আজকের দিনে বাতিল হয়েছিল ঘৃণ্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ

আজকের দিনে বাতিল হয়েছিল ঘৃণ্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ



সেবা ডেস্ক: আজ ১২ নভেম্বর। ১৯৯৬ সালের এই দিনে সপ্তম জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাতিল করেন মানবতা ও সভ্যতা বিরোধী কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ আবার খুলে যায়।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী আইন হল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। ইনডেমনিটি হল কোন বিচার কার্যকে বাধাদান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। কোন অভিযোগ বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভুত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে। এটি হল মানবতা বিরোধী এক ধরনের কালো আইন।

বাঙালি জাতির মুক্তির দূত, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে একদল উচ্চা ভিলাসী ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে সপরিবারে নিহত হন। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির আসনে অধিষ্টিত হল সেনাবাহিনী সমর্থিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ।

বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যাতে কোনদিন বিচার না হয় সেই উদ্দেশ্যে সেনা সমর্থিত অবৈধ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। এটি ছিল ১৯৭৫ সালের ৫০নং অধ্যাদেশ। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবৈধ ও কালো অধ্যাদেশ। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের দায় থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। পৃথিবীর ইতিহাসের বর্বরতম আইনগুলো অন্যতম একটি আইন হল এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। ইহা হল পৃথিবীর সভ্যতা ও মানবতার ইতিহাসে একটি ভয়ঙ্কর কালো আইন। শুধু ভয়ঙ্কর বললেই শেষ হবে না, এটি একটি পৃথিবীর অন্যতম নিষ্ঠুর আইনও বটে।

ওই অধ্যাদেশটিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বলবৎ আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটে থাকুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রীমকার্টসহ কোন আদালতে বা ট্রাইব্যুনালে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোন আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ আইন হিসেবে অনুমোদন করেন। তারপর কেটে যায় বহু বছর।

এদিকে, বাবার হত্যাকারীদের বিচার তরান্বিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শেখ হাসিনা। বিচার চেয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি, কোনো লাভ হয়নি। তবে নিরাশ হননি। অবশেষে সেই সুযোগ এলো। বাতিল করা হলো ইনডেমনিটি আইন। অতঃপর হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে আর কোনো বাধা থাকলো না।

দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। ওই বছর ২৩ জুন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপরই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া আইনী বাধা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

জানা যায়, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল, সপ্তম সংসদে উত্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর আইনটি সংসদে পাস হয়। ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এটি পরিপূর্ণভাবে আইনে পরিণত হয়। ফলে মোশতাকের জারি করা এবং জিয়ার সময় বৈধতা পাওয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হয়।

মানবতা ও সভ্যতাবিরোধী এই অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে ঘোচানো হয় ২১ বছরের কলঙ্ক। খুলে যায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ। আইনী প্রক্রিয়া শুরু হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে লিভ-টু-আপীল-এর মাধ্যমে এর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আপীল শেষে বারো জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন মহামান্য আদালত। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি খুনী পাঁচজনের ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।



শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

,

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।