আজ শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালির ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী

আজ শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালির ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী



সেবা ডেস্ক:  আজ ১৫ আগস্ট, আজ বাঙালি জাতির শোক দিবস৷ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক ও স্বাধীন বাংলাদেশের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৪৬ তম শাহাদত বার্ষিকী৷ ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের বিপথগামী একদল সেনা সদস্যদের হাতে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞে স্বপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান৷ জাতির জনকের শাহাদাত বার্ষিকীতে পুরো জাতি আজ ব্যথিত৷

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এই নাম দুটি সমার্থক। একে অপরের সাথে জড়িত। এ দেশের ফুল, ফল, মানুষ, পানি, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, নদীনালা, খাল বিল সব কিছুই তিনি ভালোবেসেছেন। সুতরাং জাতির পিতা, জাতির জনককে কেউ কখনই ভুলতে পারেন না। 

“১৯৭৫ এর খুনিরা আজ পরাজিত। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ।” - পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম

বিশ্বে এই ধরনের মহান নেতার জম্ম সবসময় হয় না।  ইতিহাসের আলোকে এই কীর্তিমান পুরুষের আবির্ভাব হয়। যিনি একটি দেশ, একটি জাতি, একটি মানচিত্র এবং বহুকাঙ্ক্ষিত একটি পবিত্র সংবিধান উপহার দিয়েছেন, তিনিই আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অনন্তকাল ধরে ইতিহাসের এই বরপুত্রের মূল্যায়ন করবে সমগ্র জাতি। 

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে কোন ট্রাজেডির নির্মোহ ইতিহাস রচিত হয় ঘটনা ঘটার ১০০ বছর পর। কিন্তু বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে ইতিহাসের নিজেরই একশ’ বছর অপেক্ষার তর সয়নি। 

“ইতিহাসের দায় মোচনে অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারী, সুবিধাভোগী ও এই জঘন্য কাজে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্তদের স্বরূপ উন্মোচন প্রয়োজন।” - মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম
তাইতো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে ট্রাজেডি ঘটার এক সিকি বছরের মধ্যে বাঙালি জাতি সত্য ঘটনা জেনে এই কলঙ্ক মোছার জন্য উঠে-পড়ে লেগে যায়। 

আমাদের দুর্ভাগ্য- নেলসন ম্যান্ডেলা, ইয়াসির আরাফাত, ফিদেল ক্যাস্ট্রোসহ সমগ্র বিশ্বের বাঘা বাঘা নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুকে যতটুকু জেনেছেন ও বুঝেছেন তার দশ ভাগও এই দেশের তথাকথিত নেতৃবৃন্দরা বুঝেছেন কিংবা জেনেছেন কিনা সন্দেহ!  ইতিহাসে বিশ্বের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি ও মহান নেতা যার ভাষণই দেশের সংবিধান এবং আদেশই রাষ্ট্রীয় আইন হিসেবে বিবেচিত ও পালিত হয়েছিল। 

“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি নন, এক মহান আদর্শের নাম। যে আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছিল গোটা দেশ। বঙ্গবন্ধু বাংলার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে একটি অবিনাশী চেতনা। এ চেতনা কখনো, কোনোদিনও মুছে ফেলা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর আগে অনেক নেতাই দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত মুক্তির পথ দেখাতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে আশাহত করেননি। তিনি ধীরে ধীরে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে। তার নেতৃত্বেই আমাদের স্বাধীনতা এসেছে।” -  পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম

শুধু কি তাই! একটা জাতিকে শত্রুমুক্ত করে একবার এবং নিজ দেশ থেকে মিত্রবাহিনীকে স্বল্প সময়ের মধ্যে ফেরত পাঠিয়ে আরেকবার অর্থাত্ দু’বার একটি দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্ত ও স্বাধীন করার কৃতিত্ব একমাত্র তাঁরই। তাইতো তাঁকে আখ্যায়িত করা হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে। 

সন্মান ও ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। যারা এমনটা করে তারা অবশ্যই ধ্বংস হয়, যেমন রাজাকার ও পাকিস্তানীরা ধ্বংস হল। হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ও ধর্ম বিলুপ্ত হয়নি, মীর জাফর আর সিরাজ-উদ -দৌলারা এক না। বিশ্বাসঘাতক আর দেশপ্রেমিক এক না। কাপুরুষরা সর্বদা বিশ্বাসঘাতকতা করে। দেশপ্রেমিক বিজয় আনে অথবা শহীদ হয়। অতএব, বঙ্গবন্ধুকে ভোলা যাবে না। যারা মনে একদিন বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে যাবে, তারা এখনও ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসাবে মানুষের অন্তরে চির বিরাজমান এক সত্তা। বাঙালি  নির্দিষ্ট  কোন কালের সীমারেখায় এই মহান নেতার কর্মপরিধি মূল্যায়ন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু,  বাঙালির  প্রতিটি  কাজে মিশে আছেন, থাকবেন অনন্তকাল ধরে।

“মৃত্যুশয্যায় বঙ্গবন্ধুর তর্জনী যে নতুন সূর্যোদয়ের ইশারা দিয়ে গিয়েছিল কাল থেকে কালান্তরে এসে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের স্টিমারে করে সম্মুখ পানে সওয়ার করে চলেছেন।” - জাহাঙ্গীর কবির নানক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যেহেতু একটি জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা সেহেতু তিনি নিজেও ইতিহাসের নির্মাতা। ইতিহাস তাকে যেমন নির্মাণ করেছে তেমনি তিনিও দীর্ঘ সংগ্রাম ও অনেক ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের ঠিকানা দিয়েছেন। তার নেতৃত্ব এবং প্রজ্ঞা দ্বারা তিনি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি নিপীড়িত নির্যাতিত ও বঞ্চিত বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা। তিনি ইতিহাস পুরুষ। শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি। হাজার বছরেও তার এই কীর্তি ম্লান হওয়ার নয়। ঘাতকদের বুলেট তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সত্য কিন্তু ইতিহাস তার মৃত্যু নেই। তিনি মৃত্যুঞ্জয়।

“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধুমাত্র বাঙালি জাতির নেতা নন, তিনি সারা বিশ্বের একজন অবিসংবাদিত মহান নেতা। তিনি স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ নির্মাণে বিভোর থাকতেন, তবে দুর্ভাগ্যক্রমে সেই কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন করছেন তারই কন্যা শেখ হাসিনা।” - এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম

জীবিত মুজিবের চেয়ে শহীদ মুজিব অনেক বেশি জনপ্রিয়। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সম্পর্কে অনেক জ্ঞান রাখে এবং আশার কথা হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মও বঙ্গবন্ধু মুজিবের জীবনের সঠিক ইতিহাস জানার জন্য ব্যাকুল। বঙ্গবন্ধু মুজিবের কোনো মৃত্যু নেই। তিনি চিরজীবী হয়ে থাকবেন প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে। যতই দিন যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু মুজিব ততই জনপ্রিয় হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। যতদিন এই পৃথিবী থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববাসী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার বদলা নিতে হলে তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন প্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে পারলেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে।”- জাহাঙ্গীর কবির নানক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থই হচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু অর্থই হলো বাঙালির মুক্তি। তাই পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত বাঙালির হূদয়ে বঙ্গবন্ধু থাকবে। তিনি আছেন এবং থাকবেন।

যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ (১৫ আগস্ট) পালিত হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। 

এ দিন উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ও বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ। 

এ সময় সর্বসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে।



শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0 comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।