নন্দীগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন আরও ৫০ গৃহহীন

নন্দীগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন আরও ৫০ গৃহহীন



 : মুজিববর্ষে বগুড়ার নন্দীগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ‘ক’ শ্রেণির ভূমি ও গৃহহীনরা মার্চ মাসের শেষে নতুন ঘর পাবেন। 


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ আওতায় তৃতীয় পর্যায়ে এ উপজেলায় ১ কোটি ২৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সুর্যোগ সহনীয় ৫০টি নতুন ঘর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। 


প্রতিটি সেমিপাকা ঘরে থাকছে ২টি রুম, একটি বারান্দা, একটি কিচেন, একটি ওয়াশরুম। চারদিকে ইটের দেয়াল, ওপরে ওশান-বøু রঙের টিনের ছাদ দেওয়া হচ্ছে। যাদের জমি নেই, ঘরও নেই, তারাই ঘরগুলো পাবেন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইটের দেয়াল ও বারান্দার পিলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বারান্দাসহ ঘরগুলোতে পলেস্তারা ও ছাদে টিন লাগানোর কাজ চলছে। উপজেলার ভাগবজর চালা এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নির্মাণাধীন ঘর গত সোমবার বিকেলে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক। 


এসময় সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিফা নুসরাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু তাহের, উপজেলা প্রকৌশলী শা-রিদ শাহনেওয়াজ, ভাটরা ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারী, নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম দয়া। 


জানা গেছে, মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো প্রথম পর্যায়ে সরকারের খাস জমিতে ১৫৯টি ঘর ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮০টি ঘর পেয়েছেন। ২০২১-২২ অর্থবছরে এবার তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৫০টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫শত টাকা। 


উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের ভাগবজর চালা ৬টি ঘর, হাটধুমা গোয়ালগাড়ী ৬টি ঘর ও ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাট খরনা পুকুরপাড়ে ৩৮টি ঘর নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয়ধাপেও চলতি মার্চ মাসে শুরু হয়েছে ৭৮টি নতুন ঘর নির্মাণকাজ। জুন মাসে ঘরগুলো পাবেন ভূমিহীন-গৃহহীনরা। 


গত সোমবার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নামুইট বড়পুকুর পাড়ে ৩০টি ঘর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান, প্যানেল মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিরুল ইসলাম সহ কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বুড়ইল ইউনিয়নের সিংজানী ময়না-খাঁ ও আইলপুনিয়া এলাকায় ২৫টি ঘর, ভাটরা ইউনিয়নের দামগাড়া মির্জাপুর সুখ-দু:খ পুকুরপাড়ে ৮টি ঘরসহ সরকারি খাস জমিতে আরও ১৫টি ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। 


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু তাহের বলেন, প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ দেশে কেউ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না, প্রত্যেকের ঠিকানা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৫০টি ঘর নির্মাণকাজ ৭৫% শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের শেষে ঘরগুলো পাবেন ভূমিহীন-গৃহহীনরা। 


উপজেলা প্রকৌশলী শা-রিদ শাহনেওয়াজ জানান, তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয়ধাপেও ৭৮টি নতুন ঘর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। ভূমিহীন-গৃহহীনরা জুন মাসে ঘরগুলো পাবেন। 


শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।