করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের গাইবান্ধা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের গাইবান্ধা


আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার বর্তমান ভৌগলিক অবস্থান. অক্ষাংশ ২৫.২৫০ উত্তর. দ্রাঘিমাংশ ৮৯.৫০০ পূর্ব. উপজেলার সংখ্যা ৭ টি ,পৌরসভা রয়েছে ৪ টি ,৮১ টি ইউনিয়ন, ১১০৬টি মৌজা এবং ১২৪৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। 

মোট জনসংখ্যার. পুরুষ - ১২,৩০,৯৩৮ জন ও  মহিলা -১১,৯৯,৬৮৯ জন. মোট = ২৪,৩০,৬২৭ জন, জেলার গড় শিক্ষার হার. : ৫৪%. ৫।

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে গাইবান্ধা জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭ শত ১৮ জন ৫ মে ২০২১ ইং তারিখে নতুন করে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে ৩ জন। 

এ পর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছেন ১ হাজার ৬ শত ২২ জন এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ২০ জন । 

জেলায় মোট আইসোলেসনে রয়েছেন ৭৬ জন। জরুরী রোগী পরিবহনে প্রস্তুত রয়েছে ২ টি ও ২ টি মাইক্রোবাস । ১০০ বেডের একটি আইসোলেসন কেন্দ্রে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে ৫ মে জেলা প্রশাসনের পক্ষে করোনা আপডেট অনুযায়ী জানা যায়।

আক্রান্তের হার বেশী হলেও মৃত্যুর হার কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে এ বিষয়ে জনসচেতনতা নাই বললেই চলে। জেলা জুড়ে ছোট বড় হাট বাজার গুলো গুড়ে দেখা যায়,করোনা কালে দ্বিতীয় ঢেউ চলার পর চলমান লকডাউন অব্যহত থাকলেও মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য বিধি মানার প্রবনতা খুব কম। দোকানীরা নিজের মুখে মাস্ক নেই ব্যবহার করছেন না রাত অবদি স্বাভাবিক ভাবে দোকানিরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ সেও একই অবস্থায় হাট বাজারে এসেছেন। কেউ বা আবার মাস্ক পকেটে রেখে চলাচল করছেন। মার্কেট গুলো খোলা থাকলেও স্বাস্থ্য বিধি বজায়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা রাখেনি তারা।অপরদিকে লকডাউনে দোকান ও মার্কেট গুলো বন্ধ করে দিলে লকডাউনে আন্দোলন করে দোকান মালিক ও কর্মচারিরা। এমতঅবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন পড়েছেন বিপাকে করোনা কালে তারাই বা আর কত কাজ করে তারাও তো আমাদের মতো মানুষ তাদেরও ক্লান্তি হয় তাদের পরিবার আছে তারাও তো আমাদের মতো মানুষ তারাও আক্রান্ত হতে পারে এমনকি জীবন হারাতে পারে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে। সাধারণ মানুষের মতো তারা আজ করোনা বিপদের সম্মখিন।আমাদের সেবা দেওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারিরা,আইন শৃংখলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। সরকারি হাসপাতাল গুলোর চিকিৎসক ও নার্সসহ কর্মকর্তা কর্মচারিরা।আমাদের এ বিপদের সময় সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণ তাদের সেই জীবন বাজি রেখে চালিয়ে যাওয়া দায়িত্ববোধ কে মূল্যায়ণ করছি না। দোহাই দিয়ে চলছি আল্লাহ্ আমাদের করোনা দিবে না। বিপদ কখন আসবে আর কে কখন আক্রান্ত হবে তা বলা মুশকিল ।বর্তমান সময় ভালো থাকলেও আগামী সময় ভালো থাকবে তার কি নিশ্চয়তা আছে তাই দোহাই দিয়ে না চলে নিজে বাচতে ও পরিবার কে নিরাপদ রাখতে সকলের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

স্ব স্ব উপজেলার প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ হতে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে ব্যাপক ভাবে প্রচার প্রচারণা এবং স্বাস্থ্য বিধি বজায় রাখতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার পরে মানুষের মাঝে কোন প্রকার ভিতি বা জনসচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে না। মানুষ জেনে শুনেও স্বাস্থ্য বিধি ভঙ্গ করছে। নানা প্রকার দোহাই দিয়ে চলছে। এমন কি লকডাউন কালে অসহায় মানুষ গুলো সহায়তা বিতরণকালে স্বাস্থ্য বিধির কোন প্রকার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

জেলা জুড়ে লকডাউন চলমান রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধি বাস্তবায়নে ও মানুষ কে মেনে চলার জন্য বাধ্য করতে আরো জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী বলে মনে করেন স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকগণ ও সচেতন মহল। বর্তমান সময়ে জেলার অবস্থা সম্পর্কে জানাতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের এই ছবিটি তুলে ধরা হলো।
  



শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।