ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে বৃহৎ জালিয়াতি- দুইজনের বারো সংযোগ আবারও আবেদন

ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে বৃহৎ জালিয়াতি- দুইজনের বারো সংযোগ আবারও আবেদন



কাজিপুর প্রতিনিধি: মাসুদ রানা ও আলতাফ হোসেন। দুজনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নে। উত্তর পাইকপাড়া গ্রামের মাসুদ পেশায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় গ্রাম বিদ্যুৎবিদ। 

আর আলতাফ হোসেন সাবেক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারি এলাকা পরিচালক। দুজনেই বিদ্যুৎ নির্ভর প্রকল্পের সাথে জড়িত। এই দুইজনে এরইমধ্যে নিজ উপজেলাসহ পাশের উপজেলা থেকেও নিয়েছেন একাধিক সেচ সংযোগ।  

নিজেরা নেবার পাশাপাশি অন্যদের সংযোগ পাইয়ে দেবার দালালিও করে চলেছেন নির্বিবাদে। উপজেলা সেচ অফিসকে ম্যানেজ করে তারা এসব অপকর্ম করে চলেছে। 

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের নামে তার নিজ উপজেলা কাজিপুরে রয়েছে বিএডিসির দুইটি গভীর নলকূপ(এসকে-৩৯ ও এসকে-১৪০)। ২০১৯ সালে তিনি নিজ নামে নিয়েছেন আরও একটি অগভীর নলকূপ। 

নিজ গ্রামের পাশ্ববর্তী পারুলকান্দি গ্রামে নিয়েছেন তিনটি STW সংযোগ। এবারও তিনি নিজ নামে আবেদন করেছেন আরও তিনটি সংযোগের জন্যে। 

এছাড়া এবছর কৃষ্ণগোবিন্দপুর রফিকুল ইসলাম নামের একজনের সংযোগে পাইয়ে দেবার তদবিরও করছেন তিনি।

 পাশ্ববর্তী উপজেলা বগুড়ার ধুনটে তিনি নিয়েছেন আরও ছয়টি গভীর ও অগভীর নলকূপের সংযোগ। 

এগুলো হলো চৌতারপাড়ায় একটি গভীর নলকূপ D.H.6F-65-P9 মিটার নম্বর-১৭৪৯৭৪১, পার নাটাবাড়ি গ্রামে একটি STW সংযোগ, নাটাবাড়ি গ্রামে একটি নভীর নলকূপ, তারাকান্দি গ্রামে একটি STW সংযোগ এবং চান্দারপাড়া গ্রামে একটি STW সংযোগ নিজ নামে না নিয়ে শাহীন নামের একজনের নামে নিয়ে নিজেই চালাচ্ছেন। জানা গেছে প্রত্যেকটি সংযোগ নেবার জন্যে তিনি এক থেকে দুই শতক করে জায়গা নিজ নামে ক্রয় করে আবেদন করেছেন।এসব সেচ এলাকায় শর্তানাযায়ী তার নিজের কোন জমি নেই। 

 একইভাবে উপজেলার উত্তরপাইকপাড়া গ্রামের মাসুদ রানাও নিজ নামে নিয়েছেন একাধিক সংযোগ। দক্ষিণ পাইকপাড়া গ্রামের ব্রিজের পাশে একটি সংযোগ নিয়েছেন মিটার নম্বর-500114560, একই গ্রামের হঠাৎপাড়ায় নিয়েছেন আরেকটি সংযোগ মিটার নম্বর-511162272, ছোট চর এলাকায় নিয়েছেন আরও একটি সংযোগ মিটার নম্বর-14786577, একই এলাকার খালেরপাড়ে নিয়েছেন আরও একটি সংযোগ যার মিটার নম্বর-14844820, পাঁচগাছি ভোলা মেম্বরের বাড়ির পাশেও তিনি একটি সংযোগ নিয়েছেন যার মিটার নম্বর-500166689 এবং খেকশিয়ালিপাড়ায় দুই খালের মাঝের চরে নিয়েছেন আরও একটি সংযোগ যার মিটার নম্বর-500168761। 

এই সেচ সংযোগটি তিনি বর্তমানে হানিফ নামের একজনের নিকট ভাড়া দিয়েছেন।  

সংযোগগুলো নিতে তিনি নির্দিষ্ট দূরত্ব মানার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তিনিট সংযোগ নিয়েছেন একেবারে কাছাকাছি(মিটার নম্বর-14844820, 14786577 ও 1104091081677)

এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন জানান, বগুড়ার ধুনট উপজেলাতে আমার নামে বেশ কয়েকটি মিটার রয়েছে। সেখানে গভীর এবং অগভীর নলকূপ রয়েছে। কাজিপুর উপজেলাতেও রয়েছে আমার নামে কয়েকটি গভীর ও অগভীর নলকূপ। আমি আরো নেব। আরো মিটারের জন্য আবেদন করব। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারেই আমি নিয়েছি। বিএডিসি প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করেন সব জানতে পারবেন। 

মাসুদ রানা জানান, আমি ২০১৩ সাল থেকে সংযোগের জন্য আবেদন করি। এরপর বর্তমান ইউএনও স্যারই পৃথক দুটি মিটিংয়ে সংযোগের পাশ দেন। আর নির্ধারিত দূরত্বের বিষয়ে তিনি জানান, তখন ওই নিয়ম ছিল না। বিভিন্ন অফিসকে ম্যানেজ করেই আমি লাইন নিয়েছি। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এর সিরাজগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মাজুদ আলম জানান, সেচ প্রকল্পের সভাপতি ইউএনও। তিনি নিয়মনীতির প্রজ্ঞাপন জানেন। এবিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। তিনি যেটা বলবেন সেটাই ফাইনাল। 

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, উপজেলা সেচ কমিটির সবাইকে নিয়ে একটি মিটিং ডেকে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।