কর্ণফুলীর পাড়ে কর্মযজ্ঞ, স্বপ্নের টানেলে বসছে টিউব

কর্ণফুলীর পাড়ে কর্মযজ্ঞ, স্বপ্নের টানেলে বসছে টিউব
সেবা ডেস্ক: চীন থেকে আনা টানেল তৈরির উপাদান 'সেগমেন্ট' রাখা হয়েছে একপাশে। তার পাশেই চলছে বোরিং মেশিন। টিউব স্থাপনের জন্য নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরাচ্ছে ওই বোরিং মেশিন। মাটি সরে যাওয়া স্থানে সেগমেন্ট জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে রিং। টানেল তৈরির এমন কর্মযজ্ঞ চলছে কর্ণফুলীর পাড়ে। তিন দশমিক ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ টানেলকে সংযুক্ত করবে দুটি টিউব। এর একটি দিয়ে শহরের গাড়ি যাবে নদীর ওপারে। আরেকটি দিয়ে নদীর ওপার থেকে আসা গাড়ি ঢুকবে শহরে। প্রতিটি টিউব চওড়ায় ৩৫ ফুট আর উচ্চতায় ১৬ ফুট। গুরুত্বপূর্ণ এ টিউব দৃশ্যমান হতে থাকায় ক্রমেই বাস্তব হতে যাচ্ছে টানেলের স্বপ্নও।

প্রকল্প-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এরই মধ্যে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালে এ টানেলের নির্মাণকাজ শেষ হবে। নদীর তলদেশে হওয়া এ টানেল দিয়ে বছরে আসা-যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে অন্তত ৬৩ লাখ গাড়ির।

কর্ণফুলী নদীর ওপারে থাকা আনোয়ারার সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরের সংযোগ স্থাপন করবে এ টানেল। এটির মাধ্যমে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগের নতুন একটি রুট তৈরি হবে। এটি ব্যবহার হবে সিল্ক্ক রুট হিসেবেও। বাংলাদেশকে মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত করে স্থলপথে চীন পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি সিল্ক্ক রুট হিসেবে পরিচিত। টানেল নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সিল্ক্ক রুটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, দেশের প্রথম এ টানেল যোগাযোগে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটির কারণে নদীর দুই পাড়ে দুটি নতুন শহর গড়ে উঠবে। অর্থনীতিতে তখন যোগ হবে নতুন সম্ভাবনা।

স্থানীয় বন্দর-পতেঙ্গা আসনের এমপি এমএ লতিফ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদর্শী বলেই কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল তৈরির স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি জানতেন এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা গেলে খুলে যাবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। তার দেখানো সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। একদিকে পদ্মা সেতু, আরেক দিকে টানেল- বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় করতে এ দুটি প্রকল্প কাজ করবে টনিক হিসেবে।'

টানেল নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে নদীর দুই পাড়েই। আনোয়ারায় সংযোগ সড়ক নির্মাণের তোড়জোড় চলছে। আর শহরের নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়েছে টিউব তৈরির কাজ। এ প্রান্তে সংযোগ সড়ক তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে। প্রকল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় কাজ চলছে দিনে-রাতে।

প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, 'এ টানেল দিয়ে প্রতি বছর কম করে হলেও ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে। চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগকে সহজ ও দ্রুত করতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এই টানেল। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ সাশ্রয় করবে এটি। চট্টগ্রাম শহরকে যানজটমুক্ত করতেও ভূমিকা রাখবে। টানেলটি পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টের মাঝখান দিয়ে কর্ণফুলী নদীর ওপারে গিয়ে উঠবে।'

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, 'দেশের প্রথম টানেল চট্টগ্রামে করে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশকে নতুনভাবে যুক্ত করবে এ টানেল। এ প্রকল্পের কাজ যাতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে সংশ্নিষ্টদের।'

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে এসে এই টানেলের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। তিনি এ টানেলের নামকরণ করেন 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল'। ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) এবং হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অভি অরূপ অ্যান্ড পার্টনারস হংকং লিমিটেড। চীন অর্থায়ন করছে চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছিল। তবে এখন পুরোদমে চলছে কাজ। স্বপ্নের এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please