বড়হর নান্দনিক সড়ক সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় দুইপারের স্বপ্ন পুরন

 : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ফুলজোর নদীর উপর নবনির্মিত বড়হর সড়ক সেতুটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সেতুটি নির্মানে উল্লাপাড়া ও পার্শ্ববর্তী কামারখন্দ উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বপ্ন পূরণ হলো।

বড়হর নান্দনিক সড়ক সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় দুইপারের স্বপ্ন পুরন



 উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নে বড়হর হাটের পাশে ২’শ ৯৪ মিটার লম্বা এবং ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রশস্ত এই সেতুটি নির্মানে ব্যয় হয়েছে ৪০ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকারের প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স সেতুটির নির্মান কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের ২১ আগষ্ট এই সড়ক সেতুর নির্মান কাজ উদ্বোধন করা হয়।


স্থানীয় পেচরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফজলুল হক মন্ডল জানান, একসময়ে বড়হর খেয়াপার ছিল তাদের সবচেয়ে দুভোর্গের স্থান। ঝর বৃষ্টির সময় দুইপাশে কোন যাত্রী ছাউনি না থাকায় তাদেরকে ভিজে দীর্ঘ সময় খেয়া নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন এই সেতু নির্মাণ হওয়ায় তাদের সেই কষ্ট দুর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ফজলুল।


বড়হর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পেচরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাজমা আক্তার জানায়, আমাদের জ্ঞান- বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে বড়হর-কামারখন্দ সড়ক হয়ে এখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়ে আসতে ফুলজোড় নদী পারাপারে খুবই কষ্ট করতে হতো। এখন নান্দনিক এই নতুন সেতু হওয়ায় আমরা শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দিত।


বড়হর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হাসান নান্নু জানান, উল্লাপাড়া ও কামারখন্দ উপজেলার অন্ততঃ ২০ গ্রামের মানুষ বড়হর খেয়াঘাটে নৌকায় ফুলজোর নদী পারাপার হয়ে উভয় উপজেলা সদরে প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন। বিশেষতঃ বর্ষা বৃষ্টির দিনে এই নদী পারাপারে পথচারীদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হত। বড়হর-কামারখন্দ সড়কে সরাসরি কোন যানবাহনও চলাচল করতে পারেনি সেতুর অভাবে। মানুষকে বড়হর ঘাটে এসে নৌকায় নদী পার হবার পর বিপরীত পাড় হতে আবার যানবাহন সংগ্রহ করে কামারখন্দ উপজেলায় যাতায়াত করে আসছিল। এতে প্রচুর ভোগান্তি পোহাতে হতো এলাকাবাসীকে। আর এসব কারণে বড়হর খেয়াঘাটে একটি পাকা সেতু নির্মানের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই জনপদের মানুষের।


চেয়ারম্যান আরও জানান, অবশেষে বড়হর সেতু নির্মানের মধ্যে দিয়ে পুরণ হলো দুই উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। নতুন সেতুটি খুবই নান্দনিক। সেতুর উপরে স্থাপিত হয়েছে প্রয়োজনীয় সোলার ল্যাম্প পোস্ট। রাতে আলো জ্বললে খুবই আকর্ষণীয় দেখতে হয় নয়া এই সেতুটি। এটি উদ্বোধনের আগেই প্রতিদিন এ অঞ্চলের মানুষ স্বপরিবারে সেতুটি এক নজর দেখতে আসেন। বস্তুতঃ সেতুটি এখন এলাকার একটি দর্শনীয় স্থানে পরিনত হয়েছে। সেতুটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলে উল্লিখিত দুটি উপজেলার মানুষের পাল্টে যাবে জীবনচিত্র। এছাড়াও এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড়হর সেতু বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে চেয়ারম্যান নান্নু।


এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উল্লাপাড়া কার্যালয় এর প্রধান উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আবু সায়েদ জানান, ৪০ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ফুলজোর নদীর উপর নির্মিত বড়হর সড়ক সেতুটি নির্মানে এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর কাজ শেষ হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই সেতুটি সর্বসাধারনের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলছেন। সেতুটি খুলে দেওয়ার পর উল্লাপাড়া ও কামারখন্দ উপজেলাবাসীর চলাচলে বহুদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে উল্লেখ করেন এই প্রকৌশলী।


শেয়ার করুন

সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

0comments

মন্তব্য করুন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।