সাংবাদিকতার অন্তরালে স্বার্থ সিদ্ধিই রোজিনার লক্ষ্য

সাংবাদিকতার অন্তরালে স্বার্থ সিদ্ধিই রোজিনার লক্ষ্য



সেবা ডেস্ক: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় নথি চুরি করা দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিয়ে বর্তমানে সারাদেশে চলছে যতো আলোচনা-সমালোচনা। 

সরকারের কোনো নন-ডিসক্লোজার চুক্তি নিয়ে কোনো সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা যায় না। সারাবিশ্বেই এ নিয়ম প্রযোজ্য। তিনি কেন গোপনীয় নথি চুরি করতে গেলেন? যেহেতু এই ধরণের চুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা যায় না, তাই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক তিনি কি দেশবিরোধী কোনো তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন?

রোজিনা দীর্ঘদিন যাবত সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত। অনেক প্রতিবেদন করেছেন কিন্তু কখনো কোনো ধরণের বাঁধার সম্মুখীন হন নি। কোনোরূপ বাধা ছাড়াই দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন যার অনেকগুলোই ছিল বানোয়াট। এবার তিনি কোনো দুর্নীতি ফাঁস করতে যেয়ে ধরা পড়েন নি। তাহলে কি উদ্দেশ্য ছিল তার?

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় টিকা নিশ্চিত করতে দেড় বছর ধরে সরকার যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা জেনেও এমন স্পর্শকাতর বিষয়ের গোপন নথি পেতে কেন তিনি আগ্রহী হলেন? 

যে নথি প্রকাশ হলে টিকা পাওয়া অনিশ্চিত হওয়া সহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি ছিল, তেমন একটি কাজে জড়িত হওয়ার উদ্দেশ্য কি মহৎ হতে পারে? রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির পর টেন্ডার বাগিয়ে নিতে ব্ল্যাকমেইলই কি মূল উদ্দেশ্য ছিলো?

রোজিনা তার সাংবাদিকতার যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন টেন্ডারের কাজ পাইয়ে দিতে অবৈধভাবে সহযোগিতা করেছন তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠুকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোজিনা ইসলামের স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু ১৯৯১ সালে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা অভি গ্রুপের ক্যাডার ছিলেন। ৪০ কোটি টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় দেখিয়ে ইউএসএতে বিজনেস ভিসা নিয়ে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনও করেছিলেন।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সাথে ছিলো তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। রোজিনা-টুকুর সম্পর্কের কথা অপর সাংবাদিক অরুণ কুমার কর্মকার জেনে গেলে ষড়যন্ত্র করে তাকে প্রথম আলো থেকে চাকরীচ্যুত করান রোজিনা। একই কারণে শ্যামল সরকার ও শিশির মোড়ল ইত্তেফাক থেকে চাকরি হারিয়েছেন।

শরীরকে পুঁজি করে সাংবাদিকতা করা রোজিনা ইসলাম এরপর সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন তৎকালীন বিএনপির গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আবদুল মান্নানের সঙ্গে। যার রেশ ধরে রোজিনা বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজনৈতিক মামলার ওকালতি করেন। যার মাধ্যমে পরবর্তীতে তিনি প্রিমিও গাড়ির মালিক হন।

শুধুমাত্র বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্র ও সংগঠনকে বাংলাদেশের দেয়া মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা/ক্রেস্টের স্বর্ণের ১২ আনাই মিছে বলে আখ্যায়িত করে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেন।

সাংবাদিকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গোপন নথি রোজিনা ইসলাম বিভিন্ন দেশের কাছে টাকার বিনিময়ে পাচার করে দিয়েছেন। যার কারণে ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেই ঢাকার খিলগাঁও ও ধানমন্ডি ১৫ তে দুটি ৭ তলা বাড়ি ও বনানীতে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে তার। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আবদুল মান্নানের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে রোজিনা নিজের এবং তার স্বামীর নামে রাজউকের কাছ থেকে পূর্বাঞ্চলে একটি ৫ কাঠার প্লট এবং অন্যান্য দুটি প্লট পেয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় নথি চুরি ছাড়াও এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়েও নথি চুরি করে ধরা পড়েছিলেন রোজিনা। তখনো মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের নামে রোজিনা মূলত টেন্ডার সিন্ডিকেটের পক্ষে কাজ করতে‌ নথি চুরি করে কর্মকর্তাদের ব্লেকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন।


সাংবাদিকতা নয়, স্বামীর টেন্ডারবাজিতে সহযোগিতা করতেই নথি চুরি করেছিলো রোজিনা:
সরকারি নথি চুরির অভিযোগে আটক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিয়ে প্রথম আলোর সাংবাদিক সাবিহা আলম ও তার বাবার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। সাবিহা বলেন, “রোজিনার চুরির অভ্যাস আর গেল না!”
এর আগে রোজিনার দুটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে যেখানে তাকে কোনো ধরণের নির্যাতন না করার প্রমাণ পাওয়া যায়। অপর একটি ভিডিওতে তিনি চুরির কথা স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন।

সাংবাদিক সাবিহা আলমের কথোপকথনে রোজিনাকে নিয়ে টেন্ডার সিন্ডিকেটের পক্ষে কাজ করার যে অভিযোগ ছিল, তা আবারও প্রমাণ হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব দায়িত্ব পাওয়ার আগে রোজিনার স্বামীর তিনটি টেন্ডার পাওয়ার তথ্য জানা যায় সাবিহা আলমের কথোপকথনে।

ফোনালাপটিতে সাবিহা তার বাবাকে জানান, রোজিনা নিজেই একজন দুর্নীতিবাজ। বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে কাজ নিয়েছেন তিনি ও তার স্বামী। উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যেমন- স্বাস্থ্যের আগের এক সচিব থাকার সময় রোজিনা আর তার স্বামী ৩টা কাজ পেয়েছিলো।

এছাড়া আরও জানা গেছে চুরির অভ্যাস রোজিনার অনেক আগে থেকেই আছে। একইসাথে প্রচন্ড মিথ্যা বলার অভ্যাস রয়েছে রোজিনার। পাশাপাশি তিনি বেশ অকৃতজ্ঞও। যে সাংবাদিকরা আজ তার মুক্তির জন্য রাস্তায় আন্দোলন করছে, কাল বেরিয়ে এলে সেটা ভুলে যাবে রোজিনা। উল্টো বলবে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ লোকজনের সাথে তার সম্পর্কের কারণে তিনি ছাড়া পেয়েছেন।

সাবিহা আলম তার বাবাকে আরও বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভুল করেছে। ফাইল চুরি করার সময় রোজিনাকে না ধরে তাকে ছেড়ে দিলেও তাকে সাজাটা পেতে হতো। কারণ এখন তো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া দুর্নীতির প্রতিবেদন করার জন্য তারা রোজিনাকে ফাঁদে ফেলেছে এটাই প্রমাণ হবে।

সাবিহার বাবা প্রশ্ন করেন, মতি ভাই (প্রথম আলোর সম্পাদক) কী করছে? সাবিহা জবাব দেন, মতি ভাই তার সব হ্যান্ডসকে কাজে লাগিয়েছেন। তবে পুলিশ চায়নি মামলা করতে। পুলিশ এতটা বাড়াবাড়ি করতে চায়নি। সাবিহা আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনা রোজিনার সাংবাদিকতার ক্যারিয়ারের মুকুটে একটি উজ্জ্বল পালক হিসেবে যুক্ত হলো। যদিও এই মুকুট অপর সাংবাদিকদের বিপদে ফেলে দিয়েছে।

কারণ, এতে করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা তাদের ব্যাগে নানাবিধ ডিভাইস বা তথ্য সংগ্রহের উপকরণ বয়ে বেড়াতে পারবেন না, রাষ্ট্রের সুরক্ষিত কোনো এলাকায় প্রবেশ করতে গেলে আগের মত ছাড় পাবেন না সাংবাদিকরা।

সাবিহা আরও উল্লেখ করেন, আগের সচিব মান্নান এবং অপর এক সচিব থাকা অবস্থায় রোজিনা ও তার স্বামী দুজনই ৩টা বড় কাজ পেয়েছেন। যদিও এখন রোজিনার ঢাল হিসেবে ব্যবহার হবে ওর আগের অনুসন্ধানী রিপোর্টগুলো। সবাই ভাববে ওর ওই রিপোর্টগুলোর কারণেই তাকে এমন অবস্থায় পড়তে হয়েছে। কালকের ওই ঘটনা সত্যিকার অর্থে ওকে ফাঁদ পেতে ধরা হয়েছে।

রোজিনার সহকর্মী বলেন, ও তো প্রচন্ড মিথ্যা কথা বলে, তাই ঘটনা আসলে কী ঘটেছে, সেটা হয়ত জানা অসম্ভব। তাছাড়া যে সাংবাদিকরা ওর জন্য এত আন্দোলন করছে, সবই ভুলে যাবে সে।গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীমের (জিকে শামীম) ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর জ্যোষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর মাধ্যমে বিশাল টেন্ডার হাতিয়ে নিয়ে মনিরুল ইসলাম মিঠু তার ব্যাবসায়িক অংশীদার গোলাম কিবরিয়া শামীমের (জিকে শামীম) মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে বিপুল পরিমান অর্থের মালিক হয়েছেন। এদিকে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যোষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিয়ে তারই সহকর্মী প্রথম আলোর আরেক সাংবাদিক সাবিহা আলম ও তার বাবার মধ্যকার একটি ফোনআলাপে।

যে ফোনালাপটিতে সাবিহা তার বাবাকে জানান, রোজিনা নিজেই একজন দুর্নীতিবাজ। বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে কাজ নিয়েছেন তিনি ও তার স্বামী। উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যেমন- স্বাস্থ্যের আগের এক সচিব থাকার সময় রোজিনা আর তার স্বামী ৩টা কাজ পেয়েছিলো।


উল্লেখ্য, পেশায় সাংবাদিক হলেও রোজিনার টাকা পয়সার অভাব ছিলো না। মাত্র ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেও তার ঢাকার খিলগাঁও ও ধানমন্ডি ১৫ তে দুটি ৭ তলা বাড়ি ও বনানীতে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে তার। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আবদুল মান্নানের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে রোজিনা নিজের এবং তার স্বামীর নামে রাজউকের কাছ থেকে পূর্বাঞ্চলে একটি ৫ কাঠার প্লট এবং অন্যান্য দুটি প্লট পেয়েছিলেন।







শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।