প্রিয় নবী (সা.) এর বাণী

প্রিয় নবী (সা.) এর বাণী
সেবা ডেস্ক: আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা বিশ্বের রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন এবং পৃথিবীতে ইসলামের আহ্বান পৌঁছে দেয়া তাঁর দায়িত্ব ছিল।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ নবী। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল।’ (সহিহ বুখারী)।

দুনিয়াতে যারা আল্লাহর সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথে চলবে, পরকালে তারাই জান্নাতে যাবে। তারাই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।

আমরা তাঁর উম্মত বা অনুসারী দল। আমরা তাঁর দেখানো পথে চলি। সঠিক পথ পাবার জন্যে তিনি আমাদের কাছে দু’টি জিনিস রেখে গেছেন। একটি হলো আল্লাহর কুরআন। আর অপরটি হলো তাঁর সুন্নত বা সুন্নাহ।

নবীর (সা.) সুন্নাহ সম্পর্কে জানা যায় হাদিস থেকে। হাদিসের অনেকগুলো বড় বড় গ্রন্থ আছে। নবীর বাণীকে হাদিস বলে। নবীর কাজ কর্ম এবং চরিত্রের বর্ণনাকে ও হাদিস বলে।

নবীর সমর্থন এবং আদেশ নিষেধের বর্ণনাকেও হাদিস বলে। ইসলামের সত্য ও সঠিক পথকে জানাবার জন্যে আমাদেরকে আল্লাহর বাণী কোরআন মজিদকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে।

ঠিক তেমনি আমাদেরকে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হাদিস পড়তে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে।
তবেই মহান আল্লাহ খুশী হবেন আমাদের প্রতি। আমরা হতে পারবো সত্যিকার মুসলিম।

সে জন্যেই আমরা এখানে সংকলন করেছি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেকগুলো হাদিস।

এসো আমরা সবাই প্রিয় নবীর এই বাণীগুলো পড়ি এবং মেনে চলি-

১ম পর্বের পর থেকে...

সাহাবায়ে কেরাম:

(১৮৫ ) আমার উম্মতের উত্তম লোক হলো আমার সময়ের লোকেরা। (সহিহ বুখারী)।

(১৮৬) আমার সাহাবীদের সম্মান দান করো, কারণ তারা তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। (মিশকাত)।

(১৮৭) আমার সাহাবীদের গালি দিও না। (সহিহ বুখারী)।

আবু বকর (রা.):

(১৮৮) আমি যদি আমার প্রভুকে ছাড়া আর কাউকেও বন্ধু বানাতাম, তবে অবশ্য আবু বকরকে বন্ধু বানাতাম। (সহিহ বুখারী)।

(১৮৯) হে আবু বকর! (পর্বত) গুহায় তুমি আমার সাথী ছিলে, হাউজে কাউসারেও তুমি আমার সাথী থাকবে। (তিরমিযী)।

(১৯০ ) নিজের সাথীত্ব ও অর্থ দিয়ে আমাকে সকলের চেয়ে অধিক সহযোগিতা করেছে আবু বকর। (সহিহ বুখারী)।

(১৯১) হে আবু বকর! আমার উম্মতের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদ)।

ওমর (রা.):

(১৯২) আল্লাহ ওমরের যবান ও অন্তরে সত্য সন্নিবেশ করে দিয়েছেন। (তিরমিযী)।

(১৯৩) আমার পরে যদি কেউ নবী হতো, তবে অবশ্যই ওমর বিন খাত্তাব হতো। (তিরমিযী)।

শ্রেষ্ঠ নারী:

(১৯৪) পৃথিবীর সর্বোত্তম নারী ইমরানের কন্যা মরিয়ম আর খুয়াইলিদের কন্যা খাদীজা। (সহিহ বুখারী)।
নোট : মরিয়ম ছিলেন হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের মা, আর খাদীজা ছিলেন হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী।

দোয়ার নিয়ম ও গুরুত্ব:

(১৯৫) যখন কিছু প্রার্থনা করবে, আল্লাহর কাছে করবে। (মিশকাত)।

(১৯৬) দোয়া ইবাদত। (তিরমিযী)।

(১৯৭) দোয়া ইবাদতের মস্তিষ্ক। (তিরমিযী)।

(১৯৮) আল্লাহর কাছে তাঁর অনগ্রহ চাও। তাঁর কাছে প্রার্থনা করাকে আল্লাহ খুবই পছন্দ করেন। (তিরমিযী)।

( ১৯৯) যে আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন। (তিরমিযী)।

(২০০) আমি আল্লাহর কাছে দিন একশ’ বার ক্ষমা প্রার্থনা করি। (সহিহ মুসলিম)।

তাওবা:

(২০১) বান্দাহ যখন অপরাধ স্বীকার করে এবং তাওবা করে, তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। (সহিহ বুখারী)।

ব্যাখ্যা : তাওবা মানে ফিরে আসা। তাওবা করার অর্থ- অন্যায়, অপরাধ ও ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করে সে জন্যে অনুশোচনা করা ও তা থেকে, ফিরে আসা এবং এমন কাজ আর কখনো না করার সিদ্ধান্ত নেয়া।

(২০২) সব আদম সন্তানই ভুল করে। তবে এদের মধ্যে উত্তম হলো তারা যারা ভুলের জন্যে তাওবা করে। (তিরমিযী)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কতিপয় দোয়া:

(২০৩) হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই দুশ্চিন্তা থেকে, মনোকষ্ট থেকে, বার্ধক্য থেকে, আলস্য ও কাপুরুষতা থেকে এবং কৃপণতা ও ঋণের বোঝা থেকে। (সহিহ বুখারী)।

(২০৪) হে আল্লাহ! আমার অন্তরে আল্লাহভীতি দাও এবং তাকে পরিশুদ্ধ করো। তুমিই তো তার উত্তম পরিশুদ্ধকারী। (সহিহ মুসলিম)।

(২০৫) ওগো আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এমন জ্ঞান থেকে পানাহ চাই যাতে কোনো কল্যাণ নেই। আর এমন হৃদয় থেকেও আশ্রয় চাই যাতে তোমার ভয় নেই। (আহমদ)।

(২০৬) আয় আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই সংশয় থেকে, কপটতা থেকে আর অসৎ চরিত্র থেকে। (নাসায়ী)।

(২০৭) হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চাই হেদায়াত, আল্লাহভীতি, পবিত্র জীবন এবং প্রাচুর্য। (সহিহ মুসলিম)।

(২০৮) ওগো আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার প্রতি দয়া করো, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে স্বস্তি দান করো এবং আমাকে জীবিকা দাও। (সহিহ মুসলিম)।

(২০৯) হে আমার আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কল্যাণময় জ্ঞান, গ্রহণযোগ্য আমল আর পবিত্র জীবিকা চাই। (আহমদ)।

(২১০) ওগো আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি সুস্থতা, স্বস্তি, বিশ্বস্ততা, উত্তম চরিত্র আর তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টি। (বায়হাকী)।

(২১১) আমার আল্লাহ! আমি তোমার ভালবাসা চাই, আর যে তোমাকে ভালোবাসে তার ভালবাসা চাই। (তিরমিযী)।

জীবন পথের আলো:

(২১২) আবু যর (রা) বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ওগো আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দেন।

তিনি বললেন, আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহকে ভয় করবার। কারণ এটাই তোমার সমস্ত কাজকে সৌন্দর্য দান করবে।

আমি বললাম, আমাকে আরো উপদেশ দিন।

তিনি বললেন , কোরআন পাঠ এবং আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর বিষয়ে আলোচনাকে নিজের কর্তব্য কাজ বানিয়ে নাও। এতে আকাশে তোমায় নিয়ে আলোচনা হবে আর এটা পৃথিবীতে তোমার পথের আলো হবে।

আমি বললাম, আমাকে আরো উপদেশ দিন।

তিনি বললেন, বেশি সময় নীরব থাকবে, কম কথা বলবে। এটা শয়তানকে তাড়াবার হাতিয়ার হবে এবং তোমার দ্বীনের কাজের সহায়ক হবে।

আমি আরয করলাম, আমাকে আরো আদেশ দিন।

তিনি বললেন, তিক্ত হলেও সত্য কথা বলবে।

আমি নিবেদন করলাম, আমাকে আরো উপদেশ দিন।

তিনি বললেন, ইসলামী আন্দোলন ( জিহাদ ) করাকে নিজের কর্তব্য বানিয়ে নাও। কারণ এটাই মুসলমানদের বৈরাগ্য।

আমি বললাম, আমাকে আরো কিছু বলুন।

তিনি বললেন, দরিদ্র লোকদের ভালবাসবে এবং তাদের সঙ্গে উঠাবসা করবে।

আমি বললাম, আমাকে আরো উপদেশ দিন।

তিনি বললেন, তোমার নিজের মধ্যে যেসব দোষ ত্রুটি আছে, সেগুলোর দিকে তাকাও। অন্যের মধ্যে যে দোষ ত্রুটি আছে তা খুজে বেড়ানো এবং বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকো।

অত:পর তিনি আমার বুকে হাত মেরে বললেন, আবু যর! কর্মকৌশল ও কর্মপ্রচেষ্টার চাইতে বড় বুদ্ধিমত্তা আর নেই। হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার চেয়ে বড় বীরত্ব কিছু নেই। আর সুন্দর ব্যবহারের চাইতে বড় কোনো ভদ্রতা নেই। (ইবনে হিব্বান)।

সঠিক পথে চলো:
( ২১৩) আমার প্রভু আমাকে নয়টি নির্দেশ দিয়েছেন। সেগুলো হলো, গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করতে, সন্তুষ্টি এবং অসন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতে ন্যায় কথা বলতে, দারিদ্র ও প্রাচুর্য উভয় অবস্থাতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে, যে আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে, যে আমাকে বঞ্চিত করে, তাকে দান করতে, যে আমার প্রতি অবিচার করে, তাকে ক্ষমা করে দিতে, আমার নীরবতা যেনো চিন্তা গবেষণায় কাটে, আমার কথাবার্তা যেনো হয় উপদেশমূলক, আমার প্রতিটি দৃষ্টি যেনো হয় শিক্ষা গ্রহণকারী।

এ ছাড়াও আমার প্রভু আমাকে আরো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো হলো, আমি যেনো ভালো কাজের আদেশ করি এবংমন্দ কাজ থেকে নিষেধ করি। (সহিহ বুখারী)

 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please