ধুনটে অব্যবস্থাপনায় বন্ধের উপক্রম করোনা টেস্ট

ধুনটে অব্যবস্থাপনায় বন্ধের উপক্রম করোনা টেস্ট


রফিকুল আলম,ধুনট: দেশে যখন প্রতিদিনিই করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে তখন বগুড়ার ধুনট উপজেলায় করোনা পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনার কারণে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

কোন প্রকার আগাম ঘোষনা ছাড়াই শনিবার উপজেলা স্ব্যস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল থেকে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ শুরু করা হয়। এখানে সর্বশেষ ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৯৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রথম দিকে সপ্তাহের শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হতো। কিন্ত কোন কারণ ছাড়াই সপ্তাহে তিন দিন থেকে কমিয়ে শনিবার ও মঙ্গলবার নমুনা সংগ্রহ করতো। তবে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে অনেকেই করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ফিরে গেছে।

স্থানীয়দের মতে, এই ক্রান্তিকালে অব্যবস্থাপনার বিষয়টি ভীষণ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কেননা, এর কারণে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই বিলম্বিত হচ্ছে তা নয়, কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠেছেন কিনা তাও জানা যাচ্ছে না। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কমিয়ে দেওয়ায় অনেক সন্দেহভাজন রোগী উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করাতে পারছেন না। এতে করোনা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

করোনার নমুনা সংগ্রহকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনোলোজিষ্ট এনামুল হক জানান, এখান থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরপিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। এতে প্রায় এক হাজার টাকা করে দৈনিক পরিবহন খরচ হয়। উপজেলা পরিষদ থেকে এই ব্যয় বহন করা হতো। কিন্ত প্রায় ছয় মাস ধরে উপজেলা পরিষদ থেকে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।  

ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসানুল হাছিব বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনায় করোনার নমুনা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মুলত আর্থিক সংকটের কারণে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে অর্থ দেওয়ার কোন সরকারি নির্দেশনা নেই। তারপরও অর্থ দেওয়া হয়। কিন্ত কয়েক মাস ধরে উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা না হওয়ায় অর্থ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।    



শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

Dara Computer Laptops