদ আকন্দের বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা, এড. ফজলুল বারী তারা, ৬৮ থেকে ৭২ পর্যন্ত জামালপুর মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আওয়ামী লীগের প্রেমে মজিদ আকন্দের স্ত্রী মরহুমা হাজেরা খাতুনকেও কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। ৭১এ যখন পুরো গ্রাম আগুনের লেলিহান শিখায় জ¦লছিল তখন ছেলে মেয়েদের প্রাণ বাঁচাতে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন দেশের সীমানা। ভারতে মহেন্দ্রগঞ্জে আশ্রয় নিয়ে সেখানে আশ্রিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য নেতাকর্মীসহ মুক্তিযোদ্ধারে খাবার সরবরাহের কাজ করেছেন তিনি।

ছোট ছেলে আ.ব.ম জাফর ইকবাল জাফু, বঙ্গবন্ধুর সাথে বাপ চাচাদের আন্দোলন সংগ্রামের খানদানি সূত্রধরেই স্কুল জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। এরই ধারাবাহিকতায় জাফু ৮৩ সালে জামালপুর জেলা ছাত্র লীগের যুগ্ম আহবায়ক, ৮৪ থেকে ৮৮ সালে পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক। ৮৮ থেকে ৯১ ছাত্রলীগের সভাপতি। ৯২ থেকে আওয়ামী লীগের মাঠকর্মী হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করেছেন দিবারাত্রী। ৯১ থেকে ৯৬ খালেদা নিজামি সরকারে কাছে জাফু একটি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও আতংকের নাম। এই সময়েই তিনি খালেদা নিজামির সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল জুলুম ও নির্যাতনে শিকার হন। যার বিরুদ্ধে এখনও একাধিক মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে। দীর্ঘদিনে আন্দোলন সংগ্রামের ফসল হিসেবে জাফু ২০০৪ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ লাভ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের সম্মেলনে জাফু জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনীতি তিনি টাকা পয়সা গাড়ি বাড়ি কামাতে পারেননি। কামিয়েছেন সৎ রাজনীতিক হিসেবে সুনাম ও আস্থা। সেকাল ও একালের রাজনীতিকদের কাছে জাফু একটি আদর্শের নাম, অনুকরণের নাম। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল ও লোভ লালসার কলঙ্কের কালি কখনও স্পর্শ করেনি তার গায়ে। অথচ তার যে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, সামাজিক অবস্থান ও ভৌগলিক প্রভাব তা অনেকের কাছে ঈর্ষানীয়। তদপুরি, তিনি অল্পে সন্তুষ্ট, সাঁদাসিঁদে টানাপুড়ান জীবন যাপন করেন। নিজের চরিত্রের প্রতি অবিচল আস্থা বিশ^াসে তিনি ২০১৯ সালে জামালপুর ৫আসনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাওয়ার সাহস দেখিয়ে ছিলেন। কতিপয় দুর্নীতিবাজ, লুটেরা রাজনীতিকরা যখন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি দেশের মানুষকে বিষিয়ে তুলেছেন, তখন জাফুর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা নিজেদের খানদানি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করেই খুশি।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please