বাঁশখালীতে বোরো আবাদে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক

বাঁশখালীতে বোরো আবাদে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক
বাঁশখালী উপজেলার নাপোড়ার প‚র্ব চালিয়া পাড়া এলাকায় চাষিরা বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত



শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে বোরো চাষের মহোৎসব। ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষক কৃষাণীরা। কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন। কেউবা আবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত রয়েছেন। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকলে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিস স‚ত্রে জানা যায়, এবারের বোরো মৌসুমে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ হাজার হেক্টরের কিছু বেশি জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।বীজতলার হিসাব এবং মাঠ হিসাব অনুযায়ী ১১হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এবার ১০ হাজার ৩০০ জন কৃষক কে বোরো ধানের উফসী ও হাইব্রিড বীজ দেওয়া হয়েছে। উফসী বীজের সাথে সারও দেওয়া হয়েছে বোরোচাষীদের মাঝে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ি সংলগ্ন ভিটায় ধানের চারা তুলছেন কৃষাণী ও পরিবারের শিশু-কিশোররা। পুরুষরা ঝুড়ি কাঁধে করে ধানের চারা নিয়ে যাচ্ছেন মাঠে। কেউ চাষ দেয়া জমির ঘাস পরিষ্কার করছেন। ঘাস পরিষ্কার শেষে সারিতে লাগানো হচ্ছে ধানের চারা। হালকা হিমেল বাতাসে দুলছে সদ্য লাগানো ধানের চারা। প্রতিবছরের ন্যায় এবার উপজেলার পুঁইছড়ি, চাম্বল, শীলক‚প, বৈলছড়ী, কালীপুর, সাধনপুর, পুকুরিয়া, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, কাথারিয়া, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, সরল ও জলদী এলাকায় বোরো চাষাবাদ শুরু করেছে কৃষকরা। কোন কোন ইউনিয়নে দো-ফসলি জমির ওপর বোরো চাষাবাদ হয়েছে। আবার লবণসহিষ্ণু এলাকায়ও ব্যাপক হারে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। চাম্বল, জলদী, বৈলছড়ী, সাধনপুর, পুঁইছড়ি, নাপোড়া, কালীপুর ও শীলক‚পের আশপাশের ছড়ার পানি দিয়ে ব্যাপকভাবে এলাকায় কৃষকরা বোরো চাষাবাদ শুরু করেছে। সরকারিভাবে কৃষি অফিস থেকে বিদ্যুৎচালিত মিটার ও ডিজেল ব্যবহার করে গভীর ও অগভীর নলক‚পের পানি ব্যবহার এবং প্রধান সড়কের প‚র্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে বিদ্যুৎচালিত সেচ যন্ত্র ব্যবহারকারীদের কৃষি জমিতে পানি সেচের ম‚ল্য তালিকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। 

এদিকে কৃষি অফিসের দেয়া পানির ম‚ল্য তালিকা উপেক্ষা করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ছড়ার পানির জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নিয়ম উপক্ষো করে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত নলক‚পের মালিকরা কৃষকদের কাছ থেকে জোরপ‚র্বক অধিক টাকা আদায় করে নিচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় নলক‚পের মালিকরা কৃষকদের জমি নিয়ে নিজেরাই জমি চাষাবাদ করছে অভিযোগও রয়েছে।

বামের ছড়া ও ডানের ছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদিন রিপন বলেন- শিলক‚প-জলদী-চাম্বল এলাকায় ইকোপার্কের বামের ছড়া ও ডানের ছড়ার পানির উপর অধিকাংশ কৃষক নির্ভশীল। সরকারিভাবে নির্ধারিত কানি প্রতি পানির ম‚ল্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, সাধারণ কৃষক ছড়ার পানি বিক্রির ব্যাপারে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ম‚ল্য আদায় করার অভিযোগের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- বিভিন্ন এলাকায় সমিতির উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বাঁধ নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে এবং নির্ধারিত চাষযোগ্য জমির উপর ভিত্তি করে কানিপ্রতি কোনো কোনো এলাকা থেকে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এতে অনিয়মের কিছুই নেই। এর পরেও অনিয়মের কোন অভিযোগ আসলে তা আমরা সমিতির মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা নিব।

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু সালেক জানান, উপজেলার কৃষকরা এখন বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঠে। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে ধান চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হতে পারবো বলে আশা করছি। এবার ধানে লাভ পেলে আগামীতে আরো বেশি জমিতে ধান চাষ করার আগ্রহ পাবে কৃষকরা। এবার চলতি বোরো মৌসুমে ১০ হাজার ৩০০ জন কৃষক কে বোরো ধানের উফসী ও হাইব্রিড বীজ দেওয়া হয়েছে। উফসী বীজের সাথে সারও দেওয়া হয়েছে বোরো চাষীদের মাঝে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের সার্বক্ষণিক তদারকি ও পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।


 


শেয়ার করুন

-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।