নন্দীগ্রামে গণধর্ষণ: কৃষকলীগ সভাপতি সুমন বহিস্কার, হযরতকে ফাঁসানোর অভিযোগ!

নন্দীগ্রামে গণধর্ষণ কৃষকলীগ সভাপতি সুমন বহিস্কার, হযরতকে ফাঁসানোর অভিযোগ!
বাম থেকে: কৃষকলীগের বহিস্কৃত সভাপতি সুমন ও সিএনজি ব্যবসায়ী হযরত



 : বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক যুবতীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত পৌর কৃষকলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সুমনকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। 

সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড করায় গত শনিবার রাতে জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আলমগীর বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক মঞ্জুর নির্দেশে তাকে বহিস্কার করা হয়। উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদ রায়হান মানিক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

অন্যদিকে গণধর্ষণের মামলায় নন্দীগ্রাম পৌর সদরের কলেজপাড়ার আমির আলীর ছেলে সিএনজি ব্যবসায়ী হযরত আলীকে (৩৬) পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। গতকাল রোববার হযরত আলীর স্ত্রী আছিয়া আকতার বেলজিয়াম দাবি করে বলেন, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে অসামাজিক কার্যকলাপের সময় এক নারী ও এক পুরুষকে স্থানীয় জনতা আটক করে। ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কলেজপাড়ার হযরত আলী। এ ঘটনা স্থানীয়রা সবাই জানে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্ধ শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে নারীসহ রিধইল গ্রামের কথিত সাধু কবিরাজ শাহাদত হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সারারাত ওই নারী এবং পুরুষকে থানায় রাখার পর পুলিশ সকালে কলেজপাড়ার হয়রত আলীকে থানায় ডেকে নিয়ে কয়েকঘন্টা বসিয়ে রাখে। দুপুর পর বলা হয়, ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। হযরত আলীর স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে আরো অনেক মানুষ ছিল। তার স্বামী ঘটনাস্থলে গিয়েই ফেঁসে গেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, অসামাজিক কার্যকলাপের সময় এক নারী ও এক পুরুষকে এলাকার লোকজন আটক করেছে খবর পেয়ে অনেকের মতো হযরতও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। গণধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে কেউ কিছুই জানতেন না। 

তবে পুলিশ জানিয়েছে, শেরপুর উপজেলার রামনগর গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা এক সন্তানের জননী যুবতীকে (২১) প্রেমের ফাঁদে ফেলে নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে সাধু কবিরাজ শাহাদত হোসেন বিয়ের প্রলোভনে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিয়ে আসেন। রাতে ওই যুবতীকে নন্দীগ্রাম সদরের কলেজপাড়া এলাকার শেষ সীমানায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাগানে নিয়ে যুবতীকে গণধর্ষণ করা হয়। ওই যুবতী বাদী হয়ে গত শনিবার থানায় মামলা দায়ের করলে কথিত সাধু কবিরাজ শাহাদত হোসেনকে (৪২) গ্রেফতার দেখানো হয়। এছাড়া সহযোগিতার অভিযোগে পৌর কৃষকলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সুমন ও হযরত আলীকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। তবে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত দুই ধর্ষকসহ তিনজনকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 

নন্দীগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) মো. আশরাফুল আলম বলেন, থানায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে হযরত আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক তিন আসামীকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা চলছে। 



শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।