প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমি ও ঘর পাওয়ায় নাজমুলের ঘরে সোনিয়া

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমি ও ঘর পাওয়ায় নাজমুলের ঘরে সোনিয়া



 : সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ভানুডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্পে এখনো বিরাজ করছে বিয়ের আমেজ। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমিসহ ঘর পাওয়ায় যাযাবর জীবনের অবসান হয়েছে পিতামাতাহারা নাজমুলের। এক সপ্তাহ পূর্বে নাজমুলকে বিয়ে করেছেন একই গ্রামের সোনিয়া খাতুন। আশ্রয়ণের অন্যান্য বাসিন্দাসহ স্থানীয় গ্রামবাসী বেশ ধুমধাম করে নাজমুল সোনিয়ার বিয়ে দেন। 


  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় পর্যায়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় মোট ৫০ টি ঘরের বরাদ্দ আসে। এরমধ্যে চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভানুডাঙ্গা গ্রামেই ৪৬ টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সুবিধাভোগীদের তালিকায় প্রথমেই নাম আসে অন্যের বাড়িতে জন্ম নেয়া নাজমুলের। তার পিতাও ছিলেন ভূমিহীন। জন্মের পর থেকে গ্রামের নানা জনের বাড়িতে থেকে তাদের কাজ করে দিয়ে জুটতো খাবার। এদিকে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় ২৩ বছর বয়সী নাজমুলকে কোন মেয়েই বিয়ে করেনি।  অবশেষে আশ্রয়নে জমিসহ ঘর পাবার পরেই নাজমুলের ঘরে আসে সোনিয়া। 

 মঙ্গলবার দুপুরে কাজিপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  ঘর প্রদান অনুষ্ঠানটির সম্প্রচারের ব্যবস্থা করে কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন নাজমুল সোনিয়াসহ অন্য সুবিধাভোগীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  ঘরসহ জমি প্রদানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণার পরেই কাজিপুর উপজেলা প্রশাসন সুবিধাভোগী ৫০ জনের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন। এরই এক ফাঁকে ঘর  জমি ও স্ত্রীকে পেয়ে আনন্দিত নাজমুল জানান, “আংগোরে কেউই আগে খোঁজ নেই নাই। প্ররধানমন্ত্রী আমাক ঘর আর জমি দিছে। এর জন্যে ও ( নিজের বউকে দেখিয়ে) আমাক বিয়া হইরছে। আমি এহন খুব খুশি।”

চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মুকুল জানান,‘ নাজমুল একজন হতদরিদ্র ভবঘরে যুবক। ঘর পাওয়ায় তাকে বিয়ে করে সোনিয়া নামের একজন মেয়ে। আমরা তাদের খোঁজ খবর রাখছি।’

 কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার একেএম শাহা আলম মোল্লা জানান, “সুবিধাভোগীর তালিকা করতে গিয়ে নাজমুলের বিষয়ে জানতে পারি। এও শুনি যে চালচুলো না থাকায় ও (নাজমুলকে) কেউ বিয়েও করেনি। আমরা জমিসহ ওকে ঘর দেই। শুনলাম এর পরেই নাজমুল বিয়ে করেছে।” 

 কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, “ আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারা দেশে আশ্রয়নহীনদের ঠিকানার চাবি তুলে দিয়েছেন। কাজিপুরের ৫০ টি পরিবার এই সুবিধা পেয়েছেন।  ৪১৫ বর্গফুট আয়তনের প্রতিটি ঘরে রয়েছে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি শৌচাগার। ” 


শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।