বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অর্থই হচ্ছে বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অর্থই হচ্ছে বাংলাদেশ



সেবা ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এই নাম দুটি সমার্থক। একে অপরের সাথে জড়িত। এ দেশের ফুল, ফল, মানুষ, পানি, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, নদীনালা, খাল বিল সব কিছুই তিনি ভালোবেসেছেন। সুতরাং জাতির পিতা, জাতির জনককে কেউ কখনই ভুলতে পারেন না। 

বিশ্বে এই ধরনের মহান নেতার জম্ম সবসময় হয় না।  ইতিহাসের আলোকে এই কীর্তিমান পুরুষের আবির্ভাব হয়। যিনি একটি দেশ, একটি জাতি, একটি মানচিত্র এবং বহুকাঙ্ক্ষিত একটি পবিত্র সংবিধান উপহার দিয়েছেন, তিনিই আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অনন্তকাল ধরে ইতিহাসের এই বরপুত্রের মূল্যায়ন করবে সমগ্র জাতি। 

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে কোন ট্রাজেডির নির্মোহ ইতিহাস রচিত হয় ঘটনা ঘটার ১০০ বছর পর। কিন্তু বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে ইতিহাসের নিজেরই একশ’ বছর অপেক্ষার তর সয়নি। 

তাইতো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে ট্রাজেডি ঘটার এক সিকি বছরের মধ্যে বাঙালি জাতি সত্য ঘটনা জেনে এই কলঙ্ক মোছার জন্য উঠে-পড়ে লেগে যায়। 

আমাদের দুর্ভাগ্য- নেলসন ম্যান্ডেলা, ইয়াসির আরাফাত, ফিদেল ক্যাস্ট্রোসহ সমগ্র বিশ্বের বাঘা বাঘা নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে যতটুকু জেনেছেন ও বুঝেছেন তার দশ ভাগও এই দেশের তথাকথিত নেতৃবৃন্দরা বুঝেছেন কিংবা জেনেছেন কিনা সন্দেহ!  ইতিহাসে বিশ্বের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি ও মহান নেতা যার ভাষণই দেশের সংবিধান এবং আদেশই রাষ্ট্রীয় আইন হিসেবে বিবেচিত ও পালিত হয়েছিল। 

শুধু কি তাই! একটা জাতিকে শত্রুমুক্ত করে একবার এবং নিজ দেশ থেকে মিত্রবাহিনীকে স্বল্প সময়ের মধ্যে ফেরত পাঠিয়ে আরেকবার অর্থাত্ দু’বার একটি দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্ত ও স্বাধীন করার কৃতিত্ব একমাত্র তাঁরই। তাইতো তাঁকে আখ্যায়িত করা হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে। 

সন্মান ও ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। যারা এমনটা করে তারা অবশ্যই ধ্বংস হয়, যেমন রাজাকার ও পাকিস্তানীরা ধ্বংস হল। হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ও ধর্ম বিলুপ্ত হয়নি, মীর জাফর আর সিরাজ-উদ -দৌলারা এক না। বিশ্বাসঘাতক আর দেশপ্রেমিক এক না। কাপুরুষরা সর্বদা বিশ্বাসঘাতকতা করে। দেশপ্রেমিক বিজয় আনে অথবা শহীদ হয়। অতএব, বঙ্গবন্ধুকে ভোলা যাবে না। যারা মনে একদিন বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে যাবে, তারা এখনও ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসাবে মানুষের অন্তরে চির বিরাজমান এক সত্তা। বাঙালি  নির্দিষ্ট  কোন কালের সীমারেখায় এই মহান নেতার কর্মপরিধি মূল্যায়ন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু,  বাঙালির  প্রতিটি  কাজে মিশে আছেন, থাকবেন অনন্তকাল ধরে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যেহেতু একটি জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা সেহেতু তিনি নিজেও ইতিহাসের নির্মাতা। ইতিহাস তাকে যেমন নির্মাণ করেছে তেমনি তিনিও দীর্ঘ সংগ্রাম ও অনেক ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের ঠিকানা দিয়েছেন। তার নেতৃত্ব এবং প্রজ্ঞা দ্বারা তিনি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি নিপীড়িত নির্যাতিত ও বঞ্চিত বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা। তিনি ইতিহাস পুরুষ। শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি। হাজার বছরেও তার এই কীর্তি ম্লান হওয়ার নয়। ঘাতকদের বুলেট তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সত্য কিন্তু ইতিহাস তার মৃত্যু নেই। তিনি মৃত্যুঞ্জয়।

জীবিত মুজিবের চেয়ে শহীদ মুজিব অনেক বেশি জনপ্রিয়। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সম্পর্কে অনেক জ্ঞান রাখে এবং আশার কথা হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মও বঙ্গবন্ধু মুজিবের জীবনের সঠিক ইতিহাস জানার জন্য ব্যাকুল। বঙ্গবন্ধু মুজিবের কোনো মৃত্যু নেই। তিনি চিরজীবী হয়ে থাকবেন প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে। যতই দিন যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু মুজিব ততই জনপ্রিয় হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। যতদিন এই পৃথিবী থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববাসী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

বঙ্গবন্ধু অর্থই হচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু অর্থই হলো বাঙালির মুক্তি। তাই পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত বাঙালির হূদয়ে বঙ্গবন্ধু থাকবে। তিনি আছেন এবং থাকবেন।


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।