
রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রায় ৬০ বছর পর ৩ একর ২৬ শতাংশ পৈত্রিক জমি ফিরে পেলেন তিন ভাই। তারা হলেন উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের পিরহাটি গ্রামের প্রয়াত সুরেন্দ্র নাথ দাসের ছেলে অশোক কুমার দাস, শান্ত কুমার দাস ও পার্থ কুমার দাস। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা সরেজমিন পরিদর্শন করে তাদের জমি বুঝে দেন।
উপজেলা ভ‚মি অফিস সুত্রে জানা যায়, সত্তর দশকের দিকে উপজেলরা মথুরাপুর ইউনিয়নের পিরহাটি গ্রামের সুরেন্দ্র নাথ সাহার অলোয়া মৌজার ৩ একর ২৬ শতাংশ জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের মালিকানাভুক্ত হয়। পরবর্তিতে ওই জমি সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর ভুমিহীন সমবায় সমিতির নামে অস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। তখন থেকে সমিতির সদস্যরা ৩ একর ২৬ শতাংশ জমি ভোগ দখল করে আসছিল।
উক্ত ফসলি জমির মালিকানা দাবী করে প্রয়াত সুরেন্দ্র নাথের ছেলেরা আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘদিন দিন আদালতে মামলাটি বিচারাধীন ছিল। অবশেষে ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতের আদেশে ওই জমি অর্পিত ক তালিকা হতে অবমুক্ত হয়। একই সাথে প্রকৃত মালিকদের জমি বুঝে দেওয়ার জন্য আদেশ দেন আদালত।
এদিকে আদালতের আদেশে নারায়নপুর ভুমিহীন সমবায় সমিতির সদস্যদের ৭ ফেব্রæয়ারীর মধ্যে ওই জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ফসলি জমিতে সরকারি ভাবে লাল নিশান উড়ানো হয়। কিন্ত সমিতির সদস্যরা দখল না ছাড়ায় সোমবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জমির মালিক অশোক, শান্ত ও পার্থ দাসকে জমি বুঝে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জমির মালিক অশোক, শান্ত ও পার্থ কুমার দাস জানান, আদালতের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আদালত সব সময় সত্যের পথে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে পেয়ে আমরা খুশি।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, আদালতের আদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অশোক, শান্ত ও পার্থ দাসকে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝে দেওয়া হয়েছে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন
