মেলান্দহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত-১৫

 : জামালপুরের মেলান্দহে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লীগের দুই গ্রুপের সংঘষে কমপক্ষে ১৫/২০ জন আহত হয়েছে। 

মেলান্দহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত-১৫



 আহতদের ছাত্র লীগের যুগ্ম আহবায়ক শাকিল ভূইয়া এবং ফকির এহছানুল ইরফান জামালপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মির্জা আজম আবাসিক হলে।


জানা গেছে, ৩১ জুলাই কাওসার আহমেদ স্বাধীনকে আহবায়ক এবং তাইফুল ইসলাম পলাশকে যুগ্ম আহবায়ক করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগ। এই কমিটিতে আহবায়ক এবং যুগ্ম আহবায়কসহ বেশ ক’জনকে জামাত-বিএনপির লোকদের অন্তর্ভূক্তির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ছাত্র লীগের কমিটিতে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এই কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করে বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র লীগ কমিটির একাংশ। এতে কয়েক সপ্তাহ যাবৎ বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টান টান উত্তেজনা চলছিল। 


কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আহত ফকির এহছানুল ইরফানসহ অন্যান্যরা জানান-ঘটনার রাতে বিশ^বিদ্যালয় মাঠে বসে গল্প করতে ছিলাম। এ সময় ছাত্র লীগের আহবায়ক কাওসার আহমেদ স্বাধীন এবং ১নং যুগ্ম আহবায়ক তাইফুল ইসলাম পলাশের পক্ষের লোক ওমর ফারুক, গোলাম জিলানী এবং নিশাত মির্জা আজম আবাসিক হলের ছাত্র-যুগ্ম আহবায়ক শাকিল ভূইয়া এবং আহসান হাবিব আকাশকে জন্ম দিনের কেক কাটার কথা বলে ডেকে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মারধর করে। এতে শাকিল ভূইয়া অজ্ঞান হয়ে পড়ে। বিদ্রোহীদের হল থেকে বের করে দেয়। খবরটি জানাজানি হলে হলের অপরাপর শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা এগিয়ে এসে আহত শাকিল ভূইয়াকে প্রথমে  মেলান্দহ পরে জামালপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। ওদিকে আহত শাকিলের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্দ ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের লোকজন পাল্টা আক্রমন করে এবং হল দখলের চেষ্টায় ব্যার্থ হয়। এতে ভোর ৪টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিশ^বিদ্যালয়ের কিছু আসবাপত্রসহ মির্জা আজম আবাসিক হলের জানালার গøাস ভাংচুর করে। বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাড়িতে আহতদের জামালপুর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইতোমধ্যেই মির্জা আজম হলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলে কিছু ছাত্র সকাল ১০টা পর্যন্ত হলে আটকা থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার পর মির্জা আজম আবাসিক হলের তালা খুলে দেয়া হয়।


অপরদিকে বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র লীগের আহবায়ক কাওসার আহমেদ স্বাধীন এবং ১নং যুগ্ম আহবায়ক তাইফুল ইসলাম পলাশ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন- আবাসিক হলের আমাদের পক্ষের প্রথম বর্ষের সিএসই বিভাগের ছাত্র আহাদ হোসেন আকাশকে ধরে নিয়ে রেগিংয়ের নামে নির্যাতন করে এবং মাদক সেবনে বাধ্য করে। এ নিয়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। আমাদের ১০/১২ জনকে মারধর শেষে হলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিদ্রোহীরা।

অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন জানান-রাতেই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বড়ির সহায়তায় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

মির্জা আজম আবাসিক হলের প্রভোস্ট ড. সাদিকুর রহমান ইমন মাদক সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন-বিবদমান ছাত্র লীগের দু’গ্রæপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. সুশান্ত কুমার ভট্রচার্যকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত টিমকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।



শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।