শেরপুর হয়ে নালিতাবাড়ীতে নির্মাণ হবে রেললাইন

শেরপুর হয়ে নালিতাবাড়ীতে নির্মাণ হবে রেললাইন
সেবা ডেস্ক: বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর। ব্রিটিশ আমল থেকে এ অঞ্চলের মানুষ রেলগাড়ি চলার কুন্ডঝিকঝিক শব্দ শোনার জন্য কান পেতে আছে। বেশ কয়েকবার সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে আশ্বাস, শোনানো হয়েছে আশার বাণী। কিন্তু স্বপ্নের সেই রেলপথ নির্মাণ হয়নি, ট্রেনও চলেনি।

এবার সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে করে জামালপুরের পিয়ারপুর জংশন থেকে শেরপুর হয়ে নালিতাবাড়ী নাকুগাঁও স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হয়।

সূত্রগুলো জানায়, রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাবপত্রটি নিয়ে সোমবার রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌপরিবহন সচিব আবদুস সামাদ বলেন, শেরপুরের মানুষের অনেক দিনের প্রত্যাশা জেলায় রেল চলবে। সীমান্তবর্তী ওই জেলায় গজনী, মধুটিলাসহ রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র। নাকুগাঁওয়ে রয়েছে স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন সুবিধা, যেটি দিয়ে ভারতের পাশাপাশি ভুটান থেকে ট্রানজিটে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। ফলে শেরপুর সদর হয়ে নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবর্দীকে সংযুক্ত করে রেলপথ নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ছাড়াও উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের প্রায় ২০ লাখ মানুষ শেরপুর দিয়ে সহজে ঢাকায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাবেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, গত বছর মার্চে ভুটানের রাষ্ট্রদূত নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দর পরিদর্শন করে ট্রানজিট সুবিধায় পণ্য পরিবহনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ভুটান সীমান্ত থেকে স্থলবন্দরের দূরত্ব খুবই কম। এরই মধ্যে ওই স্থলবন্দরের সঙ্গে সরাসরি ঢাকার সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। এখন ট্রেনলাইন স্থাপিত হলে এই পথে পণ্য পরিবহন ভুটানের জন্য লাভজনক হবে বলে মনে করছে দেশটি।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে বুড়িমারী এবং বাংলাবান্ধা ও তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি চলছে পাশাপাশি নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের আগ্রহ  দেখিয়েছে দেশটি।

ঢাকা থেকে নাকুগাঁও-ডালু (ভারত)-মেঘালয়ের তুরা-ভুটানের গেলাপু হয়ে থিম্পু পর্যন্ত নতুন একটি রুট করতে চায় ভুটান। দেশটির পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ।

জানা গেছে, শেরপুর জেলার ওপর দিয়ে রেলপথ স্থাপন করার ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকার ১৯৩০-এর দশকে প্রথম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। ওই সময় উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রদেশের সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত সুবিধার জন্য জামালপুর রেলওয়ে জংশন থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দিয়ে শেরপুর হয়ে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর তৎকালীন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুনরায় জামালপুর-রাংটিয়া ভায়া শেরপুর রেলপথ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে।
 সর্বশেষ ২০১৪ সালে মহাজোট সরকারের সময় তখনকার রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জামালপুরের পিয়ারপুর স্টেশনে আন্তনগর তিস্তা  ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রাবিরতির উদ্বোধন শেষে এক জনসভায়  শেরপুরে রেলপথ স্থাপনের ঘোষণা দেন। ওই সময় শেরপুরের সন্তান রেলওয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা তোফাজ্জল হোসেন এ রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সার্ভে কার্যক্রম শেষ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শেরপুরের বাসিন্দা আসিফ শাহনেওয়াজ তুষার বলেন, আমাদের গারো পাহাড় আছে, মধুটিলা ইকোপার্ক আছে, গজনী অবকাশ আছে। আরও আছে নাকুগাঁও স্থলবন্দর, যা দিয়ে ভারতের মেঘালয়, আসাম রাজ্যসহ আরেক দেশ ভুটানের দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের মতো। রেলপথটি যদি শেরপুর সদর ছুঁয়ে নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও পর্যন্ত নেওয়া যায় তাহলে যেমন সারা দেশের পর্যটক বাড়বে, তেমনিভাবে ভারত ও ভুটান থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এমনকি তখন পর্যটকরা দার্জিলিং কিংবা শিলং যেতেও ঝামেলাবিহীনভাবে এ রুট ব্যবহার করবে। ভারতের কয়লা, ভুটানের পাথরের মতো ভারী পণ্য নামমাত্র খরচে পাঁচ ঘণ্টাতেই রাজধানীতে পৌঁছে যাবে।
 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

Comments Please